আউনঝিলা ‘আলাইহিযযিকরু মিম বাইনিনা- বালহুম ফী শাক্কিম মিন যিকরী বাল লাম্মা-ইয়াযূকূ‘আযা-ব।উচ্চারণ
আমাদের মধ্যে কি মাত্র এ এক ব্যক্তিই থেকে গিয়েছিল যার কাছে আল্লাহর যিক্র নাযিল করা হয়েছে?”আসল কথা হচ্ছে, এরা আমার যিক্র-এর ব্যাপারে সন্দেহ করছে ১০ আমার আযাবের স্বাদ পায়নি বলেই এরা এসব করছে। তাফহীমুল কুরআন
এই উপদেশ-বাণী আমাদের পরিবর্তে তার উপর নাযিল করা হল? বস্তুত তারা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দেহে পতিত; বরং তারা এখনও পর্যন্ত আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করেনি।মুফতী তাকী উসমানী
আমাদের মধ্য হতে কি তারই উপর কুরআন অবতীর্ণ হল? প্রকৃত পক্ষে তারা আমার কুরআনে সন্দিহান, তারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি।মুজিবুর রহমান
আমাদের মধ্য থেকে শুধু কি তারই প্রতি উপদেশ বানী অবতীর্ণ হল? বস্তুতঃ ওরা আমার উপদেশ সম্পর্কে সন্দিহান; বরং ওরা এখনও আমার মার আস্বাদন করেনি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আমাদের মধ্য হতে কি তারই ওপর কুরআন অবতীর্ণ হল ?’ প্রকৃতপক্ষে এরা তো আমার কুরআনে সন্দিহান, এরা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করে নাই। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আমাদের মধ্য থেকে তার উপরই কি কুরআন নাযিল করা হল’? বরং তারা আমার কুরআনের ব্যাপারে সন্দেহে রয়েছে। বরং তারা এখনও আমার আযাব আস্বাদন করেনি।আল-বায়ান
আমাদের মধ্যে তার কাছেই কি বাণী পাঠানো হয়েছে?’ আসলে তারা আমার বাণীতে সন্দিহান, (তার কারণ) তারা এখনও আমার শাস্তির স্বাদ পায়নি।তাইসিরুল
"কী! আমাদের মধ্য থেকে বুঝি তারই কাছে স্মারক-গ্রন্থ অবতীর্ণ হল?" বস্তুতঃ তারা আমার স্মারক গ্রন্থ সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যেই রয়েছে? প্রকৃতপক্ষে তারা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করে নি।মাওলানা জহুরুল হক
১০
অন্যকথায় বলা যায়, আল্লাহ বলেন, যে মুহাম্মাদ! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরা মূলত তোমাকে অস্বীকার করছে না বরং অস্বীকার করছে আমাকে, তারাতো পূর্বেও তোমার সত্যবাদীতায় সন্দেহ করেনি। আজ তারা যে এ সন্দেহ করছে এটা আসলে যিকরের কারণে। তাদেরকে উপদেশ দেবার দায়িত্ব যখন আমি তোমার ওপর সোপর্দ করেছি তখন তারা এমন ব্যক্তির সত্যবাদিতায় সন্দেহ করতে শুরু করেছে যার সত্যবাদিতার তারা ইতিপূর্বে কসম খেতো। একই বিষয়বস্তু সূরা আল আন’আমের ৩৩ আয়াতেও ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে। (দেখুন তাফহীমুল কুরআন আল আন ’আম, ২১ টীকা।)
৮. আমাদের মধ্যে কি তারই উপর যিকর (বাণী) নাযিল হল? প্রকৃতপক্ষে তারা তো আমার বাণীতে (কুরআনে) সন্দিহান। বরং তারা এখনো আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি।
(৮) আমরা এত লোক থাকতে কি তারই ওপর কুরআন অবতীর্ণ করা হল?’(1) ওরা তো প্রকৃতপক্ষে আমার কুরআনে সন্দিহান,(2) ওরা এখনও আমার শাস্তি আস্বাদন করেনি। (3)
(1) অর্থাৎ, মক্কাতে অনেক বড় বড় সর্দার ও নেতাগণ আছেন, যদি আল্লাহ কাউকে নবী বানাতে চাইতেন তবে তাঁদের মধ্য থেকে কাউকে বেছে নিয়ে বানাতেন। তাঁদেরকে বাদ দিয়ে অহী ও রিসালাতের জন্য মুহাম্মাদকে চয়ন করা আশ্চর্যের ব্যাপার! ঠিক যেন তারা আল্লাহর চয়নে ভুল বের করল। এটা সত্য যে, কাজের ইচ্ছা না থাকলে বিভিন্ন বাহানা দেওয়া হয়। অন্য স্থানেও এই বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন দেখুনঃ সূরা যুখরুফের ৩১-৩২ আয়াত।
(2) অর্থাৎ, তাদের অস্বীকার এই জন্য নয় যে, মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর সত্যবাদিতার জ্ঞান তাদের নিকটে ছিল না অথবা তাঁর সুস্থ বিবেক-বুদ্ধির ব্যাপারে তারা সন্দিহান ছিল। বরং আসলে তারা সেই অহীর উপরে সন্দেহ পোষণ করত, যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল, যার মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল তাওহীদের দাওয়াত।
(3) কারণ শাস্তি আস্বাদন করলে এমন স্পষ্ট বস্তুকে অস্বীকার ও মিথ্যা মনে করত না। আর যখন তারা সেই অস্বীকারের শাস্তি সত্যই আস্বাদন করবে, তখন এমন সময় হবে যে, না তাদের সবীকারোক্তি কাজে আসবে, আর না ঈমান কোন উপকারে আসবে।