ٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَا يَقُولُونَ وَٱذۡكُرۡ عَبۡدَنَا دَاوُۥدَ ذَا ٱلۡأَيۡدِۖ إِنَّهُۥٓ أَوَّابٌ

ইসবির ‘আলা-মা-ইয়াকূলূনা ওয়াযকুর ‘আবদানা-দা-ঊদা যাল আইদি ইন্নাহূআওওয়া-ব।উচ্চারণ

হে নবী! এরা যে কথা বলে তার ওপর সবর করো ১৬ এবং এদের সামনে আমার বান্দা দাউদের কাহিনী বর্ণনা করো, ১৭ যে ছিল বিরাট শক্তিধর, ১৮ প্রত্যেকটি ব্যাপারে ছিল আল্লাহ‌ অভিমুখী। তাফহীমুল কুরআন

(হে রাসূল!) তারা যা-কিছু বলে তাতে সবর কর এবং স্মরণ কর আমার বান্দা দাঊদ (আলাইহিস সালাম)কে, যে ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। #%১২%# নিশ্চয়ই সে ছিল অত্যন্ত আল্লাহ-অভিমুখী।মুফতী তাকী উসমানী

তারা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর। আর স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা; সে ছিল অতিশয় আল্লাহর অভিমুখী।মুজিবুর রহমান

তারা যা বলে তাতে আপনি সবর করুন এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাউদকে স্মরণ করুন। সে ছিল আমার প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং স্মরণ কর, আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদের কথা; সে ছিল অতিশয় আল্লাহ্ অভিমুখী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা যা বলে সে ব্যাপারে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং আমার শক্তিশালী বান্দা দাঊদকে স্মরণ কর; সে ছিল অধিক আল্লাহ অভিমুখী।আল-বায়ান

এরা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর, আর আমার বান্দাহ দাঊদের কথা স্মরণ কর, সে ছিল শক্তি-সামর্থ্যের অধিকারী আর বড়ই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।তাইসিরুল

তারা যা বলে তা সত্ত্বেও তুমি অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, আর আমাদের বান্দা হাত থাকা দাউদকে স্মরণ কর, তিনি নিশ্চয়ই সতত ফিরতেন!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৬

ওপরে মক্কার কাফেরদের যেসব কথা বিবৃত হয়েছে এখানে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ নবী ﷺ সম্পর্কে তাদের এ প্রলাপোক্তি যে, এ ব্যক্তি যাদুকর ও মিথ্যুক, তাদের এ আপত্তি যে, রসূল নিযুক্ত করার জন্য আল্লাহর কাছে কি কেবলমাত্র এ ব্যক্তিটিই থেকে গিয়েছিল এবং এ দোষারোপ যে, এ তাওহীদের দাওয়াত থেকে এ ব্যক্তির উদ্দেশ্য ধর্মীয় প্রচারণা নয় বরং অন্য কোন দুরভিসন্ধি রয়েছে।

১৭

এ ব্যাক্যের আর একটি অনুবাদ এও হতে পারে যে, “আমার বান্দা দাউদের কথা স্মরণ করো।” প্রথম অনুবাদের দিক দিয়ে অর্থ হচ্ছে এই যে, এ কাহিনীতে এদের জন্য একটি শিক্ষা রয়েছে। আর দ্বিতীয় অনুবাদের দৃষ্টিতে এর অর্থ হচ্ছে, এ কাহিনীর স্মৃতি তোমাদের ধৈর্য ধারণা করতে সাহায্য করবে। যেহেতু এ কাহিনী বর্ণনা করার পেছনে উভয় উদ্দেশ্যই রয়েছে তাই এতে এমনসব শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যেগুলো থেকে উভয়বিধ অর্থ প্রকাশ পায়। (হযরত দাউদের ঘটনার ওপর বিস্তারিত আলোচনা এর আগে নিম্নোক্ত স্থানগুলোতে এসে গেছেঃ তাফহীমুল কুরআন, আল বাকারাহ, ২৭৩ ; বনী ইসরাঈল, ৭ ৬৩ ; আলা আম্বিয়া ৭০-৭৩; আন নামল, ১৮-২০ এবং সাবা ১৪-১৬ টীকা সমূহ)

১৮

মূল শব্দাবলী হচ্ছেঃ ذَا الْأَيْدِ “হাতওয়ালা” হাত শব্দটি কেবল আরবী ভাষাতেই নয় অন্যান্য ভাষাতেও শক্তি ও ক্ষমতা অর্থে ব্যবহৃত হয়। হযরত দাউদের জন্য যখন তাঁর গুণ হিসেবে বলা হয় তিনি “হাতওয়ালা” ছিলেন তখন অবশ্যই এর অর্থ হবে, তিনি বিপুল শক্তির অধিকারী ছিল। জালুতের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি এর প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন। সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তি। এর মাধ্যমে তিনি আশপাশের মুশরিক জাতিসমূহকে পরাজিত করে একটি শক্তিশালী ইসলামী সালতানাত কায়েম করেছিলেন। নৈতিক শক্তি এর বদৌলতে তিনি শাহী মসনাদে বসেও ফকিরি করে গেছেন সবসময়। আল্লাহকে ভয় করেছেন এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলেছেন। ইবাদাতের শক্তি। এর অবস্থা এই ছিল যে, রাষ্ট্র পরিচালানা, শাসন কর্তৃত্ব ও আল্লাহর পথে জিহাদের ব্যস্ততার মধ্যেও বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী তিনি হামেশা একদিন পরপর রোজা রেখেছেন এবং প্রতিদিন রাতের এক-তৃতীয়াংশ নামাযে অতিবাহিত করতেন। ইমাম বুখারী তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে হযরত আবু দারদার (রা.) বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন, যখন হযরত দাউদের (আ) কথা আলোচিত হতো, নবী ﷺ বলতেন, كَانَ أَعْبَدَ الْبَشَرِ “তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশী ইবাদাতগুযার ব্যক্তি।”

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কাফেরদের যেসব কথায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যথিত হতেন, সূরার শুরুতে তা খণ্ডন করা হয়েছিল। এবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হচ্ছে, তাদের এসব বেহুদা কথা অগ্রাহ্য করুন, সবর অবলম্বন করুন এবং নিজ কাজে লেগে থাকুন। এ প্রসঙ্গে কয়েকজন নবীর ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে, যা দ্বারা তিনি সান্তনা লাভ করতে পারেন। সর্বপ্রথম বর্ণিত হচ্ছে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের ঘটনা।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭. তারা যা বলে তাতে আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং স্মরণ করুন আমাদের শক্তিশালী বান্দা দাউদের কথা; তিনি ছিলেন খুব বেশী আল্লাহ অভিমুখী।(১)

(১) এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ্ তা'আলার কাছে সর্বাধিক পছন্দনীয় সালাত ছিল দাউদ আলাইহিস সালাম এর সালাত এবং সর্বাধিক পছন্দনীয় সাওম ছিল দাউদ আলাইহিস সালাম-এর সাওম। তিনি অর্ধারাত্রি নিদ্রা যেতেন, এক তৃতীয়াংশ ইবাদত করতেন এবং পুনরায় রাত্রির ষষ্ঠাংশে নিদ্রা যেতেন এবং তিনি একদিন পর পর রোযা রাখতেন। (বুখারী: ১১৩১, মুসলিম: ১১৫৯) অন্য বর্ণনায় এসেছে, শক্রর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি কখনও পশ্চাদপসরণ করতেন না। (বুখারী: ১৯৭৭, মুসলিম: ১১৫৯) অন্য বর্ণনায় এসেছে, “তিনি কখনো ওয়াদা খেলাফ করতেন না, শক্রর মোকাবেলায় অবতীর্ণ হয়ে তিনি কখনও পশ্চাদপসরণ করতেন না।’ (মুসনাদে আহমাদ:২/২০০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৭) এরা যা বলে তাতে তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং স্মরণ কর আমার বলবান(1) দাস দাঊদের কথা; নিশ্চয় সে ছিল অতিশয় আল্লাহ-অভিমুখী।

(1) এখানে أَيْدٍ - يَدٌ (হাত) এর বহুবচন নয়। বরং এটা آدَ يَئِيْدُ এর মাসদার (ক্রিয়ামূল) যার অর্থ ‘শক্তি ও প্রবলতা’। এ থেকেই تأييد - تقويت অর্থে ব্যবহার হয়েছে। এখানে শক্তির অর্থ হল দ্বীনি শক্তি ও সুদৃঢ়তা। যেমন হাদীসে বর্ণনা হয়েছে যে, ‘‘আল্লাহর তাআলার নিকট সর্বাধিক পছন্দনীয় (রাতের) নামায হল, দাউদ (আঃ)-এর নামায এবং সর্বাধিক পছন্দনীয় রোযা হল দাউদ (আঃ)-এর রোযা। তিনি অর্ধরাত্রি নিদ্রা যেতেন, অতঃপর এক তৃতীয়াংশ নামায পড়তেন এবং পুনরায় রাত্রির ষষ্ঠাংশে নিদ্রা যেতেন। আর তিনি একদিন পর পর রোযা রাখতেন এবং যুদ্ধে গিয়ে কখনও পশ্চাদপসরণ করতেন না। (বুখারী)