আফামাইঁ ইয়াত্তাকী বিওয়াজহিহী ছূআল ‘আযা-ব ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়া কীলা লিজ্জা-লিমীনা যূকূমা-কুনতুম তাকছিবূন।উচ্চারণ
তুমি সে ব্যক্তির দুর্দশা কি করে উপলব্ধি করবে যে কিয়ামতের দিন আল্লাহর আযাবের কঠোর আঘাত তার মুখমণ্ডলের ওপর নেবে? ৪৪ এসব জালেমদের বলে দেয়া হবেঃ এখন সেসব উপার্জনের ফল ভোগ করো যা তোমরা উপার্জন করেছিলে। ৪৫ তাফহীমুল কুরআন
(সেই ব্যক্তির অবস্থা কতই না মন্দ হবে) যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার চেহারা দ্বারা নিকৃষ্ট শাস্তি ঠেকাতে চাবে? #%১৩%# জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তার স্বাদ গ্রহণ কর।মুফতী তাকী উসমানী
যে ব্যক্তি কিয়ামাত দিবসে তার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাবে সে কি তার মত যে নিরাপদ? যালিমদের বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তার শাস্তি আস্বাদন কর।মুজিবুর রহমান
যে ব্যক্তি কেয়ামতের দিন তার মুখ দ্বারা অশুভ আযাব ঠেকাবে এবং এরূপ জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা করতে তার স্বাদ আস্বাদন কর,-সে কি তার সমান, যে এরূপ নয়?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল দিয়ে কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাইবে, সে কি তার মত যে নিরাপদ ? জালিমদেরকে বলা হবে, ‘তোমরা যা অর্জন করতে তার শাস্তি আস্বাদন কর।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন আযাব ঠেকাতে চাইবে (সে কি তার মত যে শাস্তি থেকে নিরাপদ?) আর যালিমদেরকে বলা হবে, ‘তোমরা যা অর্জন করতে, তার স্বাদ আস্বাদন কর।আল-বায়ান
ক্বিয়ামতের দিন যে ব্যক্তি তার (হাত পা বাঁধা থাকার কারণে) মুখমণ্ডলের সাহায্যে ভয়ানক ‘আযাবের আঘাত ঠেকাতে চাইবে (সে কি তার মত যে এসব থেকে নিরাপদ)? যালিমদেরকে বলা হবে- তোমরা যা অর্জন করেছ তার স্বাদ গ্রহণ কর।তাইসিরুল
যে তার মুখ দিয়ে ঠেকাতে চাইবে কিয়ামতের দিনের কঠোর শাস্তি সে কি --? আর অন্যায়কারীদের বলা হবে -- "তোমরা যা অর্জন করেছিলে তা আস্বাদন করো।"মাওলানা জহুরুল হক
৪৪
মানুষ মুখমণ্ডলের ওপর কোন আঘাত তখনই করে যখন সে পুরোপুরি অক্ষম ও নিরূপায় হয়ে পড়ে। অন্যথায় যতক্ষণ পর্যন্ত তার মধ্যে প্রতিরোধের সামান্যতম শক্তিও থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে শরীরের প্রত্যেকটি অংশে আঘাত সহ্য করতে থাকে কিন্তু মুখের ওপর আঘাত লাগতে দেয় না। তাই এখানে ঐ ব্যক্তির চরম অসহায়ত্বের চিত্র অংকন করা হয়েছে এই বলে যে, সে নিজের মুখের ওপর চরম আঘাত সহ্য করবে।
৪৫
মূল আয়াতে كسب শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআন মজীদে পরিভাষায় كسب শব্দের অর্থ হচ্ছে ব্যক্তি তার কর্মের ফলশ্রুতি হিসেবে শাস্তি ও পুরস্কার লাভের যে উপযুক্ততা অর্জন করে তাই। সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের আসল উপার্জন হচ্ছে এই যে, সে তার কাজের ফলশ্রুতিতে আল্লাহর কাছে পুরস্কারের যোগ্য হয়ে যায়। আর গোমরাহী ও বিপথগামীতা অবলম্বনকারী ব্যক্তিদের প্রকৃত উপার্জন হচ্ছে, সে শাস্তি যা সে আখেরাতে লাভ করবে।
এটা জাহান্নামের এক ভয়াবহ অবস্থার চিত্রাঙ্কণ। সাধারণ মানুষ কোন কষ্টদায়ক জিনিসকে নিজের দিকে আসতে দেখলে তা নিজের হাত বা পা দ্বারা ঠেকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু জাহান্নামে তা সম্ভব হবে না, যেহেতু তখন হাত-পা থাকবে বাঁধা। তাই মানুষ আযাব থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য চেহারাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। কিন্তু বলাবাহুল্য, এ চেষ্টা তার কোন কাজে আসবে না। কেননা কষ্ট তো চেহারাতেই বেশি অনুভূত হয়।
২৪. যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমণ্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাইবে, (সে কি তার মত যে নিরাপদ?) আর যালিমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তা আস্বাদন কর।(১)
(১) যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, “যে ব্যক্তি ঝুঁকে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে-ই কি ঠিক পথে চলে, না কি সে ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?” (সূরা আল-মুলক: ২২) আরও এসেছে, “যেদিন তাদেরকে উপুড় করে টেনে নিয়ে যাওয়া হবে জাহান্নামের দিকে; সেদিন বলা হবে, জাহান্নামের যন্ত্রণা আস্বাদন কর।” (সূরা আল-কামার: ৪৮) আরও এসেছে, “যে অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে সে কি শ্রেষ্ঠ, না যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে উপস্থিত হবে সে? তোমরা যা ইচ্ছে আমল কর।” (সূরা ফুস্সিলাত: ৪০)
(২৪) যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার মুখমন্ডল দ্বারা কঠিন শাস্তি ঠেকাতে চাইবে (সে কি তার মত, যে নিরাপদ?)(1) সীমালংঘনকারীদের বলা হবে, তোমরা যে কর্ম করতে, তার শাস্তি আস্বাদন কর।
(1) অর্থাৎ, এ ধরনের মানুষ কি ঐ সকল মানুষের সমান হবে, যারা কিয়ামতের দিন নির্ভয় ও নিরাপদ থাকবে?