আম লাহুম মুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা- ফালইয়ারতাকূ ফিল আছবা-ব।উচ্চারণ
এরা কি আসমান-যমীন এবং তাদের মাঝখানের সবকিছুর মালিক? বেশ, তাহলে এরা কার্যকারণ জগতের উচ্চতম শিখরসমূহে আরোহণ করে দেখুক। ১১ তাফহীমুল কুরআন
নাকি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুর রাজত্ব তাদের হাতে? তা থাকলে তারা যেন রশি টানিয়ে উপরে আরোহণ করে। মুফতী তাকী উসমানী
তাদের কি সার্বভৌমত্ব আছে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের অন্তবর্তী সব কিছুর উপর? থাকলে তারা সিড়ি বেয়ে আরোহণ করুক।মুজিবুর রহমান
নাকি নভোমন্ডল, ভূমন্ডল ও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর উপর তাদের সাম্রাজ্য রয়েছে? থাকলে তাদের আকাশে আরোহণ করা উচিত রশি ঝুলিয়ে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদের কি কর্তৃত্ব আছে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর ওপর ? থাকলে, এরা সিঁড়ি বেয়ে আরোহণ করুক! ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অথবা আসমান ও যমীন এবং এ দু’য়ের মধ্যে যা আছে তার মালিকানা কি তাদের? তাহলে তারা আরোহণ করুক (আসমানে উঠার) কোন উপায় অবলম্বন করে।আল-বায়ান
কিংবা আকাশ ও পৃথিবী- এ দু’ এর মাঝে যা আছে তার সর্বময় ক্ষমতা কি তাদের আছে? তাহলে তারা বিশ্ব পরিচালনার উচ্চস্থানে উঠে পড়ুক।তাইসিরুল
অথবা তাদের কি সার্বভৌমত্ব আছে মহাকাশমন্ডলীর ও পৃথিবীর এবং এই দুইয়ের মধ্যে যা-কিছু আছে তার? তাহলে তারা মাল- আসবাবের মধ্যে উঠতে থাকুক।মাওলানা জহুরুল হক
১১
“এটি হচ্ছে আমাদের মধ্যে কি মাত্র এ এক ব্যক্তিই থেকে গিয়েছিল যার কাছে আল্লাহর যিকর নাযিল করা হয়েছে।” কাফেরদেরকে এ উক্তির জবাব। এর জবাবে আল্লাহ বলছেনঃ আমি কাকে নবী করবো এবং কাকে করবো না এর ফায়সালা করার দায়িত্ব আমার নিজের। এরা কবে থেকে এ ফায়সালা করার ইখতিয়ার লাভ করলো? যদি এরা এর ইখতিয়ার লাভ করতে চায়, তাহলে বিশ্ব-জাহানের শাসন কর্তৃত্বের আসন লাভ করার জন্য এরা আরশের ওপর পৌঁছে যাবার চেষ্টা করুক। এর ফলে এরা যাকে নিজেদের অনুগ্রহের হকদার মনে করবে তার ওপর অহী নাযিল করবে এবং যাকে আমি হকদার মনে করি তার ওপর অহী নাযিল করবে না। এ বিষয়বস্তু কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে আলোচিত হয়েছে। কারণ কুরাইশ বংশীয় কাফেররা বারবার বলছিল, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কেমন করে নবী হয়ে গেলেন? আল্লাহ কি এ কাজের জন্য কুরাইশদের বড় বড় সরদারদের মধ্য থেকে কাউকে পেলেন না? (দেখুন বনী ইসরাঈল, ১০০ আয়াত এবং আয যুখরুফ ৩১-৩২ আয়াত)
অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াত সম্পর্কে এভাবে প্রশ্ন তুলছে, যেন নবুওয়াত, যা কিনা আল্লাহ তাআলার এক বিশেষ রহমত, তাদের মুঠোয় ও তাদের এখতিয়ারে। তারা যাকে চাবে নবী বানানো হবে আর যাকে অপছন্দ করবে, তাকে নবুওয়াত দেওয়া হবে না।
১০. নাকি তাদের কর্তৃত্ব আছে আসমানসমূহ ও যমীন এবং এ দুয়ের অন্তর্বতী সমস্ত কিছুর উপর? থাকলে, তারা কোন উপায় অবলম্বন করে আরোহণ করুক!
(১০) ওদের কি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছুর (উপর) সার্বভৌমত্ব আছে? থাকলে, ওরা মাধ্যমযোগে (আকাশে) আরোহণ করুক! (1)
(1) অর্থাৎ, আকাশে উঠে সেই অহী বন্ধ করে দিক, যা মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ হয়। أسباب শব্দটি سَبَب এর বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ হলঃ ঐ সকল বস্তু যার মাধ্যমে নিজ অভীষ্ট পর্যন্ত পৌঁছনো যায়, তাতে সে যে কোন বস্তুই হোক। যার ফলে তার বিভিন্ন অর্থ করা হয়েছে। (এর ব্যাপক অর্থঃ মাধ্যম।) রশি ছাড়া আর একটি দ্বিতীয় অর্থ ‘দরজা’ও করা হয়েছে। যে দরজা দিয়ে ফিরিশতাগণ পৃথিবীতে অবতরণ করেন। অর্থাৎ সিঁড়ির সাহায্যে আকাশের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যাও এবং অহী আসা বন্ধ করে দাও। (ফাতহুল ক্বাদীর)