ওয়া মিন আহলিল কিতা-বি মান ইন তা‘মানহু বিকিনতা-রিইঁ ইউআদ্দিহী ইলাইকা ওয়া মিনহুম মান ইন তা‘মানহু বিদীনা-রিল লা-ইউআদ্দিহীইলাইকা ইল্লা-মা-দুমতা ‘আলাইহি কাইমান যা-লিকা বিআন্নাহুম ক-লূলাইছা ‘আলাইনা-ফিল উম্মিইয়ীনা ছাবীলুওঁ ওয়া ইয়াকূলূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা ওয়াহুম ইয়া‘লামূন।উচ্চারণ
আহলি কিতাবদের মধ্যে কেউ এমন আছে, তার ওপর আস্থাস্থাপন করে যদি তাকে সম্পদের স্তূপ দান করো, তাহলেও সে তোমার সম্পদ তোমাকে ফিরিয়ে দেবে। আবার তাদের কারো অবস্থা এমন যে, যদি তুমি তার ওপর একটি মাত্র দীনারের ব্যাপারেও আস্থাস্থাপন করো, তাহলে সে তা তোমাকে ফিরিয়ে দেবে না, তবে যদি তোমরা তার ওপর চড়াও হয়ে যাও। তাদের এই নৈতিক অবস্থার কারণ হচ্ছে এই যে, তারা বলেঃ “নিরক্ষরদের (অ–ইহুদী) ব্যাপারে আমাদের কোন দায়দায়িত্ব নেই।” ৬৪ আর এটা একটা সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট কথা তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করছে। অথচ তারা জানে, (আল্লাহ্ এমন কোন কথা বলেননি। ) তাফহীমুল কুরআন
কিতাবীদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার কাছে তুমি সম্পদের একটা স্তূপও যদি আমানত রাখ, তবে সে তা তোমাকে ওয়াপস করবে। আবার তাদের মধ্যেই এমন লোকও আছে, যার কাছে একটি দীনারও আমানত রাখলে সে তোমাকে তা ফেরত দেবে না যদি না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়িয়ে থাক। তাদের এ কর্মপন্থা এ কারণে যে, তারা বলে থাকে, উম্মীদের (অর্থাৎ অইয়াহুদী আরবদের) ব্যাপারে আমাদের থেকে কোন কৈফিয়ত নেওয়া হবে না। #%৩৮%# আর (এভাবে) জেনে শুনে তারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যাচার করে।মুফতী তাকী উসমানী
কিতাবীদের মধ্যে এরূপ আছে যে, যদি তুমি তার নিকট পুঞ্জীভূত ধনরাশিও গচ্ছিত রেখে দাও তবুও সে তা তোমার নিকট প্রত্যর্পণ করবে এবং তাদের মধ্যে এরূপও আছে যে, যদি তুমি তার নিকট একটি দীনারও গচ্ছিত রাখ তাহলে সে তাও তোমাকে প্রত্যর্পণ করবেনা যে পর্যন্ত তুমি তার শিরোপরি দন্ডায়মান থাক। কারণ তারা বলে যে, আমাদের উপর ঐ অশিক্ষিতদের কোন দায় দায়িত্ব নেই এবং তারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, যা তারাও জানে।মুজিবুর রহমান
কোন কোন আহলে কিতাব এমনও রয়েছে, তোমরা যদি তাদের কাছে বহু ধন-সম্পদ আমানত রাখ, তাহলেও তা তোমাদের যথারীতি পরিশোধ করবে। আর তোদের মধ্যে অনেক এমনও রয়েছে যারা একটি দীনার গচ্ছিত রাখলেও ফেরত দেবে না-যে পর্যন্ত না তুমি তার মাথার উপর দাঁড়াতে পারবে। এটা এজন্য যে, তারা বলে রেখেছে যে, উম্মীদের অধিকার বিনষ্ট করাতে আমাদের কোন পাপ নেই। আর তারা আল্লাহ সম্পর্কে জেনে শুনেই মিথ্যা বলে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে বিপুল সম্পদ আমানত রাখলেও ফেরত দিবে; আবার এমন লোকও আছে যার নিকট একটি দীনারও আমানত রাখলে তার পিছনে লেগে না থাকলে সে ফেরত দিবে না, এটা এ কারণে যে, তারা বলে, ‘নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন বাধ্যবাধকতা নেই’, এবং তারা জেনে-শুনে আল্লাহ্ সম্পর্কে মিথ্যা বলে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর কিতাবীদের মধ্যে এমন ব্যক্তি আছে, যদি তার নিকট তুমি অঢেল সম্পদ আমানত রাখ, তবুও সে তা তোমার নিকট আদায় করে দেবে এবং তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছে, যদি তুমি তার নিকট এক দীনার আমানত রাখ, তবে সর্বোচ্চ তাগাদা ছাড়া সে তা তোমাকে ফেরত দেবে না। এটি এ কারণে যে, তারা বলে, ‘উম্মীদের ব্যাপারে আমাদের উপর কোন পাপ নেই’। আর তারা জেনে-শুনে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা বলে।আল-বায়ান
আহলে কিতাবের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে যে, যদি তাদের নিকট স্বর্ণের স্তুপ গচ্ছিত রাখ, তবে তোমাকে তা ফেরত দেবে, পক্ষান্তরে তাদের কেউ কেউ এমন যে, একটি দিনারও যদি তাদের নিকট গচ্ছিত রাখ, তার পেছনে লেগে না থাকলে সে তোমাকে তা ফেরত দেবে না, এটা এজন্য যে, তারা বলে, ‘নিরক্ষরদের প্রতি আমাদের কোন দায়-দায়িত্ব নেই’, বস্তুতঃ তারা জেনে শুনে আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যে বলে।তাইসিরুল
আর গ্রন্থপ্রাপ্তদের মধ্যে এমন লোক আছে যার কাছে তুমি যদি একগাদা আমানত রাখো সে তোমাকে তা ফিরিয়ে দেবে, আর তাদের মধ্যে এমনও আছে যার কাছে যদি তুমি একটি দিনার গচ্ছিত রাখো সে তোমাকে তা ফিরিয়ে দেবে না, যদি না তুমি তার কাছে দাঁড়িয়ে থাকো। এইরূপ কারণ তারা বলে -- "অক্ষরজ্ঞানহীনদের ব্যাপারে আমাদের কোনো পথ ধরে চলার দায়িত্ব নেই।" আর তারা আল্লাহ্ সন্বন্ধে মিথ্যারোপ করে, যদিও তারা জানে।মাওলানা জহুরুল হক
৬৪
এটা কেবল সাধারণ ইহুদীদের মূর্খতাপ্রসূত ধারণাই ছিল না। বরং এটাই ছিল তাদের ধর্মীয় শিক্ষা। তাদের বড় বড় ধর্মীয় নেতারা এই ধর্মীয় বিধানও দিতো। বাইবেলে ঋণ ও সূদের বিধানের ক্ষেত্রে ইসরাঈলী ও অ-ইসরাঈলীদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করা হয়েছে। (দ্বিতীয় বিবরণ ১৫: ৩-২৩: ২০) তালমূদে বলা হয়েছে, যদি কোন ইসরাঈলীর বলদ কোন অ-ইসরাঈলীর বলদকে আহত করে তাহলে এ জন্য কোন জরিমানা দিতে হবে না।কোন ব্যক্তি যদি কোন জিনিস কুড়িয়ে পায় তাহলে তাকে চারপাশের জনবসতির দিকে নজর দিতে হবে। চারপাশে যদি ইসরাঈলীদের বসতি থাকে, তাহলে তাকে জিনিসটির ঘোষণা দিতে হবে। আর যদি অ-ইসরাঈলীদের বসবাস থাকে, তাহলে বিনা ঘোষণায় সে জিনিসটি নিয়ে নিতে পারে। রাব্বী ইসমাঈল বলেনঃ যদি ইসরাঈলী ও অ-ইসরাঈলীর মামলা বিচারপতির আদালতে আসে, তাহলে বিচারপতি ধর্মীয় আইনের আওতায় নিজের ভাইকে জয়ী করতে পারলে তাই করবেন এবং বলবেন, এটা তো আমাদের আইন। আর অ-ইসরাঈলীদের আইনের আওতায় জয়ী করতে পারলে তাই করবেন এবং বলবেন, এটা তো তোমাদের আইন। যদি দু’টি আইনের কোনটার সাহায্যেই ইসরাইলীকে জয়ী করানো সম্ভব না হয়, তাহলে যে কোন বাহানাবাজী ও কৌশল অবলম্বন করে ইসরাঈলীকে জয়ী করা যায়, তা তাকে করতে হবে। রাব্বী শামওয়াঈল বলেনঃ অ-ইসরাঈলীর প্রতিটি ভুলের সুযোগ গ্রহণ করা উচিত। (TALMUDIC MISCELLANY ISSAC HERSHON, London 1880. Page-37, 220, 221)
ইয়াহুদীরা বলত, আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র। বাকি সমস্ত মানুষ আমাদের দাস ও সেবক। সেই সুবাদে তাদের অর্থ-সম্পদ আমাদের জন্য হালাল। যেভাবেই তা ভোগ করি না কেন, সেজন্য আমাদেরকে কোন জবাবদিহি করতে হবে না। -অনুবাদক
৭৫. আর কিতাবীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যে বিপুল সম্পদ আমানত রাখলেও ফেরত দেবে(১); আবার এমন লোকও আছে যার কাছে একটি দিনার আমানত রাখলেও তার উপর সৰ্ব্বোচ্চ তাগাদা না দিলে সে তা ফেরত দেবে না। এটা এ কারণে যে, তারা বলে, উম্মীদের ব্যাপারে আমাদের উপর কোন বাধ্যবাধকতা নেই’(২) আর তারা জেনে-বুঝে আল্লাহর উপর মিথ্যা বলে।
(১) এ আয়াতে আমানতে বিশ্বস্তদের প্রশংসা করা হয়েছে। আয়াতে ‘কিছু সংখ্যক লোক’ বলে যদি ঐসব আহলে-কিতাবকে বুঝানো হয়ে থাকে, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল, তবে এ প্রশংসায় কোনরূপ জটিলতা নেই। কিন্তু যদি সাধারণ আহলে-কিতাব বুঝানো হয়ে থাকে, যারা অমুসলিম, তবে প্রশ্ন হয় যে, কাফেরের কোন আমলই গ্রহণযোগ্য নয়; এমতাবস্থায় তার প্রশংসার অর্থ কি? উত্তর এই যে, প্রশংসা করলেই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়া বুঝায় না। এখানে একথা বলা উদ্দেশ্য যে, ভাল কাজ কাফেরের হলেও তা এক পর্যায়ে ভালই। সে এর উপকার দুনিয়াতে সুখ্যাতির আকারে পাবে। এ বর্ণনায় একথাও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইসলামে বিদ্বেষ ও সংকীর্ণতা নেই, বরং সে খোলা মনে প্রতিপক্ষের সদগুণাবলীরও প্রশংসা করে।
(২) কাতাদা বলেন, ইয়াহুদীরা বলত: আরবদের যে সমস্ত সম্পদ আমাদের হস্তগত হবে সেটা ফেরত দেয়ার কোন সুযোগ নেই। (তাবারী) বস্তুত ইয়াহুদীরা তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য সকল মানুষকে ‘উমামী’ বা ‘জুয়ায়ী’ ইত্যাদি নাম দিয়ে থাকে। তারা মনে করে যে, তারাই আল্লাহর একমাত্র পছন্দনীয় জাতি। তারা ব্যতীত আর কারও জান বা মালের কোন সম্মান থাকতে পারে না।
(৭৫) ঐশীগ্রন্থধারীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যে, তার কাছে বিপুল সম্পদ আমানত রাখলেও (চাওয়া মাত্র) সে ফেরৎ দেবে। পক্ষান্তরে তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যার নিকট একটি দীনার (স্বর্ণমুদ্রা)ও আমানত রাখলে তার পিছনে লেগে না থাকলে সে ফেরৎ দেবে না। কারণ, তারা বলে যে, ‘এই অশিক্ষিত (অইয়াহুদী)দের অধিকার হরণে আমাদের কোন পাপ নেই।’ বস্তুতঃ তারা জেনে-শুনে আল্লাহর নামে মিথ্যা বলে।(1)
(1) أُمِّيِيْنَ (নিরক্ষর-অশিক্ষিত) বলতে আরবের মুশরিকদেরকে বুঝানো হয়েছে। বিশ্বাসঘাতক ইয়াহুদীরা দাবী করত যে, এরা যেহেতু মুশরিক তাই তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করা বৈধ, এতে কোন গুনাহ নেই। মহান আল্লাহ বললেন, এরা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলছে। অপরের সম্পদ আত্মসাৎ করার অনুমতি আল্লাহ কিভাবে দিতে পারেন? কোন কোন তফসীরের বর্ণনায় এসেছে যে, নবী করীম (সাঃ) এ কথা শুনে বললেন, ‘‘আল্লাহর শত্রুরা মিথ্যা বলেছে। কেবল আমানত ছাড়া জাহেলী যুগের সমস্ত জিনিস আমার পায়ের নীচে। আমানত সর্বাবস্থায় আদায় করতে হবে, তাতে তা কোন সৎ লোকের হোক বা অসৎ লোকের।’’ (ইবনে কাসীর-ফাতহুল ক্বাদীর) অনুতাপের বিষয় যে, ইয়াহুদীদের মত বর্তমানেও অনেক মুসলিম মুশরিকদের মাল আত্মসাৎ করার জন্য বলছে যে, ‘দারুল হারব’ (ইসলামের শত্রু কাফের দেশ)এ সূদ হালাল এবং শত্রুর মালের কোন হিফাযত নেই।