ইয়া-বুনাইইয়া আকিমিসসালা-তা ওয়া’মুর বিলমা‘রূফি ওয়ানহা ‘আনিল মুনকারি ওয়াসবির ‘আলা-মাআসা-বাকা ইন্না যা-লিকা মিন ‘আঝমিল উমূর।উচ্চারণ
হে পুত্র! নামায কায়েম করো, সৎকাজের হুকুম দাও, খারাপ কাজে নিষেধ করো এবং যা কিছু বিপদই আসুক সেজন্য সবর করো। ২৯ একথাগুলোর জন্য বড়ই তাকিদ করা হয়েছে। ৩০ তাফহীমুল কুরআন
বাছা! নামায কায়েম কর, মানুষকে সৎকাজের আদেশ কর, মন্দ কাজে বাধা দাও এবং তোমার যে কষ্ট দেখা দেয়, তাতে সবর কর। নিশ্চয়ই এটা অত্যন্ত হিম্মতের কাজ। #%১২%#মুফতী তাকী উসমানী
হে বৎস! সালাত কায়েম করবে, ভাল কাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করবে এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ করবে, এটাইতো দৃঢ় সংকল্পের কাজ।মুজিবুর রহমান
হে বৎস, নামায কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, মন্দকাজে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে সবর কর। নিশ্চয় এটা সাহসিকতার কাজ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘হে বৎস ! সালাত কায়েম কর, সৎকর্মের নির্দেশ দিও আর অসৎ কর্মে নিষেধ কর এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ কর। এটাই তো দৃঢ়সংকল্পের কাজ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘হে আমার প্রিয় বৎস, সালাত কায়েম কর, সৎকাজের আদেশ দাও, অসৎকাজে নিষেধ কর এবং তোমার উপর যে বিপদ আসে তাতে ধৈর্য ধর। নিশ্চয় এগুলো অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ’।আল-বায়ান
হে বৎস! তুমি নামায কায়িম কর, সৎ কাজের নির্দেশ দাও আর মন্দ কাজ হতে নিষেধ কর এবং বিপদাপদে ধৈর্যধারণ কর। নিশ্চয় এটা দৃঢ় সংকল্পের কাজ।তাইসিরুল
"হে আমার পুত্র, নামায কায়েম করো, আর সৎকাজের নির্দেশ দিয়ো ও অসৎকাজে নিষেধ করো, আর তোমার উপরে যাই ঘটুক তা সত্ত্বেও অধ্যবসায় চালিয়ে যাও। নিঃসন্দেহ এটিই হচ্ছে দৃঢ়সংকল্পজনক কার্যাবলীর মধ্যেকার।মাওলানা জহুরুল হক
২৯
এর মধ্যে এদিকে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত রয়েছে যে, সৎকাজের হুকুম দেয়া এবং অসৎকাজে নিষেধ করার দায়িত্ব যে ব্যক্তিই পালন করবে তাকে অনিবার্যভাবে বিপদ আপদের মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের লোকের পেছনে দুনিয়া কোমর বেঁধে লেগে যাবে এবং সব ধরনের কষ্টের সম্মুখীন তাকে হতেই হবে।
৩০
এর দ্বিতীয় অর্থ হতে পারে, এটি বড়ই হিম্মতের কাজ। মানবতার সংশোধন এবং তার সংকট উত্তরণে সাহায্য করার কাজ কম হিম্মতের অধিকারী লোকদের পক্ষে সম্ভব নয়। এসব কাজ করার জন্য শক্ত বুকের পাটা দরকার।
অর্থাৎ সালাত কায়েম তথা সমস্ত নিয়ম রক্ষা করে ওয়াক্ত মত জামাতের সাথে নামায আদায়ে যত্নবান থাকা, যথাযথ নিয়মে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করা এবং আপতিত সকল পরিস্থিতিতে ধৈর্যধারণ করা খুব বেশি সহজ ব্যাপার নয়। এর জন্য অটুট সংকল্প ও দৃঢ় মনোবল দরকার। সেই সংকল্প ও মনোবল নিয়েই তোমাকে এ নির্দেশ তিনটি পালন করে যেতে হবে। ِنَّ ذٰلِكَ مِنْ عَزْمِ الْاُمُرْرِ এর এক অর্থ হতে পারে, ‘এগুলো বাধ্যতামূলক বিষয়াবলীর অন্তর্ভুক্ত’। অর্থাৎ এ বিষয় তিনটি তোমাদের প্রতি অবধারিত করে দেওয়া হয়েছে। এগুলো ঐচ্ছিক ব্যাপার নয় যে, পালন না করলেও চলবে। বরং নিজের দীন ও মানবিক পূর্ণতাবিধানের জন্য সালাত, অন্যকে দীন ও মানবিকতায় পরিপূর্ণ করে তোলার জন্য সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ এবং সকল পরিস্থিতিতে নীতি-নৈতিকতায় প্রতিষ্ঠিত থাকার জন্য সবর অবলম্বন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবশ্য পালনীয় হুকুম। এ হিসেবে عزم মাসদারটি المعزوم অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে اي من الامور المعزومة। -অনুবাদক
১৭. হে আমার প্রিয় বৎস! সালাত কায়েম করো, সৎ কাজের নির্দেশ দাও এবং অসৎ কাজে নিষেধ কর, আর তোমার উপর যা আপতিত হয় তাতে ধৈৰ্য ধারণ করা। নিশ্চয় এটা অন্যতম দৃঢ় সংকল্পের কাজ।
(১৭) হে বৎস ! যথারীতি নামায পড়, সৎকাজের নির্দেশ দাও, অসৎকাজে বাধা দান কর এবং আপদে-বিপদে ধৈর্য ধারণ কর। (1) নিশ্চয়ই এটিই দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (2)
(1) নামায প্রতিষ্ঠা, ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজে বাধা দান এবং মুসীবতে ধৈর্যধারণ করার কথা উল্লেখ এই জন্য করা হয়েছে যে, উক্ত তিনটিই গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও ভাল কাজের মূল বা ভিত্তি।
(2) অর্থাৎ, পূর্বে আলোচিত কথাগুলি ঐ সকল কর্মের অন্তর্ভুক্ত, যে বিষয়ে আল্লাহ্ তাআলা তাকীদ করেছেন এবং বান্দার উপর তা ফরয করেছেন। অথবা এ হল শক্ত মনোবল ও সুদৃঢ় হিম্মত সৃষ্টি করার জন্য উদ্বুদ্ধকারী। কারণ শক্ত মনোবল ও সুদৃঢ় হিম্মত ছাড়া উল্লিখিত নির্দেশাবলীর উপর আমল অসম্ভব। কোন কোন মুফাসসিরের মতে ذلك (এটি) বলে ধৈর্যের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইতিপূর্বে ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের অসিয়ত করা হয়েছে। যেহেতু সে পথে বিভিন্ন কষ্ট ও মানুষের কথার খোঁচা ইত্যাদি হওয়াটা স্বাভাবিক সেহেতু তার পরেই ধৈর্যধারণের কথা বলে পরিষ্কার বুঝানো হয়েছে যে, ধৈর্যধারণ করবে। কেননা, তা শক্ত মনোবল ও সুদৃঢ় হিম্মতের কাজ। আর তা শক্ত মনোবল ও সুদৃঢ় হিম্মত পোষণকারী সংকল্পবদ্ধ মানুষদের জন্য একটা বড় হাতিয়ার; যে হাতিয়ার ছাড়া তবলীগের কাজ করা সম্ভব নয়।