يَـٰٓأَيُّهَا ٱلنَّبِيُّ ٱتَّقِ ٱللَّهَ وَلَا تُطِعِ ٱلۡكَٰفِرِينَ وَٱلۡمُنَٰفِقِينَۚ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا

ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুত্তাকিল্লা-হা ওয়ালা তুতি‘ইল ক-ফিরীনা ওয়াল মুনা-ফিকীনা ইন্নাল্লা-হা ক-না ‘আলীমান হাকীমা।উচ্চারণ

হে নবী! আল্লাহকে ভয় করো এবং কাফের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই সর্বজ্ঞ ও মহাজ্ঞানী। তাফহীমুল কুরআন

হে নবী! আল্লাহকে ভয় করতে থাক এবং কাফের ও মুনাফেকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী

হে নাবী! আল্লাহকে ভয় কর এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করনা। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান

হে নবী! আল্লাহকে ভয় করুন এবং কাফের ও কপট বিশ্বাসীদের কথা মানবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে নবী ! আল্লাহ্কে ভয় কর এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য কর না। আল্লাহ্ তো সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে নবী, আল্লাহকে ভয় কর এবং কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সম্যক জ্ঞানী, মহাপ্রজ্ঞাময়।আল-বায়ান

হে নবী (সা)! আল্লাহকে ভয় কর, আর কাফির ও মুনাফিকদের আনুগত্য কর না, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞাতা, মহাপ্রজ্ঞাময়।তাইসিরুল

হে প্রিয় নবী! আল্লাহ্‌কে ভয়-ভক্তি করো আর অবিশ্বাসীদের ও মুনাফিকদের আজ্ঞাপালন করো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ সর্বজ্ঞাতা, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

ওপরে ভূমিকায় বর্ণনা করে এসেছি, এ আয়াত এমন এক সময় নাযিল হয় যখন হযরত যায়েদ (রা.) হযরত যয়নবকে (রা.) তালাক দিয়েছিলেন। তখন নবী ﷺ নিজেও অনুভব করেছিলেন এবং আল্লাহর ইশারাও এটিই ছিল যে, দত্তক সম্পর্কের ব্যাপারে জাহেলীয়াতের রসম-রেওয়াজ ও কুসংস্কারের ওপর আঘাত হানার এটিই মোক্ষম সময়। নবীর ﷺ নিজেকে অগ্রসর হয়ে তাঁর দত্তক পুত্রের (যায়েদ) তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করা উচিত। এভাবে এ রেওয়াজটি চূড়ান্তভাবে খতম হয়ে যাবে। কিন্তু যে কারণে নবী করীম ﷺ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে ইতস্তত করেছিলেন তা ছিল এ আশঙ্কা যে, এর ফলে তাঁর একের পর এক সাফল্যের কারণে যে কাফের ও মুশরিকরা পূর্বেই ক্ষিপ্ত হয়েই ছিল এখন তাঁর বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা করার জন্য তাঁরা একটি শক্তিশালী অস্ত্র পেয়ে যাবে। এটা তাঁর নিজের দুর্নামের আশঙ্কা জনিত ভয় ছিল না। বরং এ কারণে ছিল যে, এর ফলে ইসলামের উপর আঘাত আসবে, শত্রুদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে ইসলামের প্রতি ঝুঁকে পড়া বহু লোকের মনে ইসলাম সম্পর্কে খারাপ ধারণা জন্মাবে, বহু নিরপেক্ষ লোক শত্রুপক্ষে যোগ দেবে এবং স্বয়ং মুসলমানদের মধ্যে যারা দুর্বল বুদ্ধি ও মননের অধিকারী তারা সন্দেহ-সংশয়ের শিকার হবে। তাই নবী ﷺ মনে করতেন, জহেলীয়াতের একটি রেওয়াজ পরিবর্তন করার জন্য এমন পদক্ষেপ উঠানো কল্যাণকর নয় যার ফলে ইসলামের বৃহত্তর উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভাষণ শুরু করে প্রথম বাক্যেই নবী করীমের ﷺ এ আশঙ্কার অবসান ঘটিয়েছেন। বক্তব্যের নিগূঢ় অর্থ হচ্ছে দ্বীনের কল্যাণ কিসে এবং কিসে নয় এ বিষয়টি আমিই ভালো জানি। কোন্‌ সময় কোন্‌ কাজটি করতে হবে এবং কোন্ কাজটি অকল্যাণকর তা আমি জানি। কাজেই তুমি এমন কর্মনীতি অবলম্বন করো না যা কাফের ও মুনাফিকদের ইচ্ছার অনুসারী হয় বরং এমন কাজ করো যা হয় আমার ইচ্ছার অনুসারী। কাফের ও মুনাফিকদেরকে নয় বরং অামাকেই ভয় করা উচিত।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের প্রস্তাব পেশ করত। বলত, আপনি যদি আমাদের এ কথাটা মেনে নেন, তবে আমরাও আপনার কথা মানব। মুনাফেকরাও তাদের সমর্থন করে বলত, এটা তো ভালো প্রস্তাব। এটা করলে মুসলিমদের সংখ্যা বাড়বে ও শক্তি বৃদ্ধি পাবে। অথচ তাদের এ প্রস্তাব ছিল ঈমানের সম্পূর্ণ বিপরীত। ঈমানের সঙ্গে তার সহাবস্থান কখনওই সম্ভব নয়। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আশ্বস্ত করেন যে, আপনি যদি তাদের এসব প্রস্তাবে কান না দিয়ে নিজ কাজে লেগে থাকেন ও আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা রাখেন, তবে আল্লাহ তাআলা নিজেই সবকিছু ঠিকঠাক করে দেবেন। কেননা কর্মবিধায়ক হিসেবে তিনিই যথেষ্ট।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. হে নবী! আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করুন এবং কাফিরদের ও মুনাফিকদের আনুগত্য করবেন না। আল্লাহ তো সর্বজ্ঞ, হিকমতওয়ালা।(১)

(১) এ আয়াতের উপসংহার (إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا) বলে আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করার এবং কাফের ও মুনাফেকদের অনুসরণ না করার পূর্ব বর্ণিত যে হুকুম তার তাৎপর্য ও যৌক্তিকতা বর্ণনা করা হয়েছে। কেননা, যে আল্লাহ যাবতীয় কর্মের পরিণতি ও ফলাফল সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত, তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। মানুষের যাবতীয় কল্যাণ ও মঙ্গল তাঁর পরিজ্ঞাত। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১) হে নবী! আল্লাহকে ভয় কর(1) এবং অবিশ্বাসী ও কপটাচারীদের আনুগত্য করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।(2)

(1) এই আয়াতে সর্বাবস্থায় আল্লাহভীতি এবং দাওয়াত ও তবলীগের কাজে অটল থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। ত্বালক্ব বিন হাবীব বলেন, ‘তাকওয়া হল এই যে, তুমি আল্লাহর আনুগত্য আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী করবে ও আল্লাহর কাছে নেকীর আশা রাখবে এবং আল্লাহর অবাধ্যতা আল্লাহর দেওয়া বিধান অনুযায়ী বর্জন করবে ও আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করবে। (ইবনে কাসীর)

(2) সুতরাং তিনিই আনুগত্য পাওয়ার অধিকারী। যেহেতু তিনি পরিণাম সম্বন্ধে অবগত আছেন এবং তিনি নিজ কথা ও কাজে হিকমত-ওয়ালা।