ওয়ানুফিখা ফিসসূরি ফাইযা-হুম মিনাল আজদা-ছিইলা-রব্বিহিম ইয়ানছিলূন।উচ্চারণ
-তারপর একটি শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সহসা তারা নিজেদের রবের সামনে হাজির হবার জন্য নিজেদের কবর থেকে বের হয়ে পড়বে। ৪৭ তাফহীমুল কুরআন
এবং শিঙ্গায় (দ্বিতীয়) ফুঁ দেওয়া হবে। অমনি তারা আপন-আপন কবর থেকে বের হয়ে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে চলবে।মুফতী তাকী উসমানী
যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে তখনই তারা কাবর হতে ছুটে আসবে তাদের রবের দিকে।মুজিবুর রহমান
শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা কবর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে চলবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যখন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে তখনই তারা কবর হতে ছুটিয়া আসবে তাদের প্রতিপালকের দিকে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তৎক্ষণাৎ তারা কবর থেকে তাদের রবের দিকে ছুটে আসবে।আল-বায়ান
আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখনই তারা ক্ববর থেকে তাদের পালনকর্তার দিকে ছুটে আসবে।তাইসিরুল
আর শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে, তখন দেখো! তারা কবরগুলো থেকে তাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসবে।মাওলানা জহুরুল হক
৪৭
শিঙ্গা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ত্বা-হা, ৭৮ টীকা। শিঙ্গার প্রথম ফুঁৎকার ও দ্বিতীয় ফূঁৎকারের মধ্যে কত সময়ের ব্যবধান হবে, এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। এ সময়টা শত শত ও হাজার হাজার বছর দীর্ঘ হতে পারে। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বর্ণিত একটি হাদীসে নবী ﷺ বলেনঃ ঈসরাফীল (আঃ) শিঙ্গায় মুখ লাগিয়ে আরশের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং কখন ফূঁৎকার দেবার হুকুম হয় তার অপেক্ষা করছেন। শিঙ্গায় তিনবার ফুঁক দেয়া হবে। প্রথমটি হবেنفخة الفزع এটি পৃথিবী ও আকাশের সমস্ত সৃষ্টিকে হতবিহ্বল করে দেবে। দ্বিতীয়টি হবে نفخة الصعق এটি শোনার সাথে সাথেই সবাই মরে পড়ে যাবে। তারপর যখন একমাত্র ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী আল্লাহ ছাড়া আর কেউ থাকবে না তখন পৃথিবীকে সম্পূর্ণ পরিবর্তিত করে দেয়া হবে। উক্কাযের বাজারের সমতল ভূমির মতো তাকে এমনভাবে সমতল করা হবে যে, তার মধ্যে সামান্য একটু ভাঁজও কোথাও পড়ে থাকবে না। তারপর আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকে একটি বিকট ধমক দেবেন আর তা শুনতেই প্রত্যেক ব্যক্তিই যেখানে সে মরে পড়ে গিয়েছিল সেখানকার পরিবর্তিত জমি থেকেই উঠে দাঁড়াবে। এটিই শেষ ফুঁক বলে পরিচিত। এর নাম হবে نفخة القيام لرب العالمين কুরআন মজীদের বিভিন্ন ইশারা-ইঙ্গিত থেকে এ বিষয়বস্তুটিরই প্রতি সমর্থন পাওয়া গেছে। দৃষ্টান্তস্বরূপ দেখুন তাফহীমুল কুরআন, সূরা ইবরাহীম, ৫৬-৫৭ ও সূরা ত্বা-হা, ৮২-৮৩ টীকা।
৫১. আর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে ছুটে আসবে তাদের রবের দিকে।(১)
(১) صور শব্দের অর্থ শিঙ্গা। সঠিক মত অনুসারে কিয়ামতের শিঙ্গার ফুঁক দুটি। এক, ধ্বংসের ফুৎকার। যার কথা এ সূরারই ৪৯ নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে। দুই. পূনরুত্থানের জন্য ফুৎকার। এ আয়াতে এ ফুৎকারের কথাই আলোচনা করা হয়েছে। (আদওয়াউল বায়ান)। তখনকার অবস্থা বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখনই তারা কবর থেকে ছুটে আসবে তাদের প্রতিপালকের দিকে। এখানে ينسلون শব্দটি نسلان থেকে উদ্ভূত। যার অর্থ দ্রুত চলা। (ইবন কাসীর)
অন্য এক আয়াতে এসেছে, “যেদিন তাদের উপরস্থ জমীন বিদীর্ণ হবে এবং মানুষ ত্ৰস্ত-ব্যস্ত হয়ে ছুটোছুটি করবে, এ সমবেত সমাবেশকরণ আমার জন্য সহজ।” (সূরা কাফ: ৪৪) আরও এসেছে, “সেদিন তারা কবর থেকে বের হবে দ্রুতবেগে, মনে হবে তারা যেন কোন উপাসনালয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে”। (সূরা মা'আরিজ: ৪৩) অপর আয়াতে বলা হয়েছে, “হাশরের সময় মানুষ কবর থেকে উঠে দেখতে থাকবে।” (সূরা আয-যুমার: ৬৮)
(৫১) যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া হবে(1) তখন মানুষ কবর থেকে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে আসবে।
(1) প্রথম মত অনুযায়ী এটা দ্বিতীয় ফুৎকার এবং দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এটা তৃতীয় ফুৎকার হবে, যাকে نَفْخَةُ الْبَعْثِ وَالنُّشُوْرِ বলা হয়। এতে মানুষ কবর থেকে জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে। (ইবনে কাসীর)