আফতার-‘আলাল্লা-হি কাযিবান আম বিহী জিন্নাতুম বালিল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরতি ফিল ‘আযা-বি ওয়াদ্দালা-লিল বা‘ঈদ।উচ্চারণ
নাজানি এ ব্যক্তি আল্লাহর নামে মিথ্যা তৈরি করে, নাকি তাকে পাগলামিতে পেয়ে বসেছে।” ১০ না, বরং যারা আখেরাত মানে না তারা শাস্তি লাভ করবে এবং তারাই রয়েছে ঘোরতর ভ্রষ্টতার মধ্যে। ১১ তাফহীমুল কুরআন
(কে জানে) সে কি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করছে না কি সে বিকারগ্রস্ত? না, বরং যারা আখেরাতে বিশ্বাস রাখে না তারা আযাব ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে। মুফতী তাকী উসমানী
সে কি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে অথবা সে কি উন্মাদ? বস্তুতঃ যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তারা শাস্তি ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে।মুজিবুর রহমান
সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলে, না হয় সে উম্মাদ এবং যারা পরকালে অবিশ্বাসী, তারা আযাবে ও ঘোর পথভ্রষ্টতায় পতিত আছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সে কি আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে বা সে কি উন্মাদ ? বস্তুত যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারা শাস্তি ও ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে কি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে, না কি তার পাগলামী রয়েছে? বরং যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে না তারা আযাব ও সুদূর বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।আল-বায়ান
সে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে বলে, না হয় সে পাগল। বস্তুতঃ যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তারাই শাস্তি এবং সুদূর গুমরাহীতে পড়ে আছে।তাইসিরুল
"সে আল্লাহ্র বিরুদ্ধে হয় মিথ্যা রচনা করেছে, নয়তো তার মধ্যে রয়েছে জিনভূত।" বস্তুতঃ যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তারা আছে শাস্তিতে ও সুদূরপ্রসারী বিভ্রান্তিতে।মাওলানা জহুরুল হক
১০
কুরাইশ সরদাররা একথা ভালোভাবে জানতো, মুহাম্মাদ ﷺ কে মিথ্যুক বলে মেনে নেয়া জনগণের জন্য ছিল বড়ই কঠিন। কারণ সমগ্রজাতি তাঁকে সত্যবাদী জানতো এবং সারা জীবনেও কখনো কেউ তাঁর মুখ থেকে একটি মিথ্যা কথা শোনেনি। তাই তারা লোকদের সামনে তাঁর প্রতি এভাবে দোষারোপ করতোঃ এ ব্যক্তি যখন মৃত্যু পরের জীবনের মতো অবাস্তব কথা মুখে উচ্চারণ করে চলেছে, তখন হয় সে (নাউযুবিল্লাহ) জেনে বুঝে একটি মিথ্যা কথা বলছে নয়তো সে পাগল। কিন্তু এ পাগল কথাটিও ছিল মিথ্যুক কথাটির মতই সমান ভিত্তিহীন ও উদ্ভট। কারণ একজন বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তিকে পাগল বলা কেবল একজন নিরেট মূর্খ ও নির্বোধ ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব। নয়তো চোখে দেখেইবা এক ব্যক্তি একটি জ্যান্ত মাছি গিলে খেয়ে নিতো কেমন করে। এ কারণেই আল্লাহ এ ধরনের বাজে কথার জবাবে কোন প্রকার যুক্তি উপস্থাপনের প্রয়োজন অনুভব করেননি এবং তারা মৃত্যুর পরের জীবন সম্পর্কে যে বিস্ময় প্রকাশ করতো কেবলমাত্র তা নিয়েই কথা বলেছেন।
১১
এ হচ্ছে তাদের কথার প্রথম জবাব। এর অর্থ হচ্ছে, মূর্খের দল! তোমরা তো বিবেক বুদ্ধির মাথা খেয়ে বসেছ। যে ব্যক্তি তোমাদেরকে প্রকৃত অবস্থা জানাচ্ছে তাঁর কথা মেনে নিচ্ছো না এবং সোজা যে পথটি জাহান্নামের দিকে চলে গেছে সেদিকেই চোখ বন্ধ করে দৌঁড়ে চলে যাচ্ছো কিন্তু তারপরও তোমাদের নির্বুদ্ধিতার চূড়ান্ত হচ্ছে যে, যে ব্যক্তি তোমাদের কে বাঁচাবার চিন্তা করছে উল্টো তাঁকেই তোমরা পাগল আখ্যায়িত করছো।
এটা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে কাফেরদের উল্লেখিত মন্তব্যের জবাব। তারা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে দু’টি সম্ভাবনা উল্লেখ করেছিল। একটি এই যে, তিনি আল্লাহ তাআলার প্রতি মিথ্যা আরোপ করছেন, যা আল্লাহর শাস্তিকে ডেকে আনার নামান্তর। এর জবাবে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আযাবকে ডেকে আনার মত কোন কাজ করেননি। এর বিপরীতে যারা আখেরাতকে অবিশ্বাস করছে তারাই বরং আযাবের কাজ করছে। কাফেরগণ দ্বিতীয় সম্ভাবনা ব্যক্ত করেছিল এই যে, তিনি বিকারগ্রস্ত হয়ে গেছেন আর উন্মাদ অবস্থায় যদিও শাস্তি দেওয়া হয় না, কিন্তু এরূপ ব্যক্তি তো অবশ্যই বিপথগামী হয়ে থাকে। এর উত্তরে বলা হয়েছে, বিপথগামী তিনি নন; বরং যারা আখেরাত অবিশ্বাস করে তারাই চরম গোমরাহীতে লিপ্ত।
৮. সে কি আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, নাকি তার মধ্যে আছে উন্মাদনা?(১) বরং যারা আখিরাতের উপর ঈমান আনে না, তারা শাস্তি ও ঘোর বিভ্ৰান্তিতে রয়েছে।
(১) অর্থাৎ তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এমন মারাত্মক অপবাদ আরোপ করছে যে, এ লোক যেহেতু মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কথা বলছে, তা হলে সে দু'অবস্থা থেকে মুক্ত নয়। হয় সে ইচ্ছা করে আল্লাহর উপর মিথ্যা বানিয়ে বলছে, নতুবা তাকে পাগলামীতে পেয়ে বসেছে। কি বলছে তা জানে না। আল্লাহ তার জওয়াবে বলেন, তোমরা যা মনে করেছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবচেয়ে বড় সত্যবাদী। আর যারা পুনরুত্থানে বিশ্বাস করবে না, আর সেটার জন্য আমল করবে না, তারা তো স্থায়ী কঠিন শাস্তিতে থাকবে। দুনিয়াতেও তারা সঠিক পথ থেকে অনেক দূরে থাকবে। (মুয়াস্সার)
(৮) সে কি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে অথবা সে উন্মাদ?’(1) বস্তুতঃ যারা পরলোকে বিশ্বাস করে না, তারা শাস্তি এবং ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছে। (2)
(1) অর্থাৎ, (তারা বলত,) দু’য়ের এক অবশ্যই হবে, হয় সে মিথ্যা বলছে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে অহী ও রিসালাতের দাবী করে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করছে। অথবা তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে এবং পাগলামির জন্য ঐ সব কথা বলছে, যা জ্ঞানে ধরার মত নয়।
(2) আল্লাহ তাআলা বলেন, আসল ব্যাপার তা নয়, যা তারা ধারণা করে। বরং ঘটনা হচ্ছে যে, জ্ঞান করে দেখা ও প্রকৃত বুঝার ক্ষমতা থেকে এরাই বঞ্চিত, যার ফলস্বরূপ তারা পরকালকে বিশ্বাস করার পরিবর্তে তা অস্বীকার করে। যার পরিণাম হল পরকালের চিরস্থায়ী শাস্তি এবং তারা এখন এমন ভ্রষ্টতার শিকার, যা সত্য থেকে অনেক দূরে।