وَإِذَا قِيلَ لَهُمۡ أَنفِقُواْ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ قَالَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَنُطۡعِمُ مَن لَّوۡ يَشَآءُ ٱللَّهُ أَطۡعَمَهُۥٓ إِنۡ أَنتُمۡ إِلَّا فِي ضَلَٰلٖ مُّبِينٖ

ওয়া ইযা-কীলা লাহুম আনফিকূমিম্মা-রঝাকাকুমুল্লা-হু ক-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আমানূ আনুত‘ইমুমাল্লাও ইয়াশাউল্লা-হু আত‘আমাহূ ইন আনতুম ইল্লা-ফী দালা-লিম মুবীন।উচ্চারণ

এবং যখন এদেরকে বলা হয়, আল্লাহ‌ তোমাদের যে রিযিক দান করেছেন তার মধ্য থেকে কিছু আল্লাহ‌র পথে খরচ করো তখন এসব কুফরীতে লিপ্ত লোক মু’মিনদেরকে জবাব দেয় “আমরা কি তাদেরকে খাওয়াবো, যাদেরকে আল্লাহ‌ চাইলে নিজেই খাওয়াতেন? তোমরা তো পরিষ্কার বিভ্রান্তির শিকার হয়েছো।” ৪৩ তাফহীমুল কুরআন

যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তা থেকে (গরীবদের জন্যও) ব্যয় কর, তখন কাফেরগণ মুসলিমদেরকে বলে, আমরা কি তাদেরকে খাবার খাওয়াব, যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করলে নিজেই খাওয়াতেন? (হে মুসলিমগণ!) তোমাদের অবস্থা এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তোমরা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পড়ে রয়েছ। #%২০%#মুফতী তাকী উসমানী

যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন তা হতে ব্যয় কর তখন কাফিরেরা মু’মিনদেরকে বলেঃ যাকে ইচ্ছা করলে আল্লাহ খাওয়াতে পারতেন আমরা কেন তাকে খাওয়াব? তোমরাতো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।মুজিবুর রহমান

যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন, তা থেকে ব্যয় কর। তখন কাফেররা মুমিনগণকে বলে, ইচ্ছা করলেই আল্লাহ যাকে খাওয়াতে পারতেন, আমরা তাকে কেন খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পতিত রয়েছ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখন এদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ্ তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দিয়েছেন তা হতে ব্যয় কর’ তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘যাকে আল্লাহ্ ইচ্ছা করলে খাওয়াতে পারতেন আমরা কি তাকে খাওয়াব ? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রহিয়াছ।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছেন তা থেকে তোমরা ব্যয় কর’, তখন কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, ‘আমরা কি তাকে খাদ্য দান করব, আল্লাহ চাইলে যাকে খাদ্য দান করতেন? তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় রয়েছ’।আল-বায়ান

তাদেরকে যখন বলা হয় ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তাত্থেকে তোমরা (আল্লাহর পথে) ব্যয় কর; তখন কাফিররা মু’মিনদেরকে বলে, ‘‘আমরা কি এমন লোককে খাওয়াবো আল্লাহ ইচ্ছে করলে যাকে খাওয়াতে পারতেন? তোমরা তো স্পষ্ট পথভ্রষ্টতে পড়ে আছ।তাইসিরুল

আর যখন তাদের বলা হয় -- "আল্লাহ্ তোমাদের যা রিযেক দিয়েছেন তা থেকে খরচ করো।" তখন যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে তাদের যারা বিশ্বাস করেছে -- "আমরা কি তাদের খাওয়াব যাদের, আল্লাহ্ যদি চাইতেন তবে তিনিই খাওয়াতে পারতেন? তোমরা স্পষ্ট ভুলের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও তো নও।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৩

এর মাধ্যমে একথা বলাই উদ্দেশ্য যে, কুফরী কেবল তাদের দৃষ্টিশক্তিকেই অন্ধ করে দেয়নি বরং তাদের নৈতিক অনুভূতিকেও নির্জীব করে দিয়েছে। তারা আল্লাহ‌র ব্যাপারেও সঠিক চিন্তা-ভাবনা করে না এবং আল্লাহ‌র সৃষ্টির সাথেও যথার্থ ব্যবহার করে না। তাদের কাছে রয়েছে প্রত্যেক উপদেশের উল্টা জবাব। প্রত্যেক পথভ্রষ্টতা ও অসদাচরণের জন্য একটি বিপরীত দর্শন। প্রত্যেক সৎকাজ থেকে দূরে থাকার জন্য একটি মনগড়া বাহানা তাদের কাছে তো রয়েছেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ কাফিরগণ বলে, হে মুমিনগণ! তোমরা স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে আছ। একদিকে বলছ, আল্লাহ তাআলাই রিযক দান করেন। তিনি সকলকেই রিযক দিতে সক্ষম। আবার আমাদেরকে বলছ, আমরা যেন গরীবকে অন্নদান করি। তা জীবিকা যদি আল্লাহর হাতেই থাকে তবে তিনিই তো তাদেরকে খাওয়াতে পারেন। আমাদেরকে কেন অন্নদান করতে বলছ? আর যদি তিনি ইচ্ছাকৃতই তাদেরকে অভুক্ত রেখে থাকেন, তবে আমরা কেন তার ইচ্ছার বিপরীতে তাদেরকে খাওয়াতে যাব? প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের মূঢ়তা। আল্লাহ তাআলা জীবিকাদাতা এর অর্থ এই নয় প্রত্যেককে তাঁর সরাসরি জীবিকা দিতে হবে। অন্যের মাধ্যমে দেওয়ালে সেটাও তাঁরই দেওয়া। মূলত মানুষকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যেই তিনি কাউকে ধনী ও কাউকে গরীব বানান। তিনি দেখতে চান ধনী কতটা শোকর আদায় করে আর গরীব কতটা সবর করে। সবরের দাবি হল গরীব সহজে কারও কাছে হাত পাতবে না আর শোকরের দাবি হল গরীবের প্রতি সহমর্মী হয়ে ধনী নিজ ধনের একটা অংশ তাদের পেছনে ব্যয় করবে। তা করলেই সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হল আর এরই জন্য তাকে আদেশ করা হচ্ছে ‘তোমাদের জীবিকা থেকে অর্থাৎ আল্লাহর দেওয়া ধন থেকে গরীবদের জন্য ব্যয় কর’। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৭. আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় কর। তখন কাফিররা মুমিনদেরকে বলে, যাকে আল্লাহ্‌ ইচ্ছে করলে খাওয়াতে পারতেন আমরা কি তাকে খাওয়াব? তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৭) যখন ওদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে যে রুযী দান করেছেন, তা হতে ব্যয় কর’,(1) তখন অবিশ্বাসীরা বিশ্বাসীদেরকে বলে, ‘যাকে ইচ্ছা করলে আল্লাহ খাওয়াতে পারতেন, আমরা কেন তাকে খাওয়াব? (2) তোমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছ।’ (3)

(1) অর্থাৎ, গরীব-মিসকীন এবং অভাবী ব্যক্তিদেরকে দান কর।

(2) অর্থাৎ, আল্লাহ চাইলে তাদেরকে গরীবই করত না, অতএব আমরা তাদেরকে দান করে আল্লাহর ইচ্ছার বিপরীত আচরণ কেন করব?

(3) অর্থাৎ, ‘গরীবদেরকে সাহায্য কর’ এই কথা বলে তোমরা স্পষ্ট ভুল করছ। তাদের এই কথা ঠিক ছিল যে, দারিদ্র্য ও অসচ্ছলতা আল্লাহর ইচ্ছায় ছিল, কিন্তু তাকে আল্লাহর আদেশ অমান্য করার বাহানা বানিয়ে নেওয়া ভুল ছিল। কারণ তাদেরকে সাহায্য করার আদেশদাতাও তো আল্লাহ ছিলেন। সুতরাং তাঁর সন্তুষ্টি তো গরীব-মিসকীনদেরকে সাহায্য করাতেই নিহিত আছে। কারণ ইচ্ছা এক জিনিস, আর সন্তুষ্টি অন্য এক জিনিস। ইচ্ছার সম্পর্ক সৃষ্টিগত বিষয়সমূহের সাথে এবং তার ফলে যা কিছু ঘটে, তার হিকমত ও যৌক্তিকতা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। আর সন্তুষ্টির সম্পর্ক শরয়ী বিষয়সমূহের সাথে, যা পালন করার আদেশ আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে, যাতে আমরা তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।