ওয়া‘আল্লামা আ-দামাল আছমাআ কুল্লাহা- ছু ম্মা ‘আরদাহুম ‘আলাল মালাইকাতি ফাক-লা আম্বিঊনী বিআছমাই হাউলাই ইন কুনতুম সা-দিকীন।উচ্চারণ
অতঃপর আল্লাহ আদমকে সমস্ত জিনিসের নাম শেখালেন ৪২ তারপর সেগুলো পেশ করলেন ফেরেশতাদের সামনে এবং বললেন, “যদি তোমাদের ধারণা সঠিক হয় (অর্থাৎ কোন প্রতিনিধি নিযুক্ত করলে ব্যবস্থাপনা বিপর্যস্ত হবে) তাহলে একটু বলতো দেখি এই জিনিসগুলোর নাম?” তাফহীমুল কুরআন
এবং (আল্লাহ) আদমকে সমস্ত নাম #%৩১%# শিক্ষা দিলেন। তারপর তাদেরকে ফিরিশতাদের সামনে পেশ করলেন এবং (তাদেরকে) বললেন, তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আমাকে এসব জিনিসের নাম জানাও।মুফতী তাকী উসমানী
এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, অনন্তর তৎসমূদয় মালাইকা/ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপিত করলেন, অতঃপর বললেনঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে আমাকে এ সব বস্তুর নামসমূহ বর্ণনা কর।মুজিবুর রহমান
আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেই সমুদয় ফিরিশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, ‘এই সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তিনি আদমকে নামসমূহ সব শিক্ষা দিলেন তারপর তা ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। সুতরাং বললেন, ‘তোমরা আমাকে এগুলোর নাম জানাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।আল-বায়ান
এবং তিনি আদাম (আ.)-কে সকল বস্তুর নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলো ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন, ‘এ বস্তুগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’।তাইসিরুল
তখন তিনি আদমকে নামাবলী -- তাদের সব-কিছু শিখিয়ে দিলেন, তারপর তিনি ফিরিশ্তাদের কাছে তাদের স্থাপন করলেন ও বললেন, -- “আমাকে এই সমস্তের নামাবলী বর্ণনা কর, যদি তোমরা সঠিক হয়ে থাকো।”মাওলানা জহুরুল হক
৪২
কোন বস্তুর নামের মাধ্যমে মানুষ তার সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে থাকে, এটিই হয় মানুষের জ্ঞান লাভের পদ্ধতি। কাজেই মানুষের সমস্ত তথ্যজ্ঞান মূলত বস্তুর নামের সাথে জড়িত। তাই আদমকে সমস্ত নাম শিখিয়ে দেয়ার মানেই ছিল তাঁকে সমস্ত বস্তুর জ্ঞান দান করা হয়েছিল।
‘নামসমূহ’ দ্বারা সৃষ্টিজগতের যাবতীয় বস্তুর নাম, তাদের বৈশিষ্ট্যাবলী এবং মানুষ যে ক্ষুধা, পিপাসা, সুস্থতা, অসুস্থতা ইত্যাদি অবস্থাসমূহের সম্মুখীন হয়, তার জ্ঞান বোঝানো হয়েছে। হযরত আদম আলাইহিস সালামকে এসব বিষয় শিক্ষা দানের সময় ফিরিশতাগণ উপস্থিত থাকলেও তাদের স্বভাবের ভেতর যেহেতু এসব জিনিসের বুঝ-সমঝ ছিল না, তাই তাদের থেকে যখন এর পরীক্ষা নেওয়া হল, তারা উত্তর দিতে সক্ষম হলেন না। এভাবে আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাদের দ্বারা কার্যত স্বীকার করিয়ে নিলেন যে, এই নতুন সৃষ্টির দ্বারা তিনি যে কাজ নিতে চান, তা তারা আঞ্জাম দিতে সক্ষম নন। (কেননা খিলাফতের কাজ আঞ্জাম দেওয়ার জন্য খলিফার ভেতর তার মনিব ও অধিকর্তার গুণ থাকা জরুরি। ফিরিশতাগণ ইবাদতের ক্ষেত্রে অনেক উচ্চস্তরের হলেও মনিবের গুণ অর্থাৎ ইলম ও জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা অনেক পিছনে। সেই তুলনায় মানুষকে যেহেতু অনেক এগিয়ে রেখেছেন তাই তাকেই খলিফা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এর দ্বারা ইলমের ফযীলতও বোঝা গেল। -(-অনুবাদক)
৩১. আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা(১) দিলেন, তারপর সেগুলো(২) ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করে বললেন, ‘এগুলোর নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
১. অর্থাৎ আগে যে খলীফা বানানোর ঘোষণা আল্লাহ তা'আলা দিয়েছেন। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং আদম। সাঈদ ইবনে জুবাইর বলেন, আদমকে আদম এজন্যই নাম রাখা হয়েছে, কারণ তাকে যমীনের ‘আদীম’ বা চামড়া অর্থাৎ উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। (তাবাকাতু ইবনে সাদ, তাবারী) আয়াত থেকে আরও সাব্যস্ত হয়েছে যে, আদম আলাইহিস সালাম নবী ছিলেন। তার সাথে আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং কথা বলেছেন। হাদীসে এসেছে, আবু উমামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আদম কি নবী ছিলেন? রাসূল বললেন, ‘হ্যাঁ, যার সাথে কথা বলা হয়েছে। লোকটি আবার প্রশ্ন করল, তার মাঝে ও নুহের মাঝে ব্যবধান কেমন? রাসূল বললেন, দশ প্রজন্ম।” (ইবনে হিব্বানঃ ৬১৯০)
প্রশ্ন হতে পারে যে, আদম আলাইহিস সালামকে কি কি নাম শিখানো হয়েছিল? কাতাদাহ বলেন, সবকিছুর নাম শিখিয়েছিলেন, যেমন এটা পাহাড়, এটা সমুদ্র, এটা এই, ওটা সেই, প্রত্যেকটি বস্তুর নাম। তারপর ফেরেশতাগণের কাছে সেগুলো পেশ করে নাম জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। (তাবারী, ইবনে কাসীর) আর তা ছিল মূলত: সমস্ত সৃষ্টিকুলের নাম এবং তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডের নাম। বিখ্যাত শাফাআতের হাদীসেও এসেছে যে, “মানুষজন কিয়ামতের মাঠে যখন কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হবে তখন আদম আলাইহিস সালামের কাছে এসে সুপারিশ করার জন্য অনুরোধ করে বলবে যে, আপনি সকল মানুষের পিতা, আল্লাহ আপনাকে নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন, ফেরেশতাদের দিয়ে সাজদাহ করিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং وَعَلَّمَكَ أسْمَاءَ كُلَّ شَيْءٍ বা সবকিছুর নাম শিক্ষা দিয়েছেন, সুতরাং আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন।” (বুখারী ৪৪৭৬)
২. ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ ও মুজাহিদ বলেন, যে সমস্ত বস্তুর নাম আদমকে শিখিয়ে দিলেন সে বস্তুগুলো ফেরেশতাদের কাছে পেশ করে তাদের কাছে এগুলোর নাম জানতে চাওয়া হলো। (ইবন কাসীর)
৩১। এবং তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সে-সকল ফিরিশতাদের সম্মুখে পেশ করলেন এবং বললেন, ‘এই সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।’