লাইছূ ছাওয়াআম; মিন আহলিল কিতা-বি উম্মাতুন কাইমাতুইঁ ইয়াতলূনা আ-য়া-তিল্লা হি আ-নাআল্লাইলি ওয়াহুম ইয়াছজুদূন।উচ্চারণ
কিন্তু সমস্ত আহলি কিতাব এক ধরনের নয়। এদের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে সত্য পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তারা রাতে আল্লাহর আয়াত পাঠ করে এবং তাঁর সামনে সিজদাবনত হয়। তাফহীমুল কুরআন
(তবে) কিতাবীদের সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যারা (সঠিক পথে) প্রতিষ্ঠিত, যারা রাতের বেলা আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং তারা (আল্লাহর উদ্দেশে) সিজদাবনত হয়। #%৫১%#মুফতী তাকী উসমানী
তারা সকলে সমান নয়; আহলে কিতাবের মধ্যে কিছু লোক রয়েছে যারা গভীর রাত পর্যন্ত আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং সাজদাহ করে।মুজিবুর রহমান
তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে কিছু লোক এমনও আছে যারা অবিচলভাবে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে এবং রাতের গভীরে তারা সেজদা করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তারা সকলে এক রকম নয়। কিতাবীদের মধ্যে অবিচলিত একদল আছে ; তারা রাত্রিকালে আল্লাহ্ র আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং সিজ্দা করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা সমান নয়। আহলে কিতাবের মধ্যে একদল ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। তারা রাতের বেলায় আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে এবং তারা সিজদা করে।আল-বায়ান
তারা সবাই সমান নয়। আহলে কিতাবদের কত লোক এমনও আছে যারা দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে, তারা রাত্রিকালে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করে থাকে এবং তারা সাজদাহ করে থাকে।তাইসিরুল
তারা সবাই এক রকমের নয়। গ্রন্থপ্রাপ্তদের মধ্যে একদল আছে নিষ্ঠাবান, তারা আল্লাহ্র নির্দেশাবলী রাত্রিকালে পাঠ করে, আর তারা সিজদা করে।মাওলানা জহুরুল হক
এর দ্বারা সেই সব কিতাবীদেরকে বোঝানো উদ্দেশ্য, যারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান এনেছিল, যেমন ইয়াহুদীদের মধ্যে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযি.)।
১১৩. তারা সবাই একরকম নয়। কিতাবীদের মধ্যে অবিচলিত এক দল আছে; তারা রাতে আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে এবং তারা সিজদা করে।(১)
(১) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাত অনেক দেরী করে আদায় করলেন, তারপর মসজিদের দিকে বের হয়ে দেখতে পেলেন যে, লোকেরা সালাতের অপেক্ষা করছে। তখন তিনি বললেনঃ কোন দ্বীনের কেউই তোমাদের মত এ সময়ে সালাত আদায় করে না। ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তখন এ আয়াত নাযিল হল। (মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩৯৬) অন্য বর্ণনায় এসেছে, যখন আবদুল্লাহ ইবন সালাম, সালাবাহ ইবন সাইয়াহ, উসাইদ ইবন সা'ইয়াহ ও আসাদ ইবন উবাইদ সহ একদল ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের লোক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ঈমান আনল, তখন ইয়াহুদী নেতারা বলতে লাগল, মুহাম্মাদের উপর যারা ঈমান এনেছে তারা হচ্ছে আমাদের মধ্যে নিকৃষ্ট লোক। তখন আল্লাহ্ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন। (তাবারী; আত-তাফসীরুস সহীহ) অর্থাৎ ইয়াহুদী-নাসারা সবাই যে ক্ষতিগ্রস্ত তা কিন্তু নয়। তাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ঈমান এনেছে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে মুক্তি পাবে।
(১১৩) তারা সকলে সমান নয়।(1) ঐশীগ্রন্থধারীদের মধ্যে একটি হকপন্থী দল আছে; তারা রাত্রিকালে নামাযরত অবস্থায় আল্লাহর আয়াত পাঠ করে।
(1) অর্থাৎ, পূর্বের আয়াতে যেসব আহলে-কিতাবের নিন্দাবাদ আলোচিত হয়েছে, তাদের সকলে এক রকম ছিল না, বরং তাদের মধ্যে কিছু ভাল মানুষও ছিলেন। যেমন, আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম, উসায়েদ ইবনে উবায়েদ, সা’লাবা ইবনে সা’য়্যাহ এবং উসায়েদ ইবনে সা’য়্যাহ প্রভৃতি যাঁরা আল্লাহর তাওফীকে ইসলাম কবুল করার মর্যাদা লাভে ধন্য হন এবং তাঁদের মধ্যে ঈমান ও আল্লাহভীরুতার গুণ বিদ্যমান ছিল- রাযীআল্লাহু আনহুম অ রাযু আনহু- (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।) أمَّة قَائِمَةٌ (হকপন্থী দল) এর অর্থ হল, শরীয়তের এবং নবী করীম (সাঃ)-এর অনুসরণ ও আনুগত্যকারী দল। يَسْجُدُوْنَ (সিজদা বা নামায পড়া)এর অর্থ হল, তারা রাত জেগে তাহাজ্জুদের নামায আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করে এবং নামাযে কুরআন তেলাঅত করে। ভাল কাজের আদেশের অর্থ এখানে কেউ কেউ এই করেছেন যে, তারা নবী করীম (সাঃ)-এর উপর ঈমান আনার নির্দেশ দিতো এবং তাঁর বিরোধিতা করতে নিষেধ করত। এই দলের কথা অন্য আয়াতেও আলোচিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘নিশ্চয় গ্রন্থধারীদের মধ্যে এমন অনেকে রয়েছে যারা আল্লাহতে, তোমাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে আল্লাহর নিকট বিনয়াবনত হয়ে বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর আয়াতকে স্বল্পমূল্যে বিক্রয় করে না; এরাই তো সেই সকল লোক যাদের জন্য আল্লাহর নিকট পুরস্কার রয়েছে। নিশ্চয় আল্লাহ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।’’ (সূরা আলে ইমরান ১৯৯ আয়াত)