আনি‘মাল ছা-বিগা-তিওঁ ওয়া কাদ্দির ফিছছারদি ওয়া‘মালূসা-লিহান ইন্নী বিমাতা‘মালূনা বাসীর।উচ্চারণ
এ নিদের্শ সহকারে যে, বর্ম নির্মাণ করো এবং তাদের পরিমাপ যথার্থ আন্দাজ অনুযায়ী রাখো। ১৬ (হে দাউদের পরিবার!) সৎকাজ করো, তোমরা যা কিছু করছো সবই আমি দেখছি। তাফহীমুল কুরআন
যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি কর এবং কড়াসমূহ জোড়ার ক্ষেত্রে পরিমাপ রক্ষা কর। তোমরা সকলে সৎকর্ম কর। তোমরা যা-কিছুই কর আমি তার দ্রষ্টা।মুফতী তাকী উসমানী
(এই আদেশ করে) ‘তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরী কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং তোমরা সৎ কাজ কর’, তোমরা যা কিছু কর আমি ওর সম্যক দ্রষ্টা।মুজিবুর রহমান
এবং তাকে আমি বলে ছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরী কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈয়ার করতে এবং বুননে পরিমাণ রক্ষা করতে পার’ এবং তোমরা সৎকর্ম কর, তোমরা যা কিছু কর আমি এর সম্যক দ্রষ্টা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
(এ নির্দেশ দিয়ে যে,) ‘তুমি পরিপূর্ণ বর্ম তৈরী কর এবং যথার্থ পরিমাণে প্রস্তুত কর’। আর তোমরা সৎকর্ম কর। তোমরা যা কিছু কর নিশ্চয় আমি তার সম্যক দ্রষ্টা।আল-বায়ান
যাতে তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরি করতে পার, কড়াসমূহ সঠিকভাবে সংযুক্ত কর আর তোমরা সৎকর্ম কর। তোমরা যা কর আমি তার প্রত্যক্ষদর্শী।তাইসিরুল
এই বলে -- "তুমি চওড়া বর্ম তৈরি কর, আর আংটাসমূহে যথাযথ পরিমাপ দাও, আর তোমরা সৎকর্ম কর। নিঃসন্দেহ তোমরা যা করছ আমি তার সম্যক দ্রষ্টা।"মাওলানা জহুরুল হক
১৬
এ বিষয়টিও সূরা আম্বিয়ার ৮০ আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে এবং সেখানে এর ব্যাখ্যাও করেছি। (দেখুন তাফহীমুল কুরআন, আল আম্বিয়া, ৭২ টীকা)
এটা হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামের আরেকটি মুজিযার বর্ণনা। সেকালে শত্রুর অস্ত্রের আঘাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য যে বর্ম পরিধান করা হত তা তৈরি করার বিশেষ নৈপুণ্য আল্লাহ তাআলা তাঁকে দান করেছিলেন, এ শিল্পে তাঁর বিশেষত্ব ছিল এই যে, লোহা তার হাতের স্পর্শ মাত্র মোমের মত নরম হয়ে যেত। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তা বাঁকাতে পারতেন। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে একথাও উল্লেখ করে দিয়েছেন যে, তিনি হযরত দাঊদ আলাইহিস সালামকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যেন বর্মের কড়াসমূহের ভেতর পারস্পরিক পরিমাণ ও সামঞ্জস্য রক্ষা করেন। এর ভেতর আমাদের জন্য এই শিক্ষা রয়েছে যে প্রতিটি কাজ ও প্রতিটি শিল্পে যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখা এবং তাতে যথাযথ পরিমাণ ও ভারসাম্য রক্ষা করা আল্লাহ তাআলার পছন্দ।
১১. (এ নির্দেশ দিয়ে যে) আপনি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরী করুন(১) এবং বুননে পরিমাণ রক্ষা করুন। আর তোমরা সৎকাজ কর, নিশ্চয় তোমরা যা কিছু কর আমি তার সম্যক দ্রষ্টা।
(১) কাতাদাহ বলেন, সর্বপ্রথম বর্ম দাউদ আলাইহিস সালামই তৈরী করেন। তার আগে কেউ সেটা তৈরী করে নি। (তাবারী) কাতাদাহ আরও বলেন, তিনি এটা বানাতে আগুনের ব্যবহার করার প্রয়োজন বোধ করতেন না। তাছাড়া লাঠি দিয়েও আঘাত করতে হতো না। (তাবারী)
(১১) এবং তাকে বলেছিলাম, তুমি পূর্ণ মাপের বর্ম তৈরী কর,(1) ওগুলির কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর(2) এবং তোমরা সৎকাজ কর। (3) তোমরা যা কিছু কর নিশ্চয় আমি তার সম্যক দ্রষ্টা।
(1) سَابِغَاتٍ এর বিশেষ্য ঊহ্য আছে دُرُوْعًا ساَبِغاَتٍ অর্থাৎ পূর্ণ মাপের লম্বা লৌহবর্ম, যা যোদ্ধার পূর্ণ শরীর ঠিকভাবে আবৃত করে এবং তাকে শত্রুর আঘাত থেকে বাঁচাতে পারে।
(2) (কড়াসমূহ যথাযথ সংযুক্ত কর) যাতে ছোট বড় না হয়ে যায়, অথবা টাইট বা ঢিলা না হয়ে যায়। অর্থাৎ কড়াসমূহ সংযুক্ত করতে তার খিলগুলি এমন পাতলা না হয়, যাতে জোড়গুলি নড়াসড়া করতেই থাকে এবং তাতে স্থিরতা না আসে। পরন্তু এমন মোটাও যেন না হয়, যাতে তা ভেঙ্গেই যায় অথবা তা জমে না যায় এবং তা পরাই সম্ভব না হয়। এখানে দাউদ (আঃ)-কে লৌহবর্ম তৈরী করার নিয়ম বলা হয়েছে।
(3) অর্থাৎ সেই নিয়ামতের বদলে নেক আমল কর, যাতে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হয়। এতে বুঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহ তাআলা যাকে পার্থিব নিয়ামত দান করেছেন তাকে সেই নিয়ামত হিসাবে আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা দরকার। আর আসল কৃতজ্ঞতা হল, অনুগ্রহকারীকে সন্তুষ্ট করার পূর্ণ চেষ্টা রাখা। অর্থাৎ তাঁর আনুগত্য করা ও অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকা।