ওয়ামা-ইয়াছতাবিলবাহর-নি হা-যা-‘আযবুন ফুর-তুন ছাইগুন শার-বুহূওয়া হা-যা-মিলহুন উজা-জুওঁ ওয়া মিন কুল্লিন তা’কুলূনা লাহমান তারিইইয়াওঁ ওয়া তাছতাখরিজূনা হিলয়াতান তালবাছূনাহা-ওয়া তারল ফুলকা ফীহি মাওয়া-খিরঁলিতাবতাগু মিন ফাদলিহী ওয়া লা‘আল্লাকুম তাশকুরূন।উচ্চারণ
পানির দু’টি উৎস সমান নয়। ২৭ একটি সুমিষ্ট ও পিপাসা নিবারণকারী সুস্বাদু পানীয় এবং অন্যটি ভীষণ লবণাক্ত যা গলা ছিলে দেয়, কিন্তু উভয়টি থেকে তোমরা তরতাজা গোশত লাভ করে থাকো, ২৮ পরিধান করার জন্য সৌন্দর্যের সরঞ্জাম বের করো ২৯ এবং এ পানির মধ্যে তোমরা দেখতে থাকো নৌযান তার বুক চিরে ভেসে চলছে, যাতে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো এবং তাঁর প্রতি কতৃজ্ঞ হও। তাফহীমুল কুরআন
দু’টি দরিয়া সমান নয়। একটি মিঠা, তৃষ্ণা নিবারক, সুপেয় আর অন্যটি অতি লোনা। প্রত্যেকটি থেকেই তোমরা খাও (মাছের) তাজা গোশত ও আহরণ কর অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর। আর তোমরা জলযানসমূহকে দেখ তা (দরিয়ার) পানি চিরে চলাচল করে, যাতে তোমরা অনুসন্ধান করতে পার আল্লাহর অনুগ্রহ এবং যাতে তোমরা শোকর আদায় কর।মুফতী তাকী উসমানী
দু’টি দরিয়া একরূপ নয়; একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হতে তোমরা তাজা গোশত আহার কর এবং অলংকার যা তোমরা পরিধান কর, এবং রত্নাবলী আহরণ কর এবং তোমরা দেখ যে, ওর বুক চিরে নৌযান চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।মুজিবুর রহমান
দু’টি সমুদ্র সমান হয় না-একটি মিঠা ও তৃষ্ণানিবারক এবং অপরটি লোনা। ঊভয়টি থেকেই তোমরা তাজা গোশত (মৎস) আহার কর এবং পরিধানে ব্যবহার্য গয়নাগাটি আহরণ কর। তুমি তাতে তার বুক চিরে জাহাজ চলতে দেখ, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষণ কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
দরিয়া দুইটি একরূপ নয় : একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা, খর। প্রত্যেকটি হতে তোমরা তাজা গোশ্ত আহার কর এবং আহরণ কর অলংকার যা তোমরা পরিধান কর, এবং তোমরা দেখ এর বুক চিরিয়া নৌযান চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর দু’টি সমুদ্র সমান নয়; একটি খুবই সুমিষ্ট ও সুপেয়, আরেকটি অত্যন্ত লবণাক্ত আর প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত খাও এবং আহরণ কর অলঙ্কার* যা তোমরা পরিধান কর। আর তুমি তাতে দেখ নৌযান পানি চিরে চলাচল করে। যাতে তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।আল-বায়ান
দু’টি দরিয়াও এক রকম নয়। একটি সুমিষ্ট, সুস্বাদু, সুপেয়; অন্যটি লবণাক্ত, বিস্বাদ। তথাপি তোমরা সকল (প্রকার পানি) থেকে তাজা গোশত আহার কর আর বের কর অলংকার- পরিধান করার জন্যে। তোমরা দেখতে পাও নৌযানগুলো ঢেউয়ের বুক চিরে চলাচল করে যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ খোঁজ করতে পার, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।তাইসিরুল
আর দুটি সাগর একসমান নয়, এই একটি বিশুদ্ধ, তৃষ্ণানিবারক, যার পানকরণ সুমিষ্ট, আর এইটি লোনা, বিস্বাদ। তবুও তাদের প্রত্যেকটি থেকে তোমরা টাটকা মাংস খাও, আর বের করে আনো অলংকার যা তোমরা পরো। আর তুমি দেখতে পাও জাহাজগুলো তাতে বুকচিরে চলছে যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে রোজগার করতে পারো, আর যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো।মাওলানা জহুরুল হক
২৭
অর্থাৎ পানির একটি উৎস যা সমুদ্রগুলোর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এবং পানির দ্বিতীয় উৎসটি গড়ে উঠেছে নদী, ঝরণা, হ্রদ ইত্যাদির সমন্বয়ে।
২৮
অর্থাৎ জলজ প্রাণীর গোশত।
২৯
অর্থাৎ মুক্তা, প্রবাল এবং কোন কোন নদী-সাগর থেকে হীরা ও সোনা।
পূর্বে একাধিকবার বলা হয়েছে, কুরআন মাজীদের পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ সন্ধানের অর্থ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা আহরণ করা। এ পরিভাষার ভেতর ইঙ্গিত রয়েছে যে, মানুষ যা কামাই-রোজগার করে, তাকে তারা তাদের মেহনতের ফসল মনে করে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ। তিনি অনুগ্রহ না করলে তাদের যাবতীয় মেহনত বৃথা যেত, তাদের অর্জিত হত না কিছুই। সুতরাং যা-কিছু রোজগার হয়, তার জন্য আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা উচিত।
১২. আর সাগর দুটি একরূপ নয়ঃ একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অন্যটির পানি লোনা, খর। আর প্রত্যেকটি থেকে তোমরা তাজা গোশত খাও এবং আহরণ কর অলংকার, যা তোমরা পরিধান কর। আর তোমরা দেখ তার বুক চিরে নৌযান চলাচল করে, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্ৰকাশ কর।
(১২) দুটি সাগর একরূপ নয়; একটির পানি সুমিষ্ট ও সুপেয়, অপরটির পানি লোনা ও বিস্বাদ। প্রত্যেকটি হতে তোমরা তাজা গোশত (মাছ) ভক্ষণ করে থাক এবং তোমাদের ব্যবহার্য রত্নাবলী আহরণ কর। আর তোমরা দেখ ওর বুক চিরে জলযান চলাচল করে;(1) যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করতে পার এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও।
(1) مواخر ঐ সকল জলজাহাজকে বলা হয় যা পানি চিরে চলাফেরা করতে থাকে। এই আয়াতে উল্লিখিত অন্য বস্তুসমূহের ব্যাখ্যা সূরা ফুরকানে (৫৩নং আয়াতে) অতিবাহিত হয়ে গেছে।