ওয়া ক-লাল্লাযীনা কাফারূ লা-তা’তীনাছছা-‘আতু কুলবালা-ওয়া রববী লাতা’তিইয়ান্নাকুম ‘আ-লিমিল গাইবি লা-ইয়া‘ঝুবু‘আনহু মিছক-লুযাররতিন ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ালা-ফিল আরদিওয়ালাআসগারু মিন যা-লিকা ওয়ালাআকবারু ইল্লা-ফী কিতা-বিম মুবীন।উচ্চারণ
অস্বীকারকারীরা বলে, কি ব্যাপার কিয়ামত আমাদের ওপর আসছে না কেন! ৫ বলো, আমার অদৃশ্য জ্ঞানী পরওয়ারদিগারের কসম, তা তোমাদের ওপর অব্যশই আসবে। ৬ তাঁর কাছ থেকে অণু পরিমাণ কোন জিনিস আকাশসমূহেও লুকিয়ে নেই এবং পৃথিবীতেও নেই। অণুর চেয়ে বড়ই হোক, কিংবা তার চেয়ে ছোটই হোক, --সবকিছুই একটি সুস্পষ্ট কিতাবে লেখা আছে। ৭ তাফহীমুল কুরআন
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা বলে, আমাদের উপর কিয়ামত আসবে না। বলে দাও, কেন আসবে না? আমার আলিমুল গায়েব প্রতিপালকের কসম! তোমাদের উপর তা অবশ্যই আসবে। অণু পরিমাণ কোন জিনিসও তার দৃষ্টির আড়ালে থাকতে পারে না না আকাশমণ্ডলীতে এবং না পৃথিবীতে। আর না তার চেয়ে ছোট কোন বস্তু আর না বড় কিছু। সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে (অর্থাৎ লাওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ আছে।মুফতী তাকী উসমানী
কাফিরেরা বলেঃ আমাদের উপর কিয়ামাত আসবেনা। বলঃ আসবেই, শপথ আমার রবের! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট ওটা আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত; আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁর অগোচর নয় অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু; বরং ওর প্রত্যেকটি লিপিবদ্ধ আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।মুজিবুর রহমান
কাফেররা বলে আমাদের উপর কেয়ামত আসবে না। বলুন কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ-অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমন্ডলে ও ভূ-মন্ডলে তাঁর আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ-সমস্তই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
কাফিররা বলে, ‘আমাদের নিকট কিয়ামত আসবে না।’ বল, ‘আসবেই, শপথ আমার প্রতিপালকের, নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট তা আসবে।’ তিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত; আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে তাঁর অগোচর নয় অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্র বা বৃহৎ কিছু ; এটার প্রত্যেকটি আছে সুস্পষ্ট কিতাবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর কাফিররা বলে, ‘কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না।’ বল, ‘অবশ্যই, আমার রবের কসম! যিনি গায়েব সম্পর্কে অবগত, তা তোমাদের কাছে আসবেই। আসমানসমূহ ও যমীনে অনু পরিমাণ কিংবা তদপেক্ষা ছোট অথবা বড় কিছুই তাঁর অগোচরে নেই, বরং সবই সুস্পষ্ট কিতাবে রয়েছে,আল-বায়ান
কাফিরগণ বলে- ক্বিয়ামত আমাদের নিকট আসবে না। বল, না, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমাদের নিকট তা অবশ্য অবশ্যই আসবে। তিনি যাবতীয় অদৃশ্যের জ্ঞানী। তাঁর থেকে লুক্কায়িত নেই আকাশ ও পৃথিবীতে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুকণা, না তার থেকে ছোট আর না তার থেকে বড় (কোনটাই নেই লুক্কায়িত)। সবই আছে (লাওহে মাহফুয নামক) এক সুস্পষ্ট কিতাবে।তাইসিরুল
আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা বলে -- "ঘড়িঘন্টা আমাদের উপরে আসবে না।" তুমি বলো -- "হাঁ, আমার প্রভুর কসম, এটি অবশ্যই তোমাদের উপরে এসে পড়বে, তিনি অদৃশ্য সন্বন্ধে পরিজ্ঞাত। এক অণুর ওজন পরিমাণও তাঁর থেকে লুকোনো যাবে না মহাকাশমন্ডলীতে, আর পৃথিবীতেও নয়, আর তার থেকে আরো ছোটও নেই এবং বড়ও নেই, -- বরং তা লিপিবদ্ধ রয়েছে এক সুস্পষ্ট গ্রন্থে, --মাওলানা জহুরুল হক
৫
ঠাট্টা-মস্করা করে চিবিয়ে চিবিয়ে তারা একথা বলে। তাদের একথা বলার অর্থ ছিল এই যে, বহুদিন থেকে এ পয়গম্বর সাহেব কিয়ামতের আগমনী সংবাদ দিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু জানি না আসতে আসতে তা আবার থেমে গেলো কোথায়! আমরা তার প্রতি এতই মিথ্যা আরোপ করলাম, এত গোস্তাখী করলাম তা নিয়ে এত ঠাট্টা-বিদ্রূপ করলাম কিন্তু এরপরও সেই কিয়ামত কোনভাবেই আসছে না।
৬
পরওয়ারদিগারের কসম খেয়ে তাঁর জন্য “অদৃশ্য জ্ঞানী” বিশেষণ ব্যবহার করার দ্বারা স্বতস্ফূর্তভাবে এ দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, কিয়ামতের আগমন তো অবধারিত কিন্তু তার আগমনের সময় অদৃশ্যজ্ঞানী আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। এ বিষয়টিই কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন সূরা আল আরাফ ১৮৭, তা-হা ১৫, লুকমান ৩৪, আল আহযাব ৬৩, আল মুলক ২৫-৩৬ এবং আন নাযি’আত ৪২-৪৪ আয়াত।
৭
আখেরাতের সম্ভাবনার সপক্ষে যেসব যুক্তি পেশ করা হয় এটি তার অন্যতম। যেমন সামনের দিকে ৭ আয়াতে আসছে। আখেরাত অস্বীকারকারীরা যেসব কারণে মৃত্যুর পরের জীবনকে যুক্তি বিরোধী মনে করতো তার মধ্যে একটি কথা ছিল এই যে, যখন সমস্ত মানুষ মরে মাটিতে মিশে যাবে এবং তাদের দেহের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশগুলোও চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে তখন এ অসংখ্য অংশের আবার কিভাবে একত্র হওয়া সম্ভব হবে এবং এগুলোকে এক সাথে জুড়ে আবার কেমন করে তাদেরকে সেই একই দেহাবয়বে সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। একথা বলে এ সন্দেহ নিরসন করা হয়েছে যে, আল্লাহর দপ্তরে এসব লিখিত আছে এবং আল্লাহ জানেন কোন্ জিনিসটি কোথায় গেছে। যখন তিনি পুনর্বার সৃষ্টি করার সংকল্প করবেন তখন তাঁর পক্ষে প্রতিটি ব্যক্তির দেহের অংশগুলো একত্র করা মোটেই কষ্টকর হবে না।
যে সকল কাফের আখেরাতের জীবনকে অস্বীকার করত, তারা বলত, মানুষ তো মৃত্যুর পর মাটিতে মিশে একাকার হয়ে যায়। এ অবস্থায় তাদের নতুনভাবে জীবন দান করা কিভাবে সম্ভব? এ আয়াতসমূহে তাদের সে প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, তোমরা আল্লাহ তাআলার জ্ঞান ও শক্তিকে মানুষের জ্ঞান-শক্তির সাথে তুলনা করছ! আল্লাহ তাআলার জ্ঞান তো সর্বব্যাপী। বিশ্ব জগতের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুও তাঁর জ্ঞান দ্বারা বেষ্টিত। যেই সত্তা আসমান-যমীনের মত বিপুলায়তন মাখলুককে সম্পূর্ণ নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করতে পারেন, তার পক্ষে মাটিতে মিশে যাওয়া মানব দেহের অণু-পরমাণুকে একত্র করে তাতে নতুন জীবন দান করা কঠিন হবে কেন? ৪ নং আয়াতে পরকালীন জীবনের যৌক্তিক প্রয়োজনও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদি এ দুনিয়াই সবকিছু হয় এবং দ্বিতীয় আর কোন জীবন না থাকে তবে তার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগত ও অবাধ্যদের মধ্যে কোন প্রভেদ রাখেননি, অথচ প্রভেদ থাকা অপরিহার্য। আর সে কারণেই আখেরাতের জীবন জরুরি। সেখানে অনুগতদেরকে তাদের সৎকর্মের পুরস্কার দেওয়া হবে এবং অবাধ্যদেরকে তাদের অসৎকর্মের শাস্তি দেওয়া হবে।
৩. আর কাফিররা বলে, আমাদের কাছে কিয়ামত আসবে না। বলুন, অবশ্যই হ্যাঁ, শপথ আমার রবের, নিশ্চয় তোমাদের কাছে তা আসবে। তিনি গায়েব সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত; আসমানসমূহ ও যমীনে তাঁর অগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তার চেয়ে ছোট বা বড় কিছু; এর প্রত্যেকটিই আছে সুস্পষ্ট কিতাবে।(১)
(১) অর্থাৎ কোন কিছুই হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সবকিছুই এক কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে। সে কিতাব হচ্ছে, লাওহে মাহফুয। (মুয়াস্সার)
(৩) অবিশ্বাসীরা বলে, ‘আমরা কিয়ামতের সম্মুখীন হব না।’ বল, ‘অবশ্যই তোমাদেরকে তার সম্মুখীন হতেই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ; যিনি অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।(1) আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে অণু পরিমাণ কিছু কিংবা তার থেকে ক্ষুদ্র অথবা বৃহৎ কিছু তাঁর অগোচর নয়; (2) ওর প্রত্যেকটি সুস্পষ্ট গ্রন্থে লিপিবদ্ধ। (3)
(1) উক্ত বাক্যে মহান আল্লাহ শপথও করেছেন এবং তাকীদের শব্দও ব্যবহার করেছেন এবং তার উপর তাকীদের ‘লাম’ ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ কিয়ামত কেন সংঘটিত হবে না? তা যে কোন অবস্থায় অবশ্য-অবশ্যই সংঘটিত হবে।
(2) لاَيَعْزُبُ অদৃশ্য, গুপ্ত ও দূর নয়। অর্থাৎ, যখন আকাশ ও পৃথিবীর অণু পরিমাণ কিছু তাঁর দৃষ্টিতে অদৃশ্য ও অগোচর নয়, তখন তোমাদের শরীরের বিক্ষিপ্ত অংশ যা মাটিতে মিশে গেছে তা একত্রিত করে পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করা কেন সম্ভব হবে না?
(3) অর্থাৎ, তা লাওহে মাহ্ফূযে সংরক্ষিত ও লিপিবদ্ধ আছে।