ওয়া ইযা-মাছছালইনছা-না দুররুন দা‘আ-রব্বাহূ মুনীবানইলাইহি ছুম্মা ইযাখাওওয়ালাহূনি‘মাতাম্মিনহু নাছিয়া মা-ক-না ইয়াদ‘ঊইলাইহি মিন কাবলুওয়া জা‘আলা লিল্লা-হি আনদাদালিলইউদিল্লা ‘আন ছাবীলিহী কুল তামাত্তা‘ বিকুফরিকা কালীলান ইন্নাকা মিন আসহা-বিন্না-র।উচ্চারণ
মানুষের ওপর যখন কোন বিপদ আসে ২৩ তখন সে তার রবের দিকে ফিরে যায় এবং তাঁকে ডাকে। ২৪ কিন্তু যখন তার রব তাকে নিয়ামত দান করেন তখন সে ইতিপূর্বে যে বিপদে পড়ে তাঁকে ডাকছিলো ২৫ তা ভুলে যায় এবং অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ মনে করতে থাকে ২৬ যাতে তারা আল্লাহর পথ থেকে তাকে গোমরাহ করে। ২৭ (হে নবী! ) তাকে বলো, তোমার কুফরী দ্বারা অল্প কিছুদিন মজা করে নাও। নিশ্চিতভাবেই তুমি দোজখে যাবে। তাফহীমুল কুরআন
মানুষকে যখন কোন কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে নিজ প্রতিপালককে তাঁরই অভিমুখী হয়ে ডাকে। অতঃপর তিনি মানুষকে যখন নিজের পক্ষ থেকে কোন নি‘আমত দান করেন, তখন সে তা (অর্থাৎ সেই কষ্টের কথা) ভুলে যায়, যে জন্য সে ইতঃপূর্বে আল্লাহকে ডাকছিল। আর তখন সে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করে, যার ফলে সে অন্যকেও আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে। বল, কিছুদিন নিজ কুফরের মজা ভোগ করে নাও। নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।মুফতী তাকী উসমানী
মানুষকে যখন দুঃখ দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে অনুতপ্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তার রাব্বকে ডাকে। কিন্তু পরে যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে বিস্মৃত হয়ে যায় পূর্বে যাকে সে ডেকেছিল তাঁকে এবং সে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায়, অপরকে তাঁর পথ হতে বিভ্রান্ত করার জন্য। বলঃ কুফরীর জীবন অবস্থায় তুমি কিছু কাল উপভোগ করে নাও। বস্তুতঃ তুমিতো জাহান্নামেরই অধিবাসী।মুজিবুর রহমান
যখন মানুষকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার পালনকর্তাকে ডাকে, অতঃপর তিনি যখন তাকে নেয়ামত দান করেন, তখন সে কষ্টের কথা বিস্মৃত হয়ে যায়, যার জন্যে পূর্বে ডেকেছিল এবং আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করে; যাতে করে অপরকে আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করে। বলুন, তুমি তোমার কুফর সহকারে কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভূক্ত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে একনিষ্ঠভাবে তার প্রতিপালককে ডাকে। পরে যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে বিস্মৃত হয়ে যায়, তার পূর্বে যার জন্যে সে ডেকেছিল তাঁকে এবং সে আল্লাহ্ র সমকক্ষ দাঁড় করায়, অপরকে তাঁর পথ হতে বিভ্রান্ত করার জন্যে। বল, ‘কুফরীর জীবন অবস্থায় তুমি কিছুকাল উপভোগ করে নাও। বস্তুত তুমি জাহান্নামীদের অন্যতম।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন মানুষকে স্পর্শ করে দুঃখ-দুর্দশা, তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে, তারপর তিনি যখন তাকে নিজের পক্ষ থেকে নিআমত দান করেন তখন সে ভুলে যায় ইতঃপূর্বে কি কারণে তাঁর কাছে দোয়া করেছিল, আর আল্লাহর সমকক্ষ নির্ধারণ করে, তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য। বল, ‘তোমার কুফরী উপভোগ কর ক্ষণকাল; নিশ্চয় তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।’আল-বায়ান
দুঃখ-মুসিবত যখন মানুষকে স্পর্শ করে তখন সে তার প্রতিপালককে ডাকতে থাকে তাঁর প্রতি বড়ই একনিষ্ঠ হয়ে। অতঃপর তিনি যখন নিজ পক্ষ থেকে অনুগ্রহ দিয়ে তাকে ধন্য করেন, তখন পূর্বে সে যেজন্য তাঁকে ডেকেছিল তা ভুলে যায় এবং অন্যদেরকে আল্লাহর সমকক্ষ দাঁড় করায় তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করার জন্য। বলে দাও, কুফুরীর জীবন কিছুকাল ভোগ করে নাও, (অতঃপর) তুমি তো হবে জাহান্নামের অধিবাসী। (এ ব্যক্তি ভাল, না ঐ ব্যক্তি)তাইসিরুল
আর যখন মানুষকে দুঃখকষ্ট স্পর্শ করে সে তখন তার প্রভুকে ডাকে তাঁর প্রতি নিষ্ঠাবান হয়ে, তারপর যখন তিনি তাকে তাঁর থেকে অনুগ্রহ প্রদান করেন, সে তখন ভুলে যায় যার জন্য সে ইতিপূর্বে তাঁকে ডেকেছিল, আর সে আল্লাহ্র সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড় করায় যেন সে তাঁর পথ থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারে। বলো -- "তোমার অকৃতজ্ঞতার মাঝে কিছুকাল সুখভোগ করে নাও, তুমি তো আগুনের বাসিন্দাদের দলভুক্ত।"মাওলানা জহুরুল হক
২৩
মানুষ বলতে এখানে সেসব কাফেরদের বুঝানো হয়েছে যারা অকৃতজ্ঞতার আচরণ করে যাচ্ছে।
২৪
অর্থাৎ সুদিনে সে যেসব উপাস্যকে ডাকতো সেই সময় তাদের কথা মনে হয় না। সে তখন তাদের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়ে এবং বিশ্ব-জাহানের পালনকর্তা একমাত্র আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। সে যে তার মনের গভীরে অন্য উপাস্যদের ক্ষমতা ও ইখতিয়ারহীন হওযার অনুভূতি রাখে এবং আল্লাহই যে প্রকৃত ক্ষমতা-ইখতিয়ারের মালিক এ বাস্তবতাবোধও তার মন-মস্তিস্কের কোথাও না কোথাও অবদমিত হয়ে পড়ে আছে এটা যেন তারই প্রমাণ।
২৫
অর্থাৎ যে সময় সে অন্যসব উপাস্যদের পরিত্যাগ করে কেবল একক ও লা-শরীক আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করছিলো সে দুঃসময়ের কথা তার মনে থাকে না।
২৬
অর্থাৎ অন্যদের দাসত্ব করতে শুরু করে। তাদেরই আনুগত্য করে। তাদের কাছেই প্রার্থনা করে এবং তাদের সামনেই নযর-নিয়াজ পেশ করতে শুরু করে।
২৭
অর্থাৎ নিজে পথভ্রষ্ট হয়েই ক্ষান্ত হয় না। অন্যদেরকেও একথা বলে পথভ্রষ্ট করে যে, আমার ওপর যে বিপদ এসেছিলো তা অমুক হযরতের কিংবা অমুক বুযর্গের বা অমুক দেবী ও দেবতাকে নযরানা পেশ করে দূর হয়েছে। এতে আরো অনেক মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য উপাস্যের ভক্ত ও অনুসারী হয়ে যায় আর প্রত্যেক জাহেল এ ধরনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জনসাধারণের গোমরাহী বাড়িয়ে তুলতে থাকে।
৮. আর মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে তখন সে একাগ্রচিত্তে তার রবকে ডাকে। তারপর যখন তিনি নিজের পক্ষ থেকে তার প্রতি অনুগ্রহ করেন তখন সে ভুলে যায় তার আগে যার জন্য সে ডেকেছিল তাকে এবং সে আল্লাহ্র সমকক্ষ দাঁড় করায়, অন্যকে তার পথ থেকে বিভ্ৰান্ত করার জন্য। বলুন, কুফরীর জীবন তুমি কিছুকাল উপভোগ করে নাও। নিশ্চয় তুমি আগুনের অধিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।
(৮) মানুষকে যখন দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করে, তখন সে একনিষ্ঠভাবে তার প্রতিপালককে ডাকে; পরে যখন তিনি তার প্রতি অনুগ্রহ করেন, তখন সে যার জন্য তাঁকে ডাকছিল তা ভুলে বসে(1) এবং সে আল্লাহর পথ হতে অন্যকে বিভ্রান্ত করার জন্য আল্লাহর অংশী ঠিক করে নেয়। বল, ‘অবিশ্বাস অবস্থায় তুমি কিছুকাল জীবনোপভোগ করে নাও, বস্তুতঃ তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত।’
(1) অর্থাৎ, সেই দু’আ ভুলে বসে। অথবা সেই কষ্ট ভুলে বসে, যা দূর করার জন্য সে অন্যদেরকে ছেড়ে আল্লাহর নিকট দু’আ করত। অথবা সেই প্রভুকে ভুলে বসে, যাকে সে ডাকত ও তার সামনে কাকুতি-মিনতি করত, অতঃপর সে পুনরায় শিরক করতে আরম্ভ করে।