وَقَالُوٓاْ ءَامَنَّا بِهِۦ وَأَنَّىٰ لَهُمُ ٱلتَّنَاوُشُ مِن مَّكَانِۭ بَعِيدٖ

ওয়া ক-লূআ-মান্না-বিহী ওয়া আন্না-লাহুমুততানা-উশু মিম মাক-নিম বা‘ঈদ।উচ্চারণ

সেসময় তারা বলবে, আমরা তার প্রতি ঈমান আনলাম, ৭৩ অথচ দূরে চলে যাওয়া জিনিস নাগালের মধ্যে আসতে পারে কেমন করে? ৭৪ তাফহীমুল কুরআন

এবং (তখন তারা) বলবে, আমরা তার প্রতি ঈমান আনলাম। কিন্তু এতটা দূরবর্তী স্থান থেকে তারা কোন জিনিসের নাগাল পাবে কী করে? #%২৫%#মুফতী তাকী উসমানী

আর তারা বলবেঃ আমরা তাঁকে বিশ্বাস করলাম। কিন্তু এত দূরবর্তী স্থান হতে তারা নাগাল পাবে কিরূপে?মুজিবুর রহমান

তারা বলবে, আমরা সত্যে বিশ্বাস স্থাপন করলাম। কিন্তু তারা এতদূর থেকে তার নাগাল পাবে কেমন করে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং এরা বলবে, ‘আমরা তাতে ঈমান আনলাম।’ কিন্তু এত দ‚রবর্তী স্থান হতে এরা নাগাল পাবে কিরূপে ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা বলবে, ‘আমরা তাতে ঈমান আনলাম’। কিন্তু দূরবর্তী স্থান থেকে তারা কিভাবে ঈমানের নাগাল পাবে?আল-বায়ান

আর তারা বলবে- (এখন) আমরা ঈমান আনলাম। কিন্তু (ঈমান যেখানে আনতে হত সে স্থান থেকে তারা তো বহু দূরে এসে পড়েছে) এত দূরের জায়গা থেকে তারা ঈমানের নাগাল পাবে কীভাবে?তাইসিরুল

আর তারা বলবে -- "আমরা এতে বিশ্বাস করি।" কিন্তু কেমন করে সুদূর স্থান থেকে তাদের জন্য পুনরাগমন সম্ভব হবে?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৩

অর্থ হচ্ছে, এমন শিক্ষার প্রতি ঈমান আনলাম যা রসূল দুনিয়ায় পেশ করেছিলেন।

৭৪

অর্থাৎ ঈমান আনার জায়গা ছিল দুনিয়া। সেখান থেকে এখন তারা বহুদূরে চলে এসেছে। আখেরাতের জগতে পৌঁছে যাবার পর এখন আর তাওবা করা ও ঈমান আনার সুযোগ কোথায় পাওয়া যেতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ ঈমান আনার আসল জায়গা ছিল দুনিয়া। তা এখন বহু দূরে। সেখানে থেকে এতদূর এই আখেরাতে পৌঁছার পর সেই ঈমানের নাগাল তোমরা পেতে পার না, যা দুনিয়াতেই তোমাদের কাছে কাম্য ছিল। সেখানে তো এটাই দেখার ছিল যে, দুনিয়ার রঙ-ঢঙের মধ্যে হারিয়ে গিয়ে তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভুলে যাও, না সর্বাবস্থায় তাঁকে স্মরণ রাখ। এখন আখেরাতের সকল দৃশ্য সামনে এসে যাওয়ার পর ঈমান আনার ভেতর কৃতিত্ব কিসের যে, তার ভিত্তিতে তোমাদেরকে ক্ষমা করা হবে?

তাফসীরে জাকারিয়া

৫২. আর তারা বলবে, আমরা তাতে ঈমান আনলাম। কিন্তু এত দূরবর্তী স্থান থেকে তারা (ঈমানের) নাগাল পাবে কিরূপে?(১)

(১) تناوش অর্থ হাত বাড়িয়ে কোন কিছু তুলে নেয়া। বলাবাহুল্য, যে বস্তু বেশী দূরে নয়, হাতের নাগালের মধ্যে, তাই হাত বাড়িয়ে তোলা যায়। আয়াতের উদ্দেশ্য এই যে, কাফের ও মুশরিকরা কেয়ামতের দিন সত্যাসত্য সামনে এসে যাওয়ার পর বলবে, আমরা কুরআনের প্রতি অথবা রাসূলের প্রতি ঈমান আনলাম। কিন্তু তারা জানে না যে, ঈমানের স্থান তাদের থেকে অনেক দূরে চলে গেছে। ঈমান আনার জায়গা ছিল দুনিয়া। সেখান থেকে এখন তারা বহুদূরে চলে এসেছে। আখেরাতের জগতে পৌঁছে যাবার পর এখন আর তাওবা করা ও ঈমান আনার সুযোগ কোথাও পাওয়া যেতে পারে? কেবল পার্থিব জীবনের ঈমানই গ্রহণীয়। আখেরাত কর্মজগৎ নয়। সেখানকার কোন কর্ম হিসাবে ধরা যাবে না। তাই এটা কেমন করে সম্ভব যে, তারা ঈমানরূপী ধন হাত বাড়িয়ে তুলে নেবে?

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫২) এবং এরা বলবে, ‘আমরা তা বিশ্বাস করলাম।’ কিন্তু এখন এতদূর হতে ওর নাগাল পাবে কিরূপে? (1)

(1) ‘تَنَاوُشٌ -এর অর্থ ধরা বা নাগাল পাওয়া। অর্থাৎ, এখন আখেরাতে তারা ঈমানের নাগাল কিভাবে পাবে, অথচ পৃথিবীতে তা থেকে দূরে থাকতো। ঠিক যেন আখেরাত ঈমানের জন্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক দূরের জায়গা। যেমন দূর থেকে কোন বস্তুকে ধরা অসম্ভব, তেমনি আখেরাতে ঈমান পাওয়ার কোন সুযোগই নেই।