وَقَالُوٓاْ أَءِذَا ضَلَلۡنَا فِي ٱلۡأَرۡضِ أَءِنَّا لَفِي خَلۡقٖ جَدِيدِۭۚ بَلۡ هُم بِلِقَآءِ رَبِّهِمۡ كَٰفِرُونَ

ওয়া ক-লূ ইযা-দালালনা-ফিল আরদিআইন্না-লাফী খালকিন জাদীম বাল হুম বিলিকাই রব্বিহিম ক-ফিরূন।উচ্চারণ

“আর ১৯ এরা বলে, “যখন আমরা মাটিতে মিশে একাকার হয়ে যাবো তখন কি আমাদের আবার নতুন করে সৃষ্টি করা হবে?” আসল কথা হচ্ছে, এরা নিজেদের রবের সাথে সাক্ষাৎকার অস্বীকার করে। ২০ তাফহীমুল কুরআন

তারা বলে, আমরা যখন মাটিতে মিশে হারিয়ে যাব, তখনও কি আমরা এক নতুন জন্ম লাভ করব? প্রকৃতপক্ষে তারা তাদের প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হওয়াকে অস্বীকার করে।মুফতী তাকী উসমানী

তারা বলেঃ আমরা মাটিতে পর্যবসিত হলেও কি আমাদেরকে আবার নতুন করে সৃষ্টি করা হবে? বস্তুতঃ তারা তাদের রবের সাক্ষাৎকার অস্বীকার করে।মুজিবুর রহমান

তারা বলে, আমরা মৃত্তিকায় মিশ্রিত হয়ে গেলেও পুনরায় নতুন করে সৃজিত হব কি? বরং তারা তাদের পালনকর্তার সাক্ষাতকে অস্বীকার করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা বলে, ‘আমরা মৃত্তিকায় পর্যবসিত হলেও কি আমাদেরকে আবার নূতন করে সৃষ্টি করা হবে ?’ বরং এরা এদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎ অস্বীকার করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা বলে, ‘আমরা যখন মাটিতে মিশে যাব তখন কি আবার নতুন সৃষ্টি হব’? বরং তারাতো তাদের রবের সাক্ষাৎকে অস্বীকারকারী।আল-বায়ান

তারা বলে, কী! আমরা মাটিতে মিশিয়ে গেলেও কি আমাদেরকে আবার নতুন ক’রে সৃষ্টি করা হবে? বরং তারা তাদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করে।তাইসিরুল

আর তারা বলে -- "কি, যখন আমরা মাটিতে মিলিয়ে যাই, তখন কি আমরা নতুন সৃষ্টিতে পৌঁছব?" বস্তুত তারা তাদের প্রভুর সাথে মুলাকাত হওয়া সন্বন্ধে অবিশ্বাসী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৯

রিসালাত ও তাওহীদ সম্পর্কে কাফেরদের আপত্তির জবাব দেবার পর এবার ইসলামের তৃতীয় মৌলিক আকীদা অর্থাৎ আখেরাত সম্পর্কে তাদের আপত্তি উল্লেখ করে তার জবাব দেয়া হচ্ছে। আয়াতে وَقَالُوا শব্দের প্রথমে যে “ওয়াও” হরফটি বসানো হয়েছে সেটি আসলে পূর্ববর্তী বিষয়বস্তুর সাথে এ প্যারাগ্রাফটির সম্পর্ক জুড়ে দিয়েছে। অর্থাৎ শব্দ বিন্যাস যেন এভাবে করা হয়েছেঃ “তারা বলে মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল নয়”, “তারা বলে আল্লাহ‌ একক উপাস্য নয়” এবং “তারা বলে আমরা মারা যাবার পর আবার আমাদের উত্থান হবে না।”

২০

ওপরের বাক্য এবং এ বাক্যের মধ্যে পুরোপুরি একটি কাহিনী অব্যক্ত রয়ে গেছে। শ্রোতার চিন্তার ওপর এটা ছেড়ে দেয়া হয়েছে। প্রথম বাক্যে কাফেরদের যে আপত্তির কথা বলা হয়েছে তা এতই বাজে ও উদ্ভট যে, তার প্রতিবাদ করার প্রয়োজন অনুভব করা হয়নি। শুধুমাত্র তার উল্লেখ করাই তার উদ্ভট হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য যথেষ্ট মনে করা হয়েছে। কারণ তাদের আপত্তি যে দু’টি অংশ নিয়ে সে দু’টিই আদতে অযৌক্তিক। তাদের একথা বলা, “আমরা মাটিতে মিশে যাবো” এর কি অর্থ হতে পারে? “আমরা” যে জিনিসটির নাম সেটি আবার কবে মাটিতে মিশে যায়? মাটিতে তো কেবল সেই দেহ মিশে যায় যার ভেতর থেকে “আমরা” বের হয়ে গেছে। দেহের নাম “আমরা” নয়। জীবন্ত অবস্থায় যখন সেই দেহের অংশগুলো কেটে ফেলা হয় তখন অঙ্গের পর অঙ্গ কেটে ফেলা হয় কিন্তু “আমরা” পুরোপুরি নিজের জায়গায় থেকে যায়। তার কোন একটি অংশও কর্তিত কোন অঙ্গের সাথে চলে যায় না। আর যখন “আমরা” দেহ থেকে বের হয়ে যায় তখন সম্পূর্ণ দেহটি বর্তমান থাকলেও তার ওপর এই “আমরা” এর কোন সামান্যতম অংশও প্রযোজ্য হয় না। তাইতো একজন প্রাণ উৎসর্গকারী প্রেমিক নিজের প্রেমাস্পদের মৃতদেহটি নিয়ে কবরস্থ করে। কারণ প্রেমাস্পদ সে দেহ থেকে বের হয়ে গেছে। এখন আর সে প্রেমাস্পদ নয়। বরং যে দেহের মধ্যে এক সময় প্রেমাস্পদ থাকতো সেই শূন্য দেহ পিঞ্জরটিকে সে দাফন করে। কাজেই আপত্তি উত্থাপনকারীদের আপত্তির প্রথম কথাই ভিত্তিহীন। এখন থাকে এর দ্বিতীয় অংশ। অর্থাৎ “আমাদের কি আবার নতুন করেসৃষ্টি করা হবে? ” এ ধরনের অস্বীকার ও বিস্ময়সূচক প্রশ্ন আদতে সৃষ্টিই হতো না যদি আপত্তিকারীরা কথা বলার আগে এই “আমরা” এবং এ প্রশ্নের উদ্ভব ঘটার তাৎপর্য নিয়ে একটু খানি চিন্তা-ভাবনা করতো। এই “আমরা” এর বর্তমান জন্মের উৎস এ ছাড়া আর কি যে, কোথাও থেকে কয়লা, কোথাও থেকে লোহা, কোথাও থেকে চুন এবং এ ধরনের অন্যান্য উপকরণ একত্র হয়ে গেছে আর এপর তাদের মৃত্তিকায় দেহ পিঞ্জরে এ “আমরা” বিরাজিত হয়েছে। তারপর তাদের মৃত্যুর পর কি ঘটে? তাদের মৃত্তিকার দেহপিঞ্জর থেকে যখন “আমরা” বের হয়ে যায় তখন তাদের আবাস নির্মাণ করার জন্য মাটির বিভিন্ন অংশ থেকে তাদের শরীরের যেসব অংশ সংগ্রহ করা হয়েছিল তা সবই সেই মাটিতে ফিরে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রথমে যে এই “আমরা” কে এ আবাস তৈরি করে দিয়েছিলেন, তিনি কি পুনর্বার সেই একই উপকরণের সাহায্যে সেই একই আবাস তৈরি করে নতুন করে তাদেরকে তার মধ্যে রাখতে পারেন না? এ জিনিস যখন প্রথম সম্ভব ছিল এবং ঘটনার রূপ পরিগ্রহ করার পথে বাধা কোথায়? সামান্য বুদ্ধি ব্যবহার করলে মানুষ নিজেই এগুলো বুঝতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারে সে নিজের বুদ্ধি প্রয়োগ করে না কেন? কি কারণে সে জেনে বুঝে মৃত্যু পরের জীবন ও পরকাল সম্পর্কে এ ধরনের অযথা আপত্তি তুলছেন? মাঝখানের সমস্ত আলোচনা বাদ দিয়ে মহান আল্লাহ‌ দ্বিতীয় বাক্যে এ প্রশ্নেরই জবাব দিচ্ছেন এভাবেঃ “আসলে এরা এদের রবের সাথে সাক্ষাতকার অস্বীকার করে।” অর্থাৎ আসল কথা এ নয় যে, পুনর্বার সৃষ্টি কোন অভিন্ন ও অসম্ভব কথা, ফলে একথা তারা বুঝতে পারছে না। বরং তাদের একথা বুঝার পথে যে জিনিসটি বাধা দিচ্ছে তা হচ্ছে তাদের এ ইচ্ছা যে, তারা পৃথিবীতে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াবে, ইচ্ছা মতো পাপকাজ করবে এবং তারপর কোনো প্রকার দণ্ড লাভ না করেই (set-free) এখান থেকে বের হয়ে যাবে, তারপর তাদেরকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্য কোন জবাবদিহি তাদের করতে হবে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১০. আর তারা বলে, আমরা মাটিতে হারিয়ে গেলেও কি আমরা হবো নূতন সৃষ্টি? বরং তারা তাদের রবের সাক্ষাতের সাথে কুফরিকারী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০) ওরা বলে, ‘আমরা মাটিতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও কি আমাদেরকে আবার নতুন করে সৃষ্টি করা হবে?’ (1) আসলে ওরা ওদের প্রতিপালকের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করে।

(1) যখন এক বস্তুর উপর অন্য এক বস্তু প্রভাবশালী হয় এবং পূর্বের সমস্ত চিহ্নকে মিটিয়ে দেয়, তখন তাকে ضلالة (নিশ্চিহ্ন হওয়া) বলা হয়। এখানে (ضَلَلْنَا فِي الأَرْضِ) এর অর্থ হবে, মাটিতে মিশে আমাদের দেহ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও কি---।