۞وَهَلۡ أَتَىٰكَ نَبَؤُاْ ٱلۡخَصۡمِ إِذۡ تَسَوَّرُواْ ٱلۡمِحۡرَابَ

ওয়া হাল আতা-কা নাবাউল খাসম । ইযতাসাওওয়ারুল মিহর-ব।উচ্চারণ

তারপর তোমার কাছে কি পৌঁছেছে মামলাকারীদের খবর, যারা দেওয়াল টপকে তার মহলে পৌঁছে গিয়েছিল? ২১ তাফহীমুল কুরআন

তোমার কাছে কি সেই মোকদ্দমাকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ইবাদতখানায় প্রবেশ করেছিল? #%১৪%#মুফতী তাকী উসমানী

তোমার নিকট বিবাদকারী লোকের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে এল ইবাদাতখানায় –মুজিবুর রহমান

আপনার কাছে দাবীদারদের বৃত্তান্ত পৌছেছে, যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গীয়ে এবাদত খানায় প্রবেশ করেছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তোমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি ? যখন এরা প্রাচীর ডিঙাইয়া এলো ‘ইবাদতখানায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তোমার কাছে কি বিবদমান লোকদের সংবাদ এসেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে মিহরাবে আসল।আল-বায়ান

বিবদমান লোকেদের কথা তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? যখন তারা প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ‘ইবাদাতখানায় আসলো,তাইসিরুল

আর তোমার কাছে কি দুশমনের কাহিনী এসে পৌঁছেছে? কেমন করে তারা রাজকক্ষে বেয়ে উঠল?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২১

এখানে হযরত দাউদের কথা যে উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে তা আসলে এ কাহিনী শুনানো থেকে শুরু হয়েছে। এর আগে তাঁর যে উন্নত গুণাবলীর কথা ভূমিকাস্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে তার উদ্দেশ্য ছিল কেবলমাত্র একথা বলা যে, যাঁর সাথে এ ব্যাপারটি ঘটে গেছে সে দাউদ আলাইহিস সালাম কত বড় মর্যাদার অধিকারী ছিলেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে ২৪ নং আয়াত পর্যন্ত যে ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তার সারমর্ম এরূপ, হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের দ্বারা কোনও একটা ভুল হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তাআলা সে ব্যাপারে তাকে সতর্ক করতে চাইলেন। তাই তাঁর কাছে দু’জন লোককে অস্বাভাবিকভাবে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তখন নিজ ইবাদতখানায় ছিলেন। আগন্তুকদ্বয় তাদের একটা বিবাদের ব্যাপারে তাঁর কাছে বিচার চাইল। তিনি বিচার করে দিলেন, কিন্তু সাথে সাথে তিনি বুঝে ফেললেন, আল্লাহ তাআলা-এর মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছেন। সুতরাং তিনি তখনই সিজদায় পড়ে গেলেন এবং তাওবা ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হলেন। তাঁর দ্বারা কি ভুল হয়ে গিয়েছিল, কুরআন মাজীদ তা বয়ান করেনি এবং মোকদ্দমা দ্বারা তিনি সে বিষয়ে সচকিতই-বা হলেন কিভাবে তারও ব্যাখ্যা দেয়নি। কুরআন মাজীদ কেবল এই সবক দিতে চেয়েছে যে, ভুলচুক তো মানুষের স্বভাবেই আছে। বড়-বড় বুযুর্গ এমনকি নবীগণের দ্বারা মাঝে-মধ্যে মামুলি ধরনের ভুল-বিচ্যুতি ঘটে গেছে, কিন্তু তারা কখনও আপন ভুলের উপর গোঁ ধরে বসে থাকেন না, একই ভুল বারবার করেন না; বরং তাদের কাছে নিজের ভুল স্পষ্ট হয়ে যাওয়া মাত্রই আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হন এবং তাওবা- ইস্তিগফারে লিপ্ত হন। এ শিক্ষা গ্রহণের বিষয়টা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের ঘটনা বিশদভাবে জানার উপর নির্ভরশীল নয়, যদিও অনেকে এর বিশদ অনুসন্ধানের পেছনে পড়েছেন। মুফাসসিরগণ এ সম্পর্কে নানা কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে বিভিন্ন কিসসা-কাহিনীও রচিত হয়েছে। একটা বেহুদা কিসসা তো বাইবেলেও বর্ণিত হয়েছে। বলা হয়েছে যে, হযরত দাঊদ আলাইহিসসালাম ‘উরিয়া’ নামক তার এক সেনাপতির স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)। এসব কিসসা বর্ণনার উপযুক্ত নয়। একজন মহান নবী, কুরআন মাজীদের বর্ণনা মোতাবেক যিনি আল্লাহ তাআলার বিশেষ প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং যিনি অত্যধিক পরিমাণে আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন, তাঁর সম্পর্কে এ জাতীয় গল্প যে বিলকুল মনগড়া তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই। কোন কোন মুফাসসির বর্ণনা করেছেন সেকালে কারও বিবাহিতা স্ত্রীকে বিবাহ করার আগ্রহ প্রকাশ করে স্বামীকে যদি অনুরোধ করা হত সে যেন তাকে তালাক দিয়ে দেয়, সেটাকে দূষনীয় মনে করা হত না। সেকালে এর ব্যাপক রেওয়াজ ছিল। তাই এরূপ করলে তাকে কেউ খারাপ মনে করত না। উরিয়ার স্ত্রী ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমতী। তাই হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম সেকালের রেওয়াজ অনুযায়ী উরিয়াকে অনুরোধ করলেন যেন স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়, যাতে তিনি নিজে তাকে বিবাহ করতে পারেন। এরূপ অনুরোধ তাঁর পক্ষে কোন গুনাহের কাজ ছিল না, যেহেতু তা রক্ষা করা না করার সম্পূর্ণ এখতিয়ার উরিয়ার ছিল। তাছাড়া সমাজের প্রচলন অনুযায়ী সেটা দোষেরও ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও সেটা যেহেতু একজন মহান নবীর শান মোতাবেক ছিল না, তাই আল্লাহ তাআলা আয়াতে বর্ণিত সূক্ষ্ম পন্থায় তাকে সতর্ক করে দিলেন। সুতরাং তিনি এজন্য তাওবা-ইস্তিগফার করলেন। তিনি আর সে বিবাহ করলেন না। এ ব্যাখ্যা বাইবেলের কিসসার মত অবান্তর নয় বটে, কিন্তু কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা দ্বারা এটা প্রমাণিত নয়। আসল কথা হচ্ছে, তাঁর ভুল যাই হোক না কেন আল্লাহ তাআলা তাঁর সে মহান নবীকে যে কেবল ক্ষমা করেছেন তাই নয়; বরং সে ভুলটিকে সম্পূর্ণরূপে পর্দার আড়াল করে রেখেছেন। কুরআন মাজীদে কোথাও সেটি উল্লেখ করেননি। সুতরাং আল্লাহ তাআলা নিজে যে ঘটনা গোপন রেখেছেন, তার অনুসন্ধানে লেগে পড়া কিছুতেই একজন মহান নবীর মর্যাদার অনুকূল নয়। তাছাড়া এর কোন প্রয়োজনও নেই। কুরআন যেমন বিষয়টাকে অস্পষ্ট রেখে দিয়েছে, আমাদেরও তেমনি অস্পষ্ট রেখে দেওয়া উচিত। কেননা কুরআন মাজীদ যে শিক্ষা দিতে চায় তা ঘটনা জানা ছাড়াও পুরোপুরি হাসিল হয়ে যায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

২১. আর আপনার কাছে বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌছেছে কি? যখন তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে আসল ইবাদাতখানায়,

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২১) তোমার নিকট বিবদমান লোকদের বৃত্তান্ত পৌঁছেছে কি? যখন ওরা প্রাচীর ডিঙিয়ে উপাসনা-কক্ষে প্রবেশ করল, (1)

(1) مِحْرَابْ এর অর্থ হল কক্ষ বা কামরা (ইবাদত-খানা); যেখানে তিনি সবার থেকে পৃথক হয়ে নির্জনে একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতেন। দরজায় প্রহরী থাকত, যাতে কেউ ভিতরে এসে তাঁর ইবাদতে বাধা সৃষ্টি না করে। বাদী-বিবাদী পিছন দিকের প্রাচীর ডিঙিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল।