وَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِي قَرۡيَةٖ مِّن نَّذِيرٍ إِلَّا قَالَ مُتۡرَفُوهَآ إِنَّا بِمَآ أُرۡسِلۡتُم بِهِۦ كَٰفِرُونَ

ওয়ামা আরছালনা-ফী কারইয়াতিম মিন নাযীরিন ইল্লা-ক-লা মুতরফূহা ইন্না বিমাউরছিলতুম বিহী ক-ফিরূন।উচ্চারণ

কখনো এমনটি ঘটেনি যে, আমি কোন জনপদে কোন সতর্ককারী পাঠিয়েছি এবং সেই জনপদের সমৃদ্ধিশালী লোকেরা একথা বলেনি যে, তোমরা যে বক্তব্য নিয়ে এসেছ আমরা তা মানি না। ৫৪ তাফহীমুল কুরআন

আমি যে জনপদেই কোন সতর্ককারী (নবী) পাঠিয়েছি, তার বিত্তশালী লোকেরা বলেছে, তোমরা যে বার্তাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।মুফতী তাকী উসমানী

যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করেছি তখনই ওর বিত্তশালী অধিবাসীরা বলেছেঃ তোমরা যা সহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।মুজিবুর রহমান

কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করা হলেই তার বিত্তশালী অধিবাসীরা বলতে শুরু করেছে, তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা মানি না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করেছি এর বিত্তশালী অধিবাসীরা বলেছে, ‘তোমরা যাসহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করলেই সেখানকার বিত্তবান অধিবাসীরা বলেছে, ‘তোমরা যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ অবশ্যই আমরা তা প্রত্যাখ্যানকারী’।আল-বায়ান

যখনই কোন জনপদে আমি সতর্ককারী পাঠিয়েছি, সেখানকার বিত্তবানরা বলেছে তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তা অস্বীকার করছি।তাইসিরুল

আর আমরা কোনো জনপদে সতর্ককারীদের কাউকেও পাঠাই নি যার বিত্তবান লোকেরা না বলেছে -- "নিঃসন্দেহ তোমাদের যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে তাতে আমরা অবিশ্বাসী!"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৪

একথা কুরআন মজীদের বহুস্থানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আম্বিয়া (আ) এর দাওয়াতকে সর্বপ্রথম ও সবার আগে রুখে দাঁড়াতো সমাজের সচ্ছল শ্রেণী, যারা অর্থ-বিত্ত, সহায়-সম্পদ ও কর্তৃত্ব-ক্ষমতার অধিকারী ছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ নিম্নোক্ত স্থানগুলো দেখুনঃ আল আন’আম, ১২৩; আল আ’রাফ, ৬০, ৬৬, ৭৫, ৮৮, ৯০; হুদ, ২৭; বনী ইসরাঈল, ১৬; আর মু’মিনূন, ২৪, ৩৩ থেকে ৩৮, ৪৬, ৪৭ এবং আয্ যুখরুফ, ২৩ আয়াত।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৪. আর আমরা কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করলেই তার বিত্তশালী অধিবাসীরা বলেছে, তোমরা যা সহ প্রেরিত হয়েছ আমরা তার সাথে কুফরী করি।(১)

(১) একথা কুরআন মজীদের বহুস্থানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের দাওয়াতকে সর্বপ্রথম ও সবার আগে রুখে দাঁড়াতো সমাজের সচ্ছল শ্রেণী, যারা অর্থ-বিত্ত, সহায়-সম্পদ ও কর্তৃত্ব-ক্ষমতার অধিকারী ছিল। দৃষ্টান্তস্বরূপ নিম্নোক্ত স্থানগুলো দেখুন, (সূরা আল আনআম ১২৩; সূরা আল আ'রাফ ৬০, ৬৬, ৭৫, ৮০, ৯০; সূরা হুদ ২৭; সূরা বনী ইসরাঈল ১৬; সূরা আল মু'মিমূন ২৪, ৩৩ থেকে ৩৮, ৪৬, ৪৭ এবং সূরা আয যুখরুফ ২৩ আয়াত)।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৪) যখনই আমি কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করেছি সেখানকার বিত্তশালী অধিবাসীরা বলেছে, ‘তুমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছ আমরা তা প্রত্যাখ্যান করি।’ (1)

(1) এখানে নবী করীম (সাঃ)-কে সান্ত্বনা দেওয়া হচ্ছে যে, মক্কার নেতারা তোমার উপর ঈমান আনছে না এবং তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে, এটা এমন কোন নতুন কাজ নয়। প্রত্যেক যুগেই অধিকাংশ ধনী শ্রেণীর মানুষেরা পয়গম্বরদেরকে মিথ্যা মনে করেছে। আর প্রত্যেক পয়গম্বরের প্রতি ঈমান আনয়নকারীদের মধ্যে প্রথম সারিতে থাকত গরীব ও দুর্বল শ্রেণীর লোকেরাই। যেমন নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় তাদের পয়গম্বরকে বলেছিল, (قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الأَرْذَلُونَ) অর্থাৎ, আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিচু শ্রেণীর লোকেরা তোমার অনুসরণ করেছে? (শুআরাঃ ১১১ আয়াত) (وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ) অর্থাৎ, আমরা দেখছি যে, শুধু ঐ লোকেরাই না বুঝে তোমার অনুসরণ করছে, যারা আমাদের মধ্যে নিতান্তই হীন। (হূদঃ ২৭ আয়াত) অন্য পয়গম্বরদেরকেও তাঁদের সম্প্রদায়রা এই কথাই বলেছিল। দেখুনঃ সূরা আ’রাফ ৭৫ আয়াত, সূরা আনআম ৫৩, ১৩৩ আয়াত, সূরা বানী ইস্রাঈল ১৬ আয়াত ইত্যাদি। مُتْرَفُوْنَ এর অর্থ হল বিত্তশালী ও সর্দার।