وَٱذۡكُرۡ عَبۡدَنَآ أَيُّوبَ إِذۡ نَادَىٰ رَبَّهُۥٓ أَنِّي مَسَّنِيَ ٱلشَّيۡطَٰنُ بِنُصۡبٖ وَعَذَابٍ

ওয়াযকুর ‘আবদানাআইইঊব । ইযনা-দা-রব্বাহূআন্নী মাছছানিয়াশ শায়তা-নু বিনুসবিওঁ ওয়া ‘আযা-ব।উচ্চারণ

আর স্মরণ করো আমার বান্দা আইয়ূবের কথা ৪১ যখন সে তাঁর রবকে ডাকলো এই বলে যে, শয়তান আমাকে কঠিন যন্ত্রণা ও কষ্টের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ৪২ তাফহীমুল কুরআন

আমার বান্দা আয়্যূবকে স্মরণ কর, যখন সে নিজ প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল, শয়তান আমাকে দুঃখ ও কষ্টে জড়িয়েছে। #%২৪%#মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ কর আমার বান্দা আইয়ুবকে! যখন সে তার রাব্বকে আহবান করে বলেছিলঃ শাইতানতো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে।মুজিবুর রহমান

স্মরণ করুণ, আমার বান্দা আইয়্যুবের কথা, যখন সে তার পালনকর্তাকে আহবান করে বললঃ শয়তান আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্ট পৌছিয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করে বলেছিল, ‘শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে’, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর আমার বান্দা আইউবকে, যখন সে তার রবকে ডেকে বলেছিল, ‘শয়তান তো আমাকে কষ্ট ও আযাবের ছোঁয়া দিয়েছে’।আল-বায়ান

স্মরণ কর আমার বান্দা আইয়ূবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে ডেকে বলেছিল- শয়ত্বান আমাকে কষ্ট আর ‘আযাবে ফেলেছে (অর্থাৎ আমার ধৈর্যচ্যুতি ঘটিয়ে আমাকে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ বান্দাহ বানানোর জন্য কুমন্ত্রণা দিয়ে চলেছে)।তাইসিরুল

আর আমাদের বান্দা আইয়ূবকে স্মরণ করো। দেখো, তিনি তাঁর প্রভুকে ডেকে বলেছিলেন -- "শয়তান আমাকে পীড়ন করছে ক্লান্তি ও কষ্ট দিয়ে।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

এ নিয়ে চতুর্থবার হযরত আইয়ুবের কথা কুরআন মজিদে আলোচিত হয়েছে। এর আগে সূরা নিসার ১৬৩, সূরা আন’আমের ৮৪ ও সূরা আম্বিয়ার ৮৩-৮৪ আয়াতে এ সম্পর্কিত আলোচনা এসেছে। ইতিপূর্বে সূরা আম্বিয়ার ব্যাখ্যায় আমি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। (তাফহীমুল কুরআন, আল আম্বিয়া, ৭৬-৭৯ টীকা)

৪২

এর অর্থ এ নয় যে, শয়তান আমাকে রোগগ্রন্ত করে দিয়েছে এবং আমাকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে বরং এর সঠিক অর্থ হচ্ছে, রোগের প্রচণ্ডতা, ধন-সম্পদের বিনাশ এবং আত্মীয়-স্বজনদের মুখ ফিরিয়ে নেবার কারণে আমি যে কষ্ট ও যন্ত্রণার মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়েছি তার চেয়ে বড় কষ্ট ও যন্ত্রণা আমার জন্য এই যে, শয়তান তার প্ররোচনার মাধ্যমে আমাকে বিপদগ্রস্ত করছে। এ অবস্থায় সে আমাকে আমার রব থেকে হতাশ করার চেষ্টা করে, আমাকে আমার রবের প্রতি অকৃতজ্ঞ করতে চায় এবং আমি যাতে অধৈর্য হয়ে উঠি সে প্রচেষ্টায় রত থাকে। হযরত আইয়ূবের ফরিয়াদের এ অর্থটি দু’টি কারণে আমাদের কাছে প্রাধান্য লাভের যোগ্য। এক, কুরআন মজীদের দৃষ্টিতে আল্লাহ‌ শয়তানকে কেবলমাত্র প্ররোচণা দেবার ক্ষমতাই দিয়েছেন। আল্লাহর বন্দেগীকারীদেরকে রোগগ্রস্ত করে এবং তাদেরকে শারীরিক যন্ত্রণা দিয়ে বন্দেগীর পথ থেকে সরে যেতে বাধ্য করার ক্ষমতা তাদেরকে দেননি। দুই, সূরা আম্বিয়ায় যেখানে হযরত আইয়ূব আল্লাহর কাছে তাঁর রোগের ব্যাপারে অভিযোগ পেশ করছেন সেখানে তিনি শয়তানের কোন কথা বলেন না। বরং তিনি কেবল বলেন,

أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ

“আমি রোগগ্রস্ত হয়ে পড়েছি এবং তুমি পরম করুণাময়।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সূরা আম্বিয়ায় বলা হয়েছে (২১ : ৮৪) হযরত আয়্যূব আলাইহিস সালাম দীর্ঘকালীন এক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তিনি সবরের সাথে আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তাকে শেফা দান করেন। ৪২ নং আয়াতে তাঁর শেফা লাভের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাকে পা দ্বারা মাটিতে আঘাত করতে বললেন। তিনি মাটিতে আঘাত করলেন। অমনি সেখান থেকে একটি প্রস্রবণ উৎসারিত হল। আল্লাহ তাআলা তাকে সেই পানি দ্বারা গোসল করতে ও তা পান করতে হুকুম করলেন। তিনি তাই করলেন। ফলে তিনি আরোগ্য লাভ করলেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪১. আর স্মরণ করুন, আমাদের বান্দা আইউবকে, যখন তিনি তার রবকে ডেকে বলেছিলেন, শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে,

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪১) স্মরণ কর, আমার দাস আইয়ুবের কথা, যখন সে তার প্রতিপালককে আহবান করে বলেছিল, শয়তান তো আমাকে যন্ত্রণা ও কষ্টে ফেলেছে। (1)

(1) আইয়ুব (আঃ)-এর রোগ ও তাতে তাঁর ধৈর্য ধারণ করার কাহিনী একটি প্রসিদ্ধ বিষয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর সন্তান-সন্ততি, ধন-সম্পদ ধ্বংস করে এবং রোগ দ্বারা তাঁকে পরীক্ষা করেছিলেন। এই সময় তিনি কয়েক বছর রোগাক্রান্ত ছিলেন, এমনকি (তাঁর স্ত্রীগণও তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন) তাঁর সাথে মাত্র একজন স্ত্রী ছিলেন, যিনি সকাল-সন্ধ্যা তাঁর সেবা-শুশ্রূষা করতেন এবং কোথাও কাজ-কর্ম করে তাঁর জন্য কোন রকম আহারের ব্যবস্থা করতেন। এই বিষয়ে বিভিন্ন বিস্তারিত রেওয়ায়াত বর্ণনা করা হয়। কিন্তু তার মধ্যে কতটা সহীহ ও কতটা সহীহ নয়, তা জানার কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই। نُصُبٍ দ্বারা শারীরিক কষ্ট এবং عَذَابٍ দ্বারা ধন-সম্পদ ধ্বংস বুঝানো হয়েছে। আসলে সব কিছু করার মালিক একমাত্র আল্লাহ। এর পরেও তার সাথে শয়তানের সম্পর্কের কথা এই জন্য বলা হয়েছে যে, সম্ভবতঃ শয়তানের কুমন্ত্রণাই তাঁকে এমন কর্মে লিপ্ত করেছিল, যার কারণে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই পরীক্ষা এসেছিল অথবা সম্পর্কের কথা আদবের দিকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ভালোকে আল্লাহর সাথে এবং মন্দকে নিজের বা শয়তানের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়।