وَقَالَت طَّآئِفَةٞ مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ ءَامِنُواْ بِٱلَّذِيٓ أُنزِلَ عَلَى ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَجۡهَ ٱلنَّهَارِ وَٱكۡفُرُوٓاْ ءَاخِرَهُۥ لَعَلَّهُمۡ يَرۡجِعُونَ

ওয়া ক-লাত্তাইফাতুম মিন আহলিল কিতা-বি আ-মিনূ বিল্লাযীউনঝিলা ‘আলাল্লাযীনা আ-মানূ ওয়াজহান্নাহা-রি ওয়াকফুরূআ-খিরহু লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘ঊন।উচ্চারণ

আহলি কিতাবদের একটি দল বলে, এই নবীকে যারা মেনে নিয়েছে তাদের ওপর যা কিছু নাযিল হয়েছে, তার প্রতি তোমরা সকাল বেলায় ঈমান আনো এবং সাঁঝের বেলায় তা অস্বীকার করো। সম্ভবত এই উপায়ে এই লোকেরা নিজেদের ঈমান থেকে ফিরে যাবে। ৬১ তাফহীমুল কুরআন

আহলে কিতাবের একটি দল (একে অন্যকে) বলে, মুসলিমদের প্রতি যে কিতাব নাযিল হয়েছে, দিনের শুরু দিকে তো তাতে ঈমান আনবে আর দিনের শেষাংশে তা অস্বীকার করবে। হয়ত এভাবে মুসলিমগণ (-ও তাদের দীন থেকে) ফিরে যাবে। #%৩৭%#মুফতী তাকী উসমানী

আর আহলে কিতাবের মধ্যে একদল এটাই বলে যে, বিশ্বাস স্থাপনকারীদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তৎপ্রতি পূর্বাহ্নে বিশ্বাস স্থাপন কর এবং অপরাহ্নে তা অস্বীকার কর, তাহলে তারা ফিরে যাবে।মুজিবুর রহমান

আর আহলে-কিতাবগণের একদল বললো, মুসলমানগণের উপর যা কিছু অবর্তীণ হয়েছে তাকে দিনের প্রথম ভাগে মেনে নাও, আর দিনের শেষ ভাগে অস্বীকার ক র, হয়তো তারা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিতাবীদের একদল বলল, ‘যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা দিনের প্রারম্ভে তা বিশ্বাস কর এবং দিনের শেষে তা প্রত্যাখ্যান কর ; হয়ত তারা ফিরবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর কিতাবীদের একদল বলে, ‘মুমিনদের উপর যা নাযিল করা হয়েছে, তোমরা তার প্রতি দিনের প্রথমভাগে ঈমান আন, আর শেষ ভাগে তা কুফরী কর; যাতে তারা ফিরে আসে’।আল-বায়ান

আহলে কিতাবের একটা দল বলল, যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার উপর দিনের শুরুতে তোমরা ঈমান আন এবং দিনের শেষে অস্বীকার (কুফরী) কর, হয়ত তারা (ইসলাম ত্যাগ করে) ফিরে আসবে।তাইসিরুল

আর গ্রন্থপ্রাপ্তদের একদল বলে -- "যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছে যা নাযিল হয়েছে তাতে তোমরাও বিশ্বাস করো দিনের আগবেলায়, আর তার অপরাহে প্রত্যাখ্যান করো, যাতে তারাও ফিরে যায়।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬১

মদীনার উপকণ্ঠে বসবাসকারী ইহুদীদের সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ইসলামের দাওয়াতকে দুর্বল করার জন্য যেসব চাল চালতো এটি তার অন্যতম। ইসলামের প্রতি মুসলমানদেরকে বিরূপ করে তোলার এবং নবী ﷺ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ ও খারাপ ধারণা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তারা গোপনে লোক তৈরী করে পাঠাতো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, প্রথমে এই লোকগুলো প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করবে, তারপর মুরতাদ হয়ে যাবে এবং ইসলাম, মুসলমান ও তাদের নবীর মধ্যে নানা প্রকার গলদ নির্দেশ করে বিভিন্ন স্থানে এই মর্মে প্রচার করে বেড়াবে যে, এই সমস্ত দোষ-ত্রুটি দেখেই তারা ইসলাম থেকে আলাদা হয়ে গেছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

একদল ইয়াহুদী মুসলিমদেরকে ইসলাম হতে ফেরানোর লক্ষ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল যে, তাদের মধ্যে কিছু লোক সকাল বেলা ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেবে। তারপর সন্ধ্যা বেলা এই বলে ইসলাম থেকে ফিরে যাবে যে, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কাছ থেকে দেখে নিয়েছি। আসলে তিনি সেই নবী নন, তাওরাতে যার সম্পর্কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, এতে করে কিছু মুসলিম এই ভেবে ইসলাম থেকে ফিরে যাবে যে, ইয়াহুদীরা তো তাওরাতের আলেম। তারা যখন ইসলামে দাখিল হওয়ার পরও এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, তখন তাদের এ কথার অবশ্যই গুরুত্ব আছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭২. আর কিতাবীদের একদল বলল, যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি যা নাযিল হয়েছে তোমরা দিনের শুরুতে তাতে ঈমান আন এবং দিনের শেষে কুফরী কর; যাতে তারা ফিরে আসে।(১)

(১) কাতাদা বলেন, ইয়াহুদীরা একে অপরকে বলতঃ তাদের দ্বীনের ব্যাপারে দিনের শুরুতে সন্তোষ প্রকাশ কর। আর দিনের শেষে অস্বীকার কর। এতে করে মুসলিমরা তোমাদেরকে সত্যয়ন করবে এবং বুঝে নিবে যে, নিশ্চয় তোমরা মুসলিমদের মাঝে এমন কিছু দেখেছ যা অপছন্দনীয়। আর এভাবেই সহজে মুসলিমরা তাদের দ্বীন ছেড়ে দিয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭২) ঐশীগ্রন্থধারীদের এক দল বলে, ‘যারা বিশ্বাস করেছে, তাদের প্রতি (অর্থাৎ, মুসলিমদের প্রতি) যা অবতীর্ণ হয়েছে দিনের প্রথম ভাগে তা বিশ্বাস কর এবং দিনের শেষ ভাগে তা অস্বীকার কর, হয়তো তারা (ইসলাম থেকে) ফিরতে পারে। (1)

(1) এখানে ইয়াহুদীদের আরো একটি এমন চক্রান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যে চক্রান্তের মাধ্যমে তারা মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করতে চাইত। তারা আপোসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, সকালে মুসলিম হয়ে আবার সন্ধ্যায় কাফের হয়ে যাবে। এ থেকে মুসলিমদের অন্তরেও নিজেদের ইসলামের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হয়ে যাবে। তারা ভাববে, এরা (ইয়াহুদীরা) ইসলাম গ্রহণ করার পর পুনরায় তাদের দ্বীনে ফিরে গেছে, অতএব হতে পারে ইসলামে বহু এমন দোষ-ত্রুটি আছে, যা তারা (ইয়াহুদীরা) জানতে পেরেছে।