وَيَوۡمَ يَحۡشُرُهُمۡ جَمِيعٗا ثُمَّ يَقُولُ لِلۡمَلَـٰٓئِكَةِ أَهَـٰٓؤُلَآءِ إِيَّاكُمۡ كَانُواْ يَعۡبُدُونَ

ওয়া ইয়াওমা ইয়াহশুরুহুম জামী‘আন ছু ম্মা ইয়াকূ লুলিলমালাইকাতি আহাউলাই ইয়্যাকুম ক-নূইয়া‘বুদূন।উচ্চারণ

আর যেদিন তিনি সমস্ত মানুষকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, “এরা কি তোমাদেরকেই পূজা করত?” ৬১ তাফহীমুল কুরআন

সেই দিন (-কে ভুলে যেও না), যখন আল্লাহ সকলকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদেরকে বলবেন, সত্যিই কি এরা তোমাদের ইবাদত করত?মুফতী তাকী উসমানী

যেদিন তাদের একত্র করবেন এবং মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করবেনঃ এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?মুজিবুর রহমান

যেদিন তিনি তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে বলবেন, এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, যেদিন তিনি এদের সকলকে একত্র করবেন, এরপর ফিরিশতাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘এরা কি তোমাদেরই পূজা করত ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যেদিন তিনি তাদের সকলকে সমবেত করবেন তারপর ফেরেশতাদেরকে বলবেন, ‘এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?’আল-বায়ান

যেদিন তিনি তাদের সববাইকে একত্রিত করবেন, অতঃপর ফেরেশতাদেরকে বলবে-ওরা কি একমাত্র তোমাদেরই পূজা করত?তাইসিরুল

আর সেইদিন তিনি তাদের একত্রিত করবেন সমবেতভাবে, তখন তিনি ফিরিশ্‌তাদের বলবেন -- "এরাই কি তোমাদের পূজা করে থাকতো?"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬১

প্রাচীনকাল থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত প্রত্যেক যুগে মুশরিকরা ফেরশতাদেরকে দেব-দেবী মনে করে তাদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করে আসছে। বৃষ্টির দেবতা, বিজলীর দেবতা, বায়ুর দেবতা, ধন-সম্পদের দেবী, মৃত্যু ও ধ্বংসের দেবী ইত্যাদি প্রত্যেকটি জিনিসের পৃথক দেবতা বা দেবীর মূর্তি তারা প্রতিষ্ঠিত করেছে। এর সম্পর্কে আল্লাহ‌ বলেছেন, কিয়ামতের দিন এই ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমরাই কি এদের উপাস্য হয়েছিলে? নিছক অবস্থা অনুসন্ধান করা এ প্রশ্নের উদ্দেশ্য নয় বরং এর মধ্যে এই অর্থও নিহিত রয়েছে যে, তোমরা কি তাদের পূজা-অর্চনায় রাজি ছিলে? কিয়ামতে এ প্রশ্ন কেবল ফেরেশতাদেরকেই করা হবে না বরং দুনিয়ায় তাদের ইবাদাত ও পূজা করা হয় তাদেরকেও করা হবে। তাই সূরা ফুরকানে বলা হয়েছেঃ

وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ فَيَقُولُ أَأَنْتُمْ أَضْلَلْتُمْ عِبَادِي هَؤُلَاءِ أَمْ هُمْ ضَلُّوا السَّبِيلَ

“যেদিন আল্লাহ‌ এদেরকে এবং যেসব সত্তার এরা ইবাদাত করতো তাদের সবাইকে একত্র করবেন তারপর জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি আমার এ বান্দাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিলে, না এরা নিজেরাই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল? ” (১৭ আয়াত)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪০. আর স্মরণ করুন, যেদিন তিনি তাদের সকলকে একত্র করবেন তারপর ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করবেন, এরা কি তোমাদেরই ইবাদাত করত?(১)

(১) কিয়ামতে এ প্রশ্ন কেবল ফেরেশতাদেরকেই করা হবে না বরং দুনিয়ায় যাদের ইবাদাত ও পূজা করা হয় তাদেরকেও করা হবে। তাই অন্যত্র বলা হয়েছেঃ যেদিন আল্লাহ এদেরকে এবং যেসব সত্তার এরা ইবাদাত করতো তাদের সবাইকে একত্ৰ করবেন তারপর জিজ্ঞেস করবেন, তোমরা কি আমার এ বান্দাদেরকে পথভ্ৰষ্ট করেছিলে, না এরা নিজেরাই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল? (সূরা আল ফুরকান: ১৭)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪০) যেদিন তিনি এদের সকলকে একত্রিত করবেন এবং ফিরিশতাদেরকে জিজ্ঞাসা করবেন, ‘এরা কি তোমাদেরই পূজা করত?’ (1)

(1) মুশরিকদেরকে লাঞ্ছিত করার জন্য আল্লাহ তাআলা ফিরিশতাদেরকে এ কথা জিজ্ঞাসা করবেন। যেমন ঈসা (আঃ) সম্পর্কেও উল্লেখ হয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা তাঁকেও জিজ্ঞাসা করবেন, ‘‘হে মারয়্যাম-তনয় ঈসা! তুমি কি লোকদেরকে বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে উপাস্যরূপে গ্রহণ কর?’’ ঈসা (আঃ) বলবেন, ‘তুমিই মহিমান্বিত! যা বলার অধিকার আমার নেই, তা বলা আমার জন্য আদৌ শোভনীয় নয়।’ (সূরা মাইদাহ ১১৬ আয়াত) অনুরূপ আল্লাহ তাআলা বাতিল উপাস্যগণকেও জিজ্ঞাসা করবেন, যেমন সূরা ফুরক্বানের ১৭নং আয়াতে বর্ণনা হয়েছে যে, ‘‘তোমরাই কি আমার বান্দাগণকে বিভ্রান্ত করেছিলে, না ওরা নিজেরাই পথভ্রষ্ট হয়েছিল?’’