يَـٰٓأَهۡلَ ٱلۡكِتَٰبِ لِمَ تَكۡفُرُونَ بِـَٔايَٰتِ ٱللَّهِ وَأَنتُمۡ تَشۡهَدُونَ

ইয়াআহলাল কিতা-বি লিমা তাকফুরুনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়া আনতুম তাশহাদূন।উচ্চারণ

হে আহলি কিতাব! কেন আল্লাহ‌র আয়াত অস্বীকার করছো, অথচ তোমরা নিজেরাই তা প্রত্যক্ষ করছো? ৬০ তাফহীমুল কুরআন

হে আহলে কিতাব! তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহ কেন অস্বীকার করছ, যখন তোমরা নিজেরাই সাক্ষী (যে, তা আল্লাহর পক্ষ হতে অবতীর্ণ)? #%৩৬%#মুফতী তাকী উসমানী

হে আহলে কিতাব! তোমরা কেন আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি অবিশ্বাস করছো? অথচ তোমরাই ওর সাক্ষী।মুজিবুর রহমান

হে আহলে-কিতাবগণ, কেন তোমরা আল্লাহর কালামকে অস্বীকার কর, অথচ তোমরাই তাঁর প্রবক্তা?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে কিতাবী-গণ! তোমরা কেন আল্লাহ্ র আয়াতকে অস্বীকার কর, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন কর ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে কিতাবীরা, তোমরা কেন আল্লাহর নিদর্শনসমূহের সাথে কুফরী করছ, অথচ তোমরাই তার সাক্ষ্য দিচ্ছ?আল-বায়ান

হে আহলে কিতাব! কেন তোমরা আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করছ, অথচ তোমরা নিজেরাই তার সাক্ষী?তাইসিরুল

হে গ্রন্থধারিগণ! কেন তোমরা আল্লাহ্‌র নির্দেশে অবিশ্বাস পোষণ করো, যখন তোমরা প্রত্যক্ষদর্শী?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৬০

এ বাক্যটির আর একটি অনুবাদও হতে পারে। সেটি হচ্ছে, “তোমরা নিজেরা সাক্ষ্য দিচ্ছো” উভয় অবস্থাতেই মূল অর্থের ওপর কোন প্রভাব পড়ে না। আসলে নবী ﷺ এর পবিত্র জীবন, সাহাবায়ে কেরামের জীবনের ওপর তাঁর শিক্ষা ও অনুশীলনের বিস্ময়কর প্রভাব এবং কুরআনের উন্নতমানের বিষয়বস্তু এসবগুলোই মহান আল্লাহ‌র এমনই উজ্জ্বল নিদর্শন ছিল। যা দেখার পর নবী-রসূলদের অবস্থা ও আসমানী কিতাবসমূহের ধারা বিবরণীর সাথে পরিচিত ব্যক্তি মাত্রেরই নবী ﷺ এর নবুওয়াত সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করা অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার ছিল। কাজেই অনেক আহলি কিতাব (বিশেষ করে তাদের আলেম সমাজ) একথা জেনে নিয়েছিল যে, পূর্ববর্তী নবীগণ যে নবীর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন মুহাম্মাদ ﷺ সেই নবী। এমন কি কখনো কখনো সত্যের প্রবল শক্তির চাপে বাধ্য হয়ে তারা নবী ﷺ এর সত্যতা ও তাঁর উপস্থাপিত শিক্ষাকে সত্য বলে স্বীকার করে নিতো। এ জন্যই কুরআন বার বার তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ এনেছে যে, তোমরা নিজেরাই আল্লাহ‌র যেসব নিদর্শনের সত্যতার সাক্ষ্য দিচ্ছো, সেগুলোকে তোমরা নিজেদের মানসিক দুষ্কৃতিপরায়ণতার কারণে ইচ্ছা করেই মিথ্যা বলছো কেন?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এস্থলে আয়াত দ্বারা তাওরাত ও ইনজীলের সেই সব আয়াত বোঝানো উদ্দেশ্য, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন সম্পর্কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, এক দিকে তো তোমরা সাক্ষ্য দিচ্ছ তাওরাত ও ইনজীল আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ, অপর দিকে তাতে যার রাসূল হয়ে আসার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে, সেই নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রিসালাতকে অস্বীকার করছ, যা তাওরাত ও ইনজীলের আয়াতসমূহকে অস্বীকার করারই নামান্তর।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭০. হে কিতাবীরা! তোমরা কেন আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী কর, যখন তোমরাই সাক্ষ্য বহন কর?(১)

(১) কাতাদা বলেন, এর অর্থ, হে কিতাবী সম্প্রদায়! কিভাবে তোমরা আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করতে পার, অথচ তোমরা সাক্ষ্য দিচ্ছ যে, আল্লাহর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাগুণ তোমাদের কিতাবে রয়েছে। তারপর তোমরা তার সাথে কুফরী কর, তা অগ্রাহ্য কর এবং তার উপর ঈমান আনয়ন কর না। তোমরা তোমাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জীলে তাকে উম্মী নবী হিসেবে দেখতে পাও, যিনি আল্লাহর উপর এবং তার কালেমার উপর ঈমান রাখেন। (তাবারী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭০) হে ঐশীগ্রন্থধারীরা! তোমরা সত্য জানা সত্ত্বেও কেন আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার কর?(1)

(1) ‘জেনে-শুনে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার কর’ এর অর্থ, তোমরা নবী করীম (সাঃ)-এর সত্যবাদিতা ও সত্যতা সম্পর্কে জানো, তা সত্ত্বেও কেন কুফরী বা অস্বীকার কর?