وَلَوۡ تَرَىٰٓ إِذِ ٱلۡمُجۡرِمُونَ نَاكِسُواْ رُءُوسِهِمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ رَبَّنَآ أَبۡصَرۡنَا وَسَمِعۡنَا فَٱرۡجِعۡنَا نَعۡمَلۡ صَٰلِحًا إِنَّا مُوقِنُونَ

ওয়া লাও তারইযিল মুজরিমূনা না-কিছূরুঊছিহিম ‘ইনদা রব্বিহিম রব্বানাআবসারনা-ওয়া ছামি‘না-ফারজি‘না-না‘মাল সা-লিহান ইন্না-মূকিনূন।উচ্চারণ

হায়, ২২ যদি তুমি দেখতে সে সময় যখন এ অপরাধীরা মাথা নিচু করে তাদের রবের সামনে দাঁড়িয়ে থাকবে। (তখন তারা বলতে থাকবে) “হে আমাদের রব! আমরা ভালোভাবেই দেখে নিয়েছি ও শুনেছি, এখন আমাদের ফেরত পাঠিয়ে দাও, আমরা সৎকাজ করবো, এবার আমাদের বিশ্বাস হয়ে গেছে।” তাফহীমুল কুরআন

এবং হায়! তুমি যদি সেই দৃশ্য দেখতে, যখন অপরাধীরা নিজ প্রতিপালকের সামনে মাথা নুইয়ে (দাঁড়িয়ে) থাকবে (এবং বলবে!) হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা (এবার প্রকৃত বিষয়) দেখলাম ও শুনলাম। সুতরাং আমাদের পুনরায় (দুনিয়ায়) পাঠিয়ে দিন। তাহলে আমরা সৎকাজ করব। আমরা যথার্থ বিশ্বাসী হয়ে গিয়েছি।মুফতী তাকী উসমানী

এবং হায়! তুমি যদি দেখতে! যখন অপরাধীরা তাদের রবের সামনে অধোবদন হয়ে বলবেঃ হে আমাদের রাবব! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম; এখন আপনি আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ করুন, আমরা সৎ কাজ করব, আমরাতো দৃঢ় বিশ্বাসী।মুজিবুর রহমান

যদি আপনি দেখতেন যখন অপরাধীরা তাদের পালনকর্তার সামনে নতশির হয়ে বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমরা দেখলাম ও শ্রবণ করলাম। এখন আমাদেরকে পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। আমরা দৃঢ়বিশ্বাসী হয়ে গেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হায়, তুমি যদি দেখতে ! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে অধোবদন হয়ে বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক ! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শোনে করলাম, এখন তুমি আমাদেরকে পুনরায় প্রেরণ কর, আমরা সৎকর্ম করব, আমরা তো দৃঢ় বিশ্বাসী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যদি তুমি দেখতে, যখন অপরাধীরা তাদের রবের সামনে মাথানত হয়ে থাকবে! (তারা বলবে) ‘হে আমাদের রব, আমরা দেখেছি ও শুনেছি, কাজেই আমাদেরকে পুনরায় পাঠিয়ে দিন, আমরা সৎকর্ম করব। নিশ্চয় আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী’।আল-বায়ান

তুমি যদি দেখতে যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সামনে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে (আর বলবে), হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শুনলাম; কাজেই আমাদেরকে আবার পাঠিয়ে দিন, আমরা ভাল কাজ করব, আমরা (এখন) দৃঢ় বিশ্বাসী।তাইসিরুল

আর তুমি যদি দেখতে পেতে যখন অপরাধীরা তাদের মাথা হেঁট করবে তাদের প্রভুর সামনে -- "আমাদের প্রভু! আমরা দেখতে পাচ্ছি ও শুনতে পাচ্ছি, সুতরাং আমাদের ফেরত পাঠিয়ে দাও, আমরা সৎকর্ম করব, নিঃসন্দেহ আমরা সুনিশ্চিত।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২২

এবার মানুষের এ “অহম” যখন তার রবের কাছে ফিরে গিয়ে নিজের হিসেব দেবার জন্য তার সামনে দাঁড়াবে তখনকার অবস্থার চিত্র অংকন করা হচ্ছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১২. আর আপনি যদি দেখতেন! যখন অপরাধীরা তাদের রবের নিকট অবনত মস্তকে বলবে, হে আমাদের রব! আমরা দেখলাম ও শুনলাম, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ফেরত পাঠান, আমরা সৎকাজ করব, নিশ্চয় আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী।(১)

(১) অন্য আয়াতে আল্লাহ জানিয়েছেন যে, তাদেরকে যদি ফেরৎ দেয়া হত, তবে তারা পুনরায় আল্লাহর দ্বীনের উপর মিথ্যারোপ করত। আল্লাহ বলেন, “আপনি যদি দেখতে পেতেন যখন তাদেরকে আগুনের উপর দাঁড় করান হবে তখন তারা বলবে, হায়! যদি আমাদেরকে ফেরত পাঠান হত, আর আমরা আমাদের রবের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ না করতাম এবং আমরা মুমিনদের অন্তর্ভুক্ত হতাম। বরং আগে তারা যা গোপন করত তা এখন তাদের কাছে প্ৰকাশ হয়ে গিয়েছে। আর তারা আবার ফিরে গেলেও তাদেরকে যা করতে নিষেধ করা হয়েছিল আবার তারা তাই করত এবং নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।” (সূরা আল-আন’আম: ২৭–২৮)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২) যদি তুমি দেখতে! অপরাধীরা যখন তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে মাথা নত করে(1) বলবে, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা দেখলাম ও শুনলাম; (2) এখন তুমি আমাদের পুনরায় (পৃথিবীতে) পাঠিয়ে দাও, আমরা সৎকাজ করব। নিশ্চয়ই আমরা (এখন) দৃঢ় বিশ্বাসী।’ (3)

(1) অর্থাৎ, নিজেদের কুফরী, শিরক এবং অবাধ্যতা দরুন লজ্জিত হওয়ার কারণে।

(2) অর্থাৎ, যা মিথ্যা মনে করতাম, তা দেখলাম এবং যা অস্বীকার করতাম, তা শুনলাম। অথবা তোমার শাস্তির হুমকির সত্যতা দেখলাম এবং পয়গম্বরগণের সত্যতা শুনলাম। কিন্তু সেই সময়কার দেখা ও শোনা কোন কাজে আসবে না।

(3) এখন দৃঢ় বিশ্বাস করলেও লাভ কি? এখন তো আল্লাহর শাস্তি অবধারিত হয়ে গেছে, যা ভোগ করতেই হবে।