وَٱضۡرِبۡ لَهُم مَّثَلًا أَصۡحَٰبَ ٱلۡقَرۡيَةِ إِذۡ جَآءَهَا ٱلۡمُرۡسَلُونَ

ওয়াদরিব লাহুম মাছালান আসহা-বাল কারইয়াহ । ইযজাআহাল মুরছালূন।উচ্চারণ

তাদেরকে দৃষ্টান্তস্বরূপ সেই জনপদের লোকদের কাহিনী শোনাও যখন সেখানে রসূলগণ এসেছিল। ১০ তাফহীমুল কুরআন

এবং (হে রাসূল!) তুমি তাদের সামনে দৃষ্টান্ত পেশ কর এক জনপদবাসীর, যখন তাদের কাছে এসেছিল রাসূলগণ। মুফতী তাকী উসমানী

তাদের নিকট উপস্থিত কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; তাদের নিকট এসেছিল রাসূলগণ।মুজিবুর রহমান

আপনি তাদের কাছে সে জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করুন, যখন সেখানে রসূল আগমন করেছিলেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের নিকট বর্ণনা কর এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; যখন তাদের নিকট এসেছিল রাসূলগণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর এক জনপদের অধিবাসীদের উপমা তাদের কাছে বর্ণনা কর, যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিল।আল-বায়ান

তাদের কাছে দৃষ্টান্ত স্বরূপ এক জনপদবাসীদের কথা শুনিয়ে দাও যখন তাদের কাছে এসেছিল রসূলগণ।তাইসিরুল

আর তাদের জন্য উপমা ছোঁড়ো এক জনপদের অধিবাসীদের -- যখন সেখানে রসূলগণ এসেছিলেন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০

প্রাচীন কুরআন ব্যাখ্যাদাতাগণ সাধারণভাবে এ মত পোষণ করেছেন যে, এ জনপদটি হচ্ছে সিরিয়ার ইন্তাকিয়া শহর। আর এখানে যে রসূলদের কথা বলা হয়েছে তাদেরকে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ইসলাম প্রচারের জন্য পাঠিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে যে বিস্তারিত কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তাতে একথাও বলা হয়েছে যে, সে সময় ইন্তাখিশ ছিল এ এলাকার বাদশাহ। কিন্তু এ পুরো কাহিনীটিই ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, ইকরামাহ, কাবুল আহবার ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ প্রমুখ মনীষীগণ খৃস্টানদের অনির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে গ্রহণ করেছেন এবং ঐতিহাসিক দিক দিয়ে এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইন্তাকিয়ায় সালুতী পরিবারের (Seleucid dynasty) ১৩ জন বাদশাহ এনটিউকাস (Antiochus) নামে রাজ্য শাসন করেছিল। এ নামের শেষ শাসকের শাসন এবং সে সাথে গোটা পরিবারের শাসনকালও খৃস্টপূর্ব ৬৫ সালে শেষ হয়ে গিয়েছিল। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের যুগে ইন্তাকিয়াসহ সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের সমগ্র এলাকা রোমানদের শাসনাধীনে ছিল। তাছাড়া হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম নিজেই তাঁর সহচরদেরকে ইসলাম প্রচারের জন্য ইন্তাকিয়ায় পাঠিয়েছিলেন, খৃস্টানদের কোন নির্ভরযোগ্য বর্ণনা থেকে এ মর্মে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। পক্ষান্তরে বাইবেলের ‘প্রেরিতদের কার্য’ অধ্যায় থেকে জানা যায়, ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার কয়েক বছর পর খৃস্টান ধর্মপ্রচারকগণ প্রথমবার সেখানে পৌঁছেছিলেন। এখন একথা সুস্পষ্ট যে, যাদেরকে আল্লাহ‌ রসুল বানিয়ে পাঠাননি এবং আল্লাহ‌র রসূল যাদেরকে নিযুক্ত করেননি তারা যদি নিজস্ব উদ্যোগে ধর্মপ্রচারে বের হন, তাহলে কোন ধরনের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তাদেরকে আল্লাহ‌র রসূল গণ্য করা যেতে পারে না। তাছাড়া বাইবেলের বর্ণনা মতে ইন্তাকিয়া হচ্ছে প্রথম শহর যেখানকার অইসরাঈলিরা বিপুল সংখ্যায় ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং ঈসায়ী গীর্জা অসাধারণ সাফল্যের অধিকারী হয়েছিল। অথচ কুরআন এখানে যে জনপদটির কথা বলছে সেটি এমন একটি জনপদ ছিল যার অধিবাসীরা রসূলদের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তার ফলে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ‌র আযাবের শিকার হয়েছিল। ইন্তাকিয়া যে এমন ধরনের ধ্বংসের সম্মুখীন হয়েছিল যাকে রিসালাত অস্বীকার করার কারণে আগত আযাব গণ্য করা যেতে পারে, তার কোন প্রমাণ ইতিহাসে নেই।

এসব কারণে জনবসতি বলে এখানে ইন্তাকিয়া বুঝানো হয়েছে একথা গ্রহণযোগ্য নয়। কুরআন বা হাদীসে এ জনবসতিটিকে চিহ্নিত করা হয়নি। এমনকি এ রসূলগণ কারা ছিলেন এবং কোন যুগে এদেরকে পাঠানো হয়েছিল, কোন নির্ভরযোগ্য সূত্রে একথাও জানা যায়নি। কুরআন মজীদ যে উদ্দেশ্যে এ কাহিনী এখানে বর্ণনা করছে তা বুঝার জন্য জনপদের ও রসূলদের নাম জানার কোন প্রয়োজন নেই। কাহিনী বর্ণনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে কুরাইশদেরকে একথা জানানো যে, তোমরা হঠকারিতা ও সত্য অস্বীকার করার সে একই নীতির ওপর চলছো যার ওপর চলেছিল এ জনপদের লোকেরা এবং তারা যে পরিণাম ভোগ করেছিল সে একই পরিণামের সম্মুখীন হবার জন্য তোমরা প্রস্তুতি নিচ্ছো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদে না এ জনপদটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে আর না সেই রাসূলগণের নাম, যারা এ জনপদে প্রেরিত হয়েছিলেন। কোন কোন বর্ণনায় বলা হয়েছে এ জনপদটি হল শামের প্রসিদ্ধ শহর ‘আনতাকিয়া’। কিন্তু সেসব বর্ণনা তেমন শক্তিশালী নয় এবং ঐতিহাসিকভাবেও তা সমর্থিত নয়। অন্যদিকে আরবী ভাষায় রাসূল (প্রেরিত) শব্দটি দ্বারা এমন যে-কোন লোককে বোঝানো হয়, যে কারও বার্তা নিয়ে অন্য কারও কাছে যায়। কিন্তু কুরআন মাজীদে এ শব্দটি সাধারণত আল্লাহ তাআলার প্রেরিত নবী-রাসূলগণের জন্যই ব্যবহৃত হয়েছে। সুতরাং এটাই বেশি প্রকাশ যে, এস্থলে যে তিনজনের কথা বলা হয়েছে তারা নবী ছিলেন। কোন কোন রেওয়ায়াতে তাদের নাম বলা হয়েছে ‘সাদিক’, সাদূক ও শালূম বা শামউন। কিন্তু এসব রেওয়ায়াতও তেমন শক্তিশালী নয়। কোন কোন মুফাসসিরের ধারণা তাঁরা নবী ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শিষ্য। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামই তাঁদেরকে ওই জনপদে তাবলীগের জন্য পাঠিয়েছিলেন। তাঁদের মতে اَلْمُرْسَلُوْنَ শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু এখানে তাঁদেরকে প্রেরণের কাজটিকে যেহেতু আল্লাহ তাআলা নিজের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। তাই এটাই বেশি স্পষ্ট মনে হয় যে, তাঁরা নবীই ছিলেন। প্রথমে দু’জন নবী পাঠানো হয়েছিল, তারপর তৃতীয় আরেকজনকে। যাই হোক, এস্থলে কুরআন মাজীদ যে সবক দিতে চাচ্ছে তা সে জনপদটির নাম জানা এবং প্রেরিত ব্যক্তিবর্গের পরিচয় লাভের উপর নির্ভরশীল নয়। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা তাদের নাম জানাননি। আমাদেরও এর অনুসন্ধানের পেছনে পড়ার কোন দরকার নেই।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩. আর তাদের কাছে বর্ণনা করুন এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত; যখন তাদের কাছে এসেছিল রাসূলগণ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৩) ওদের নিকট এক জনপদের অধিবাসীদের দৃষ্টান্ত উপস্থিত কর, যাদের নিকট রসূল এসেছিল।(1)

(1) যাতে মক্কাবাসী এটা বুঝতে পারে যে, তুমি কোন নতুন রসূল নও; বরং রসূল ও নবীগণের আগমনের এই ধারাবাহিকতা পূর্ব থেকেই চলে আসছে।