ওয়া মুসাদ্দিকালিল মা-বাইনা ইয়াদাইয়া মিনাত্তাওর-তি ওয়া লিউহিল্লা লাকুম বা‘দাল্লাযী হূররিমা ‘আলাইকুম ওয়া জি’তুকুম বিআ-য়াতিম মির রব্বিকুম ফাত্তাকুল্লা-হা, ওয়া আতী‘ঊন।উচ্চারণ
আমি সেই শিক্ষা ও হিদায়াতের সত্যতা ঘোষণা করার জন্য এসেছি, যা বর্তমানে আমার যুগে তাওরাতে আছে। ৪৬ আর তোমাদের জন্য যেসব জিনিস হারাম ছিল তার কতকগুলো হালাল করার জন্য আমি এসেছি। ৪৭ দেখো, তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে আমি নিশানী নিয়ে এসেছি। কাজেই আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো। তাফহীমুল কুরআন
এবং আমার পূর্বে যে কিতাব এসেছে অর্থাৎ তাওরাত, আমি তার সমর্থনকারী এবং (আমাকে এজন্য পাঠানো হয়েছে) যাতে তোমাদের প্রতি যা হারাম করা হয়েছে, তন্মধ্যে কিছু জিনিস তোমাদের জন্য হালাল করি #%২৭%# এবং আমি তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার কথা মান।মুফতী তাকী উসমানী
এবং আমি এসেছি আমার পূর্বে তাওরাতে যা ছিল তার সত্যতা প্রদান করতে এবং তোমাদের জন্য যা অবৈধ হয়েছে তার কতিপয় তোমাদের জন্য বৈধ করতে, আর তোমাদের রবের নিকট হতে তোমাদের জন্য নিদর্শন নিয়ে; অতএব আল্লাহকে ভয় কর ও আমার অনুগত হও।মুজিবুর রহমান
আর এটি পূর্ববর্তী কিতাব সমুহকে সত্যায়ন করে, যেমন তওরাত। আর তা এজন্য যাতে তোমাদের জন্য হালাল করে দেই কোন কোন বস্তু যা তোমাদের জন্য হারাম ছিল। আর আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের পালনকর্তার নিদর্শনসহ। কাজেই আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘আর আমি এসেছি আমার সামনে তাওরাতে যা আছে তার সমর্থকরূপে ও তোমাদের জন্যে যা নিষিদ্ধ ছিল তার কতকগুলিকে বৈধ করতে। আর আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে এসেছি। সুতরাং আল্লাহ্কে ভয় কর আর আমাকে অনুসরণ কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘আর আমার সামনে পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাতের যা রয়েছে তার সত্যায়নকারীরূপে এবং তোমাদের উপর যা হারাম করা হয়েছিল তার কিছু তোমাদের জন্য হালাল করতে এবং আমি তোমাদের নিকট এসেছি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নিদর্শন নিয়ে। অতএব, তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর’।আল-বায়ান
‘(আর আমি এসেছি) আমার সামনে তাওরাতের নিদর্শন যা রয়েছে তার সমর্থকরূপে যেন তোমাদের জন্য কোন কোন জিনিস হালাল করে দেই যা তোমাদের প্রতি হারাম ছিল এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে নিদর্শনসহ তোমাদের নিকট এসেছি, কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে অনুসরণ কর’।তাইসিরুল
"আর তওরাতের যা-কিছু আমার কাছে ছিল আমি তার প্রতিপাদক, আর আমি যাতে তোমাদের জন্য বৈধ করতে পারি কোনো কোনো বিষয় যা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিল, আর আমি তোমাদের কাছে এসেছি তোমাদের প্রভুর কাছ থেকে একটি বাণী নিয়ে, অতএব আল্লাহ্কে ভয়-শ্রদ্ধা করো ও আমার অনুগত হও।মাওলানা জহুরুল হক
৪৬
অর্থাৎ আমি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত হয়েছি এটি তার আর একটি প্রমাণ। যদি আমি তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত না হতাম বরং একজন মিথ্যা দাবীদার হতাম, তাহলে আমি নিজেই একটি ধর্ম তৈরী করে ফেলতাম এবং দক্ষতা সহকারে তোমাদের আগের পুরাতন ধর্ম থেকে বিচ্যুত করে নিজের নতুন উদ্ভাবিত ধর্মের দিকে টেনে আনার প্রচেষ্টা চালাতাম। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর নবীরা আমার পূর্বে যেসব দ্বীন এনেছিলেন আমি তো সেই আসল দ্বীনকে মানি এবং তার শিক্ষাকে সঠিক গণ্য করি।
বর্তমানে প্রচলিত ইঞ্জিল থেকেও একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, মূসা আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য নবীগণ যে দ্বীনের প্রচার করেছিলেন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামও সেই একই দ্বীনের প্রচারক ছিলেন। যেমন মথির বর্ণনা মতে পাহাড় থেকে প্রদত্ত ভাষণে ঈসা আলাইহিস সালাম পরিষ্কার বলেনঃ
“একথা মনে করো না যে, আমি তাওরাত বা নবীদের কিতাব রহিত করতে এসেছি। রহিত করতে নয় বরং সম্পূর্ণ করতে এসেছি।” (৫: ১৭)।
একজন ইহুদী আলেম হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন, দ্বীনের বিধানের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য হুকুম কোনটি? জবাবে তিনি বললেনঃ
“তোমার সমস্ত অন্তঃকরণ তোমার সমস্ত প্রাণ ও তোমার সমস্ত মন দিয়ে তোমার ঈশ্বর প্রভুকে প্রেম করবে। এটি মহৎ ও প্রথম হুকুম। আর দ্বিতীয়টি এর তুল্য; তোমার প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসবে। এই দু’টি হুকুমের ওপরই সমস্ত তাওরাত ও নবী রসূলদের সহীফা ও গ্রন্থসমূহ নির্ভরশীল।” (মথি ২২: ৩৭-৪০)
আবার হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তাঁর শিষ্যদের বলেনঃ
“ধর্মগুরু ও ফরীসীরা মূসার আসনে বসেছে। তারা তোমাদের যা কিছু বলে তা পালন করো ও মানো। কিন্তু তাদের মতো কাজ করো না। কারণ তারা বলে কিন্তু করে না।” (মথি ২৩: ২-৩)।
৪৭
অর্থাৎ তোমাদের মূর্খদের কাল্পনিক বিশ্বাস, ফকীহদের আইনের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বৈরাগ্যবাদীদের কৃচ্ছ্রসাধনা এবং অমুসলিম জাতিদের তোমাদের ওপর প্রাধান্য ও শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে তোমাদের আল্লাহ প্রদত্ত আসল শরীয়াতের ওপর যেসব বিধি বন্ধনের বাড়তি বোঝা আরোপিত হয়েছে, আমি সেগুলো রহিত করবো এবং আল্লাহ যেগুলো হালাল বা হারাম গণ্য করেছেন সেগুলোই আমি তোমাদের জন্য হালাল ও হারাম গণ্য করবো।
হযরত মূসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে বনী ইসরাঈলের প্রতি কিছু জিনিস, যেমন উটের গোশত, চর্বি, কোন কোন মাছ ও কয়েক প্রকার পাখি হারাম করা হয়েছিল। হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের শরীয়তে সেগুলোকে হালাল করে দেওয়া হয়।
৫০. আর আমার সামনে তাওরাতের যা রয়েছে তার সত্যায়নকারীরূপে এবং তোমাদের জন্য যা হারাম ছিল তার কিছু হালাল করে দিতে। এবং আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট নিদর্শন নিয়ে এসেছি। কাজেই তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর এবং আমার আনুগত্য কর।
(৫০) আর (আমি এসেছি) আমার পূর্বে (অবতীর্ণ) তওরাতের সত্যায়নকারীরূপে ও তোমাদের জন্য যা নিষিদ্ধ ছিল, তার কতকগুলিকে বৈধ করতে(1) এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের নিকট নিদর্শন এনেছি। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, আর আমার অনুসরণ কর।
(1) এ থেকে হয়তো সেই সব জিনিসকে বুঝানো হয়েছে, যা শাস্তি স্বরূপ মহান আল্লাহ তাদের উপর হারাম করে দিয়েছিলেন। অথবা এমন সব জিনিস, যা তাদের আলেমরা নিজস্ব ইজতিহাদ বা বিবেচনার মাধ্যমে তাদের উপর হারাম করে দিয়েছিল; যে ইজতিহাদে তারা ভুল করে ফেলেছিল। ঈসা (আঃ) তাদের ভুলকে দূর করে সে জিনিসগুলো তাদের জন্য হালাল করে দিয়েছিলেন। (ইবনে কাসীর)