وَأَنزَلَ ٱلَّذِينَ ظَٰهَرُوهُم مِّنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ مِن صَيَاصِيهِمۡ وَقَذَفَ فِي قُلُوبِهِمُ ٱلرُّعۡبَ فَرِيقٗا تَقۡتُلُونَ وَتَأۡسِرُونَ فَرِيقٗا

ওয়া আনঝালাল্লাযীনা জা-হারূহুম মিন আহলিল কিতা-বি মিন সায়া-সীহিম ওয়া কাযাফা ফী কুলূবিহিমুর রু‘বা ফারীকান তাকতুলূনা ওয়া তা’ছিরূনা ফারীক-।উচ্চারণ

তারপর আহলি কিতাবদের মধ্য থেকে যারাই এর আক্রমণকারীদের সাথে সহযোগিতা করেছিল ৪০ তাদের দুর্গ থেকে আল্লাহ‌ তাদেরকে নামিয়ে এনেছেন এবং তাদের অন্তরে তিনি এমন ভীতি সঞ্চার করেছেন যার ফলে আজ তাদের একটি দলকে তোমরা হত্যা করছো এবং অন্য একটি দলকে করছো বন্দী। তাফহীমুল কুরআন

কিতাবীদের মধ্যে যারা তাদেরকে (অর্থাৎ মুসলিমদের শত্রুদেরকে) সাহায্য করেছিল, আল্লাহ তাদেরকে তাদের দুর্গ থেকে অবতরণে বাধ্য করলেন #%২২%# এবং তাদের অন্তরে এমন ভীতি সঞ্চার করলেন যে, (হে মুসলিমগণ!) তাদের কতককে তো তোমরা হত্যা করছিলে আর কতককে করছিলে বন্দী।মুফতী তাকী উসমানী

কিতাবীদের মধ্যে যারা তাদেরকে সাহায্য করেছিল তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ হতে অবতরণে বাধ্য করলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন; ফলে তোমরা তাদের কতককে হত্যা করেছ এবং কতককে করছ বন্দী।মুজিবুর রহমান

কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফেরদের পৃষ্টপোষকতা করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ থেকে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। ফলে তোমরা একদলকে হত্যা করছ এবং একদলকে বন্দী করছ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কিতাবীদের মধ্যে যারা এদেরকে সাহায্য করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দুর্গ হতে অবতরণ করাইলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন; এখন তোমরা এদের কতককে হত্যা করছো এবং কতককে করছো বন্দী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা তাদের সহযোগিতা করেছিল, আল্লাহ তাদেরকে অবতরণ করালেন তাদের দুর্গসমূহ থেকে এবং তাদের অন্তরসমূহে ভীতির সঞ্চার করলেন। ফলে তোমরা হত্যা করছ একদলকে, আর বন্দী করছ অন্য দলকে।আল-বায়ান

আর গ্রন্থধারীদের মধ্য হতে যারা তাদেরকে (অর্থাৎ সম্মিলিত কাফির বাহিনীকে) সাহায্য করেছিল তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ হতে নামিয়ে দিলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি নিক্ষেপ করলেন। তাদের কতককে তোমরা হত্যা করলে, আর কতককে করলে বন্দী।তাইসিরুল

আর গ্রন্থধারীদের মধ্যের যারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল তাদের তিনি নামিয়ে এনেছিলেন তাদের দুর্গ থেকে, আর তাদের হৃদয়ে ভীতি সঞ্চার করেছিলেন, একদলকে তোমরা হত্যা করেছিলে ও বন্দী করেছিলে আরেক দলকে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪০

অর্থাৎ ইহুদি বনী কুরাইযা।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা বনু কুরাইজার প্রতি ইশারা করা হয়েছে। এটা ছিল ইয়াহুদীদের একটি গোত্র। এ গোত্রটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য চুক্তিবদ্ধ ছিল। কিন্তু আহযাবের যুদ্ধকালে তারা চুক্তি ভঙ্গ করে হানাদারদের সাথে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছিল এবং তারা পিছন দিক থেকে মুসলিমদের উপর আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছিল। সঙ্গত কারণেই আহযাবের যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্র মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার হুকুমে তাদের উপর আক্রমণ চালান। অবস্থা বেগতিক দেখে তারা তাদের সুরক্ষিত দুর্গের ভেতর আশ্রয় নেয়। মুসলিমগণ দীর্ঘ এক মাস তাদেরকে অবরোধ করে রাখে। পরিশেষে তারা দুর্গ ত্যাগ করতে বাধ্য হয় এবং হযরত সাদ ইবনে মুআয (রাযি.) তাদের সম্পর্কে যে ফায়সালা দেবেন তা মেনে নেবে বলে সম্মতি জানায়। হযরত সাদ ইবনে মুআয (রাযি.) রায় দিলেন, তাদের মধ্যে যারা যুদ্ধক্ষম পুরুষ তাদেরকে হত্যা করা হোক এবং নারী ও শিশুদেরকে কয়েদী বানিয়ে রাখা হোক। সুতরাং এরূপই করা হল।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৬. আর কিতাবীদের(১) মধ্যে যারা তাদেরকে সাহায্য করেছিল, তাদেরকে তিনি তাদের দূর্গ হতে অবতরণ করালেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন; তোমরা তাদের কিছু সংখ্যককে হত্যা করছি এবং কিছু সংখ্যককে করছ বন্দী।(২)

(১) অর্থাৎ বনী কুরাইযার ইয়াহুদী সম্প্রদায়। (মুয়াস্‌সার)

(২) এখানে বনু-কুরাইযার ঘটনা বিবৃত হয়েছে। বলা হয়েছে, যে সকল আহলে কিতাব সম্মিলিত শত্রুবাহিনীর সহযোগিতা করেছে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের প্রতি ভীতি সঞ্চার করে তাদেরকে তাদের সুরক্ষিত দুর্গ থেকে নীচে নামিয়ে দেন এবং তাদের ধন-সম্পদ ও ঘর-বাড়ি মুসলিমগণের স্বত্বভুক্ত করে দেন। (দেখুন: মুয়াস্‌সার)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৬) গ্রন্থধারীদের মধ্যে যারা ওদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল তাদেরকে তিনি দুর্গ হতে অবতরণে বাধ্য করলেন এবং তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করলেন; এখন তোমরা ওদের এক দলকে হত্যা করছ এবং এক দলকে বন্দী করছ।