কুল ইন্নামাআ‘ইজুকুম বিওয়া-হিদাতিন আন তাকূমূলিল্লা-হি মাছনা-ওয়া ফুর-দা-ছু ম্মা তাতাফাক্কারূ মা-বিসা-হিবিকুম মিন জিন্নাতিন ইন হুওয়া ইল্লা-নাযীরুল লাকুম বাইনা ইয়াদাই ‘আযা-বিন শাদীদ।উচ্চারণ
হে নবী! এদেরকে বলে দাও, “আমি তোমাদেরকে একটিই উপদেশ দিচ্ছিঃ আল্লাহর জন্য তোমরা একা একা এবং দু’জন দু’জন মিলে নিজেদের মাথা ঘামাও এবং চিন্তা করো। তোমাদের সাথির মধ্যে এমন কি কথা আছে যাকে প্রলাপ বলা যায়? ৬৬ সেতো একটি কঠিন শাস্তি আসার আগে তোমাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছে।” ৬৭ তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল!) তাদেরকে বল, আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি। তা এই যে, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু-দু’জন অথবা এক-একজন করে দাঁড়িয়ে যাও, #%২৩%# তারপর চিন্তা কর (তা করলে অবিলম্বেই বুঝে এসে যাবে যে,) তোমাদের এ সাথীর (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) মধ্যে কোন বিকারগ্রস্ততা নেই। সে তো সুকঠিন এক শাস্তির আগে তোমাদের জন্য এক সতর্ককারী মাত্র।মুফতী তাকী উসমানী
বলঃ আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে দুই জন অথবা এক জন করে দাঁড়াও, অতঃপর তোমরা চিন্তা করে দেখ - তোমাদের সংগী আদৌ উন্মাদ নয়। সেতো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ককারী মাত্র।মুজিবুর রহমান
বলুন, আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর নামে এক একজন করে ও দু, দু জন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা-ভাবনা কর-তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোন উম্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কাঠোর শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করেন মাত্র।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বল, ‘আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি : তোমরা আল্লাহ্ র উদ্দেশ্যে দুই-দু’জন বা এক-একজন করে দাঁড়াও, এরপর তোমরা চিন্তা করে দেখ-তোমাদের সঙ্গী আদৌ উন্মাদ নয়। সে তো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের সতর্ককারী মাত্র। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বল, ‘আমি তো তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’জন অথবা এক একজন করে দাঁড়িয়ে যাও, অতঃপর চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সাথীর মধ্যে কোন পাগলামী নেই। সে তো আসন্ন কঠোর আযাব সম্পর্কে তোমাদের একজন সতর্ককারী বৈ কিছু নয়।’আল-বায়ান
বল- আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে নসীহত করছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে দু’ দু’জন বা এক একজন করে দাঁড়াও, অতঃপর চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সঙ্গী উন্মাদ নয়। সে তো সামনের কঠিন শাস্তি সম্পর্কে একজন সতর্ককারী মাত্র।তাইসিরুল
তুমি বলো -- "আমি তো তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি -- তোমরা যেন আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে দুজন করে অথবা একা একা উঠে দাঁড়াও, তারপর ভেবে দেখো -- তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো জিন-ভূত নেই।" তিনি তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী বৈ তো নন, আসন্ন কঠোর শাস্তি সম্পর্কে।মাওলানা জহুরুল হক
৬৬
অর্থাৎ স্বার্থ কামনা ও বিদ্বেষ মুক্ত হয়ে একান্ত আল্লাহর ওয়াস্তে চিন্তা করে দেখো। প্রত্যেক সদুদ্দেশ্যে আলাদা আলাদাভাবেও চিন্তা করো আবার দু’জন চারজন মিলে মিশে একসাথে বসেও নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে পরস্পর বিতর্ক আলোচনার মাধ্যমে এ মর্মে অনুসন্ধান চালাও যে, গতকাল পর্যন্তও যে ব্যক্তিকে তোমরা নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত জ্ঞানী মনে করছিলে তাকে আজ কিসের ভিত্তিতে পাগল গণ্য করছো? নবুওয়াত লাভের মাত্র কিছুকাল আগেই তো একটি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। কা’বা ঘর পুনর্নির্মাণের পর হাজরে আসওয়াদ সংস্থাপনের প্রশ্নে কুরাইশের গোত্রগুলো যখন পরস্পর লড়াই করতে প্রবৃত্ত হয়েছিল তখন তোমরাই তো একযোগে মুহাম্মাদ ﷺ কে বিরোধ মীমাংসাকারী বলে স্বীকার করে নিয়েছিলে এবং তিনি এমনভাবে তোমাদের ঝগড়া মিটিয়ে দিয়েছিলেন যার ফলে তোমরা সবাই নিশ্চিন্ত হয়ে গিয়েছিলে। তোমাদের সমগ্র জাতি যে ব্যক্তির বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পর্কে এ অভিজ্ঞতা লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল এখন এরপর এমন কি ঘটনা ঘটে গেলো যার ফলে তোমরা তাকে পাগল বলতে শুরু করেছো? হঠকারিতা ও গোয়ার্তুমির কথা তো আলাদা কিন্তু সত্যই কি তোমরা মুখে যা বলছো নিজেদের মনেও সেটাকেই সত্য বলে মনে করে থাকো?
৬৭
অর্থাৎ এ অপরাধের ভিত্তিতেই কি তোমরা তাকে মানসিক রোগী বলে গণ্য করছো? তোমাদের মতে বুদ্ধিমান কি এমন ব্যক্তিকেই বলা হবে যে তোমাদের ধ্বংসের পথে যেতে দেখে বলবে, শাবাশ, বড়ই চমৎকার পথে যাচ্ছো এবং পাগল বলা হবে তাকে যে তোমাদের কে দুঃসময় আসার আগে সতর্ক করে দেবে এবং বিপর্যয়ের পরিবর্তে সংশোধনের পথ বাতলাবে?
‘দাঁড়িয়ে যাও’ দ্বারা বিশেষ গুরুত্ব ও মনোযোগ দানের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, তোমরা তো এখনও পর্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তাই করনি। তাই এসব ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলছ। আর মন্তব্য করছ যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উন্মাদ (নাউযুবিল্লাহ)। মুক্ত মনে ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তার দাবি হল, প্রথমে বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করবে এবং আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে চিন্তা করবে। কখনও একাকী চিন্তা করলেই ভালো ফল পাওয়া যায় আবার কখনও সমষ্টিগত চিন্তাই ফলপ্রসূ হয়। তাই উভয় পন্থায় চিন্তা করতে বলা হয়েছে।
৪৬. বলুন, আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহ্র উদ্দেশ্যে দু-দুজন অথবা এক-একজন করে দাঁড়াও, তারপর তোমরা চিন্তা করে দেখা—তোমাদের সাথীর মধ্যে কোন উন্মাদনা নেই। তিনি তো আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্ৰ।(১)
(১) আয়াতে কাফেরদেরকে দাওয়াত দেয়ার এক সুন্দর পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে বিনা চিন্তা-ভাবনা করে আমার অনুসরণ করতে বলছি না। অনুরূপভাবে তোমাদের কথাও ছেড়ে দিতে তোমাদের বলছি না। আমি তো শুধু এটাই বলব যে, তোমরা নিজেরা সব রকমের প্রবৃত্তি তাড়িত কথা পরিত্যাগ করে এ নবী সম্পর্কে চিন্তা করে দেখ, তিনি কিসের আহবান জানাচ্ছেন, এতে তার লাভ কি? তিনি কি আসলেই পাগলামীর মত কিছু বলছেন। যদি তোমরা এককভাবে চিন্তা করে কোন সিদ্ধান্তে পৌছতে না পার, তবে দুইজন পরস্পর আলোচনা করে সিদ্ধান্তে যাও। যদি তোমরা এটা কর, তবে নিশ্চিত যে, তোমরা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌছতে পারবে। (সা’দী)
(৪৬) বল, ‘আমি তোমাদের একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছিঃ তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু’জন করে অথবা একা একা দাঁড়াও এবং চিন্তা করে দেখ, তোমাদের সঙ্গী (মুহাম্মাদ) পাগল নয়।(1) সে তো আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ককারী মাত্র।’ (2)
(1) অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম-পদ্ধতির ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করছি এবং একটি কথারই উপদেশ দিচ্ছি। আর তা এই যে, তোমরা জেদ ও ঔদ্ধত্য ছেড়ে দিয়ে শুধু আল্লাহর ওয়াস্তে একাকী বা দু’জন করে আমার সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা কর, আমার জীবন তোমাদের মাঝেই অতিবাহিত হয়েছে এবং এখনো যে দাওয়াত আমি তোমাদেরকে দিচ্ছি তাতে কি এমন কোন বিষয় আছে, যাতে এই কথার প্রমাণ হয় যে, আমার মাঝে পাগলামি আছে? তোমরা যদি নিজেদের অন্ধ-পক্ষপাতিত্ব এবং মনের খেয়াল-খুশী থেকে মুক্ত হয়ে চিন্তা-ভাবনা কর, তাহলে অবশ্যই তোমরা বুঝতে পারবে যে, তোমাদের সাথীর মাঝে কোন পাগলামি নেই।
(2) অর্থাৎ তিনি তো শুধু তোমাদের হিদায়াতের জন্য এসেছেন, যাতে তোমরা সেই কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে পারো, যা হিদায়াতের পথে না চলার কারণে তোমাদেরকে ভোগ করতে হবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাঃ) একদা সাফা পাহাড়ে চড়ে বললেন, ياصباحاه (সাবধান! সতর্ক হও!) যা শ্রবণ করে কুরাইশরা একত্রিত হয়ে গেল। তিনি তাদেরকে বললেন, ‘‘তোমরা বল, যদি আমি সংবাদ দিই যে, শত্রুদল সকাল বা সন্ধ্যায় তোমাদের উপর হামলা করবে, তাহলে তোমরা কি আমার কথা বিশ্বাস করবে? তারা বলল, ‘কেন বিশ্বাস করব না? (আমাদের অভিজ্ঞতায় তুমি তো কখনো মিথ্যা বলনি।) তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘তবে তোমরা শুনে নাও যে, আমি তোমাদেরকে (আল্লাহর) কঠিন শাস্তি আসার পূর্বে সতর্ক করছি।’’ এই কথা শুনে আবু লাহাব বলল تَبًّا لَكَ! أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا ‘তুমি ধ্বংস হও। এই জন্য তুমি আমাদেরকে একত্রিত করেছিলে?’ যার ফলে আল্লাহ তাআলা সূরা تَبَّتْ يَدَآ اَبِيْ لَهَبٍ অবতীর্ণ করেছেন। (বুখারীঃ তাফসীর সূরা সাবা’)