ওয়া হীলা বাইনাহুম ওয়া বাইনা মা-ইয়াশতাহূনা কামা-ফু‘ইলা বিআশইয়া-‘ইহিম মিন কাবলু ইন্নাহুম ক-নূফী শাক্কিম মুরীব।উচ্চারণ
সেসময় তারা যে জিনিসের আকাংখা করতে থাকবে তা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করে দেয়া হবে যেমনটি তাদের পূর্বসূরী সমপস্থীরা বঞ্চিত হয়েছিল। তারা বড়ই বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে পতিত ছিল। ৭৬ তাফহীমুল কুরআন
তখন তারা যার (অর্থাৎ যে ঈমানের) আকাঙ্ক্ষা করবে তার ও তাদের মধ্যে অন্তরাল করে দেওয়া হবে, যেমন করা হয়েছিল তাদের পূর্বে তাদের অনুরূপ লোকদের সাথে। প্রকৃতপক্ষে তারা এক বিভ্রান্তকর সন্দেহে পতিত ছিল।মুফতী তাকী উসমানী
তাদের ও তাদের প্রবৃত্তির মাঝে অন্তরাল করা হয়েছে, যেমন পূর্বে করা হয়েছিল তাদের সমপন্থীদের ক্ষেত্রে। তারা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে।মুজিবুর রহমান
তাদের ও তাদের বাসনার মধ্যে অন্তরাল হয়ে গেছে, যেমন-তাদের সতীর্থদের সাথেও এরূপ করা হয়েছে, যারা তাদের পূর্বে ছিল। তারা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহে পতিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এদের ও এদের বাসনার মধ্যে অন্তরাল করা হয়েছে, যেমন পূর্বে করা হয়েছিল এদের সমপন্থীদের ক্ষেত্রে। এরা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাদের ও তারা যা কামনা করত তার মধ্যে অন্তরাল করে দেয়া হবে, যেমন ইতঃপূর্বে তাদের সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। নিশ্চয় তারা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহে পতিত।আল-বায়ান
তাদের এবং তাদের কামনা-বাসনার মাঝে রেখে দেয়া হয়েছে এক প্রাচীর। তাদের মতের ও পথের লোকেদের ক্ষেত্রে পূর্বেও এমনটিই করা হয়েছিল। তারা ছিল সংশয়পূর্ণ সন্দেহে পতিত।তাইসিরুল
আর তাদের মধ্যে ও তারা যা কামনা করে তার মধ্যে এক বেড়া খাড়া করা হবে, -- যেমন করা হয়েছিল ইতিপূর্বে এদের সমগোত্রীয়দের ক্ষেত্রে। নিঃসন্দেহ তারা এক ঘোর সন্দেহে রয়েছে ।মাওলানা জহুরুল হক
৭৬
আসলে শিরক, নাস্তিক্যবাদ ও আখেরাত অস্বীকার করার বিশ্বাস কোন ব্যক্তি নিশ্চয়তার ভিত্তিতে গ্রহণ করে না এবং করতে পারে না। কারণ নিশ্চয়তা একমাত্র সঠিক জ্ঞান জানার ভিত্তিতেই অর্জিত হতে পারে। আর আল্লাহ নেই অথবা বহু আল্লাহ আছে কিংবা বহু সত্তা আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী অথবা পরকাল হওয়া উচিত নয় ইত্যাকার বিষয়গুলো সম্পর্কে কোন ব্যক্তিরই সঠিক জ্ঞান নেই। কাজেই যে ব্যক্তিই দুনিয়ায় এ আকীদা বিশ্বাস অবলম্বন করেছে সে নিছক আন্দাজ অনুমান ও ধারণার ভিত্তিতে একটি ইমারত নির্মাণ করেছে। এ ইমারতের মুল ভিত্তি সন্দেহ-সংশয় ছাড়া আর কিছু নয়। আর এ সন্দেহ তাকে নিয়ে গেছে ঘোরতর বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতার দিকে। আল্লাহর অস্তিত্বে সে সন্দিহান হয়েছে। তাওহীদের অস্তিত্বে সন্দিহান হয়েছে। আখেরাতের আগমনে সন্দেহ পোষণ করেছে। এমনকি এ সন্দেহকে সে নিশ্চিত বিশ্বাসের মতো মনের মধ্যে বদ্ধমূল করে নবীদের কোন কথা মানেনি এবং নিজের জীবনের সমগ্র কর্মকালকে একটি ভুল পথে ব্যয় করে দিয়েছে।
৫৪. আর তাদের ও তাদের বাসনার মধ্যে অন্তরাল করা হয়েছে(১), যেমন আগে করা হয়েছিল এদের সমপন্থীদের ক্ষেত্রে(২) নিশ্চয় তারা ছিল বিভ্ৰান্তিকর সন্দেহের মধ্যে।
(১) হাসান বসরী বলেন, এর অর্থ, তাদের ও আল্লাহর উপর ঈমানের মাঝে ব্যবধান রেখে দেয়া হয়েছে। (তাবারী) মুজাহিদ বলেন, তাদের ও তারা যে সমস্ত সম্পদ, সন্তানসন্ততি ও দুনিয়ার সামগ্ৰী কামনা করে সেগুলোর মধ্যে অন্তরায় তৈরী করা হয়েছে। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(২) কাতাদাহ বলেন, এর অর্থ, পূর্বেও যারা ঈমান আনেনি, তারা যখন আল্লাহর আযাব নাযিল হতে দেখেছিল তখন ঈমান আনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল, কিন্তু তাদের ঈমান তখন আর গ্রহণ করা হয়নি। (তাবারী)
(৫৪) এদের এবং এদের কামনার মধ্যে অন্তরাল সৃষ্টি করা হয়েছে,(1) যেমন করা হয়েছিল এদের পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রে। (2) ওরা ছিল বিভ্রান্তিকর সন্দেহে সন্দিহান। (3)
(1) অর্থাৎ, কিয়ামত দিবসে তারা চাইবে, তাদের ঈমান গ্রহণ করে নেওয়া হোক, শাস্তি থেকে তাদের পরিত্রাণ হয়ে যাক। কিন্তু তাদের ও তাদের মনোবাঞ্ছার মাঝে পর্দা স্থাপন করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ তাদের সেই মনোবাঞ্ছা রদ করা হবে।
(2) অর্থাৎ, পূর্ববর্তী উম্মতের ঈমানও সেই সময় গ্রহণ করা হয়নি, যখন তারা শাস্তি স্বচক্ষে অবলোকন করার পর ঈমান এনেছিল।
(3) সুতরাং বর্তমানে শাস্তি অবলোকন করার পর তাদের ঈমান কিভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? ক্বাতাদা (রঃ) বলেন, ‘সন্দেহ থেকে দূরে থাক। কারণ, যে ব্যক্তি সন্দেহ রাখা অবস্থায় ইন্তিকাল করবে, সে সেই অবস্থায় পুনরুত্থান করবে এবং যে ব্যক্তি প্রত্যয় রাখা অবস্থায় ইন্তিকাল করবে, সে কিয়ামতের দিন প্রত্যয় রাখা অবস্থায় পুনরুত্থান করবে।’ (ইবনে কাসীর)