ওয়াল্লাযীনা জা-হাদূফীনা-লানাহদিয়ান্নাহুম ছুবুলানা- ওয়া ইন্নাল্লা-হা লামা‘আল মুহছিনীন।উচ্চারণ
যারা আমার জন্য সংগ্রাম- সাধনা করবে তাদেরকে আমি আমার পথ দেখাবো। ১০৭ আর অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মশালীদেরই সাথে আছেন। তাফহীমুল কুরআন
যারা আমার উদ্দেশ্যে প্রচেষ্টা চালায়, আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে উপনীত করব। #%৪৫%# নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।মুফতী তাকী উসমানী
যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে, আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।মুজিবুর রহমান
যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে পরিচালিত করব। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি তাদেরকে অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ্ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে থাকেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, তাদেরকে আমি অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। আর নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের সাথেই আছেন।আল-বায়ান
আর যারা আমার পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায় তাদেরকে আমি অবশ্য অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব। অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গে আছেন।তাইসিরুল
পক্ষান্তরে যারা আমাদের জন্য সংগ্রাম করে, আমরা অবশ্যই তাদের পরিচালিত করব আমাদের পথগুলোয়। আর আল্লাহ্ নিশ্চয়ই সৎকর্মীদের সাথেই রয়েছেন।মাওলানা জহুরুল হক
১০৭
“সংগ্রাম-সাধনার” ব্যাখ্যা এ সূরা আনকাবুতের ৮ টীকায় করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সংগ্রাম-সাধনা করবে সে নিজের ভালোর জন্য করবে (৬ আয়াত)। এখানে এ নিশ্চিন্ততা দান করা হচ্ছে যে, যারা আল্লাহর পথে আন্তরিকতা সহকারে সারা দুনিয়ার সাথে সংঘর্ষের বিপদ মাথা পেতে নেয় তাদেরকে পথ দেখান এবং তার দিকে যাওয়ার পথ তাদের জন্য খুলে দেন। তারা তার সন্তুষ্টি কিভাবে লাভ করতে পারে তা তিনি প্রতি পদে পদে তাদেরকে জানিয়ে দেন। পথের প্রতিটি বাঁকে তিনি তাদেরকে আলো দেখান। যার ফলে কোনটা সঠিক পথ ও কোনটা ভুল পথ তা তারা দেখতে চায়। তাদের নিয়ত যতই সৎ ও সদিচ্ছা প্রসূত হয় ততই আল্লাহর সাহায্য, সুযোগ-সুবিধা প্রদান ও হিদায়াতও তাদের সহযোগি হয়।
যারা নিজেরা দীনের উপর চলে ও অন্যকে চালানোর চেষ্টা করে, তাদের জন্য এটা এক মহা সুসংবাদ। আল্লাহ তাআলার ওয়াদা হল, যারা দীনের পথে চেষ্টারত থাকবে এবং কখনও হতাশ হয়ে পিছিয়ে যাবে না, তিনি অবশ্যই তাদেরকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাবেন। সুতরাং পথের কষ্ট-ক্লেশের কাছে হার না মেনে প্রতিটি বাঁক থেকে নতুন উদ্যম ও প্রত্যেক সঙ্কট থেকে নতুন হিম্মতের রসদ নিয়ে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা চাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে এর তাওফীক দান করুন। আমীন।
৬৯. আর যারা আমাদের পথে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালায়, আমরা তাদেরকে অবশ্যই আমাদের পথসমূহের হিদায়াত দিব।(১) আর নিশ্চয় আল্লাহ্ মুহসিনদের সঙ্গে আছেন।(২)
(১) جهاد ও مجاهدة এর আসল অর্থ দ্বীনের পথে বাধা বিপত্তি দূর করার জন্যে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করা। এখানে এ নিশ্চয়তা দান করা হচ্ছে যে, যারা আল্লাহর পথে আন্তরিকতা সহকারে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করবে তাদেরকে মহান আল্লাহ তাদের অবস্থার ওপর ছেড়ে দেন না। বরং তিনি তাদেরকে পথ দেখান এবং তাঁর দিকে যাওয়ার পথ তাদের জন্য খুলে দেন। তারা তাঁর সন্তুষ্টি কিভাবে লাভ করতে পারে তা তিনি প্রতি পদে পদে তাদেরকে জানিয়ে দেন। এই আয়াতের তফসীরে ফুদাইল ইবন আয়াদ বলেন, যারা বিদ্যার্জনে ব্ৰতী হয়, আমি তাদের জন্য আমলও সহজ করে দেই। (বাগভী)
(২) আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার সঙ্গে থাকা দু ধরনের। এক, মুমিন, কাফির নির্বিশেষে সবার সঙ্গে থাকার অর্থ হচ্ছে তাদের সম্পর্কে পরিপূর্ণ জানা, তাদেরকে পর্যবেক্ষনে রাখা ও নিয়ন্ত্রণ করা। দুই, মুমিন, মুহসিন, মুত্তাকীদের সাথে থাকা। তাদের সঙ্গে থাকার অর্থ হচ্ছে, তাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করা, তাদের হেফাযত করা। তাছাড়া তাদের সম্পর্কে জানা, দেখা, পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ তো আছেই। তবে এটা অবশ্যই ঈমান রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ তাঁর আরশের উপরেই আছেন।
(৬৯) যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে,(1) আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব।(2) আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন। (3)
(1) অর্থাৎ, যারা আমার (সন্তুষ্টির পথে) দ্বীনের উপর আমল করতে কষ্ট, পরীক্ষা এবং সমস্যার সম্মুখীন হয়।
(2) এর অর্থ হল, দুনিয়া ও আখেরাতের ঐ সকল পথ, যে সকল পথে চললে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়।
(3) ‘ইহ্সান’-এর অর্থ হল, ‘আমি যেন আল্লাহকে দেখছি অথবা আল্লাহ আমাকে দেখছেন’ মনে করে প্রত্যেক সৎ কাজ আন্তরিকতার সাথে সম্পাদন করা। নবী (সাঃ)-এর তরীকা অনুযায়ী সে কাজ সম্পাদন করা। মন্দের প্রতিশোধে মন্দ না করে ভালো ব্যবহার প্রদর্শন করা। নিজের প্রাপ্য অধিকার ছেড়ে দেওয়া এবং অন্যকে তার অধিকার অপেক্ষা অধিক দেওয়া। এই সকল কর্ম ‘ইহ্সান’ (সৎকর্মপরায়ণতা)র অন্তর্ভুক্ত।