ওয়া কাযা-লিকা আনঝালনাইলাইকাল কিতা-বা ফাল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতাবা ইউ’মিনূনা বিহী ওয়া মিন হাউলাই মাইঁ ইউ’মিনুবিহী ওয়ামা-ইয়াজহাদু বিআ-য়া-তিনাইল্লাল ক-ফিরূন।উচ্চারণ
(হে নবী) আমি এভাবেই তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি, ৮৪ এ জন্য যাদেরকে আমি প্রথমে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এতে বিশ্বাস করে ৮৫ এবং এদের অনেকেও এতে বিশ্বাস করছে, ৮৬ আর আমার আয়াত একমাত্র কাফেররাই অস্বীকার করে। ৮৭ তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল!) এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি। সুতরাং যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা এতে ঈমান আনে এবং তাদের (অর্থাৎ মূর্তিপূজকদের) মধ্যেও কেউ কেউ এতে ঈমান আনছে। বস্তুত আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে কেবল কাফেররাই।মুফতী তাকী উসমানী
এভাবেই আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা এতে বিশ্বাস করে এবং এদেরও (মাক্কাবাসী) কেহ কেহ এতে বিশ্বাস করে। শুধু কাফিরেরাই আমার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে।মুজিবুর রহমান
এভাবেই আমি আপনার প্রতি কিতাব অবর্তীণ করেছি। অতঃপর যাদের কে আমি কিতাব দিয়েছিলাম, তারা একে মেনে চলে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদেরও) কেউ কেউ এতে বিশ্বাস রাখে। কেবল কাফেররাই আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এইভাবেই আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছিলাম তারা এতে বিশ্বাস করে। আর এদেরও কেউ কেউ এতে বিশ্বাস করে। কেউ অস্বীকার করে না আমার নিদর্শনাবলী কাফির ব্যতীত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি। অতএব, আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর প্রতি ঈমান রাখে এবং এদেরও (মক্কাবাসীদের) কেউ কেউ এর প্রতি ঈমান রাখে। আর কাফিররা ছাড়া আমার আয়াতসমূহকে কেউ অস্বীকার করে না।আল-বায়ান
(পূর্বে যেভাবে নাযিল করেছিলাম) এভাবেই আমি তোমার প্রতি কিতাব (কুরআন) নাযিল করেছি। কাজেই আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছিলাম তারা তাতে বিশ্বাস করে, আর তাদেরও (অর্থাৎ মক্কার মুশরিকদেরও) কতক তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে, অবিশ্বাসীরা ছাড়া আমার নিদর্শনাবলীকে কেউ অস্বীকার করে না।তাইসিরুল
আর এইভাবে আমরা তোমার কাছে গ্রন্থখানা অবতারণ করেছি। সুতরাং যাদের কাছে আমরা গ্রন্থ দিয়েছিলাম তারা এতে বিশ্বাস কবে, আর এদের মধ্যেও রয়েছে যারা এতে বিশ্বাস করে। আর অবিশ্বাসীদের ব্যতীত অন্যে আমাদের নির্দেশাবলীকে অস্বীকার করে না।মাওলানা জহুরুল হক
৮৪
এর দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, যেভাবে পূববর্তী নবীগণের প্রতি আমি কিতাব নাযিল করেছিলাম ঠিক তেমনিভাবে এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি। দুই, আমি এই শিক্ষা সহকারেই একে নাযিল করেছি যে, আমার পূর্ববর্তী কিতাবগুলো অস্বীকার করে নয় বরং সেগুলো সব স্বীকার করে নিয়েই একে মানতে হবে।
৮৫
পূর্বাপর বিষয়বস্তু নিজেই একথা জানিয়ে দিচ্ছে যে, এখানে সমস্ত আহলি কিতাবেরর কথা বলা হয়নি। বরং এমনসব আহলি কিতাবের কথা বলা হয়েছে যারা আল্লাহর কিতাবের সঠিক জ্ঞান ও উপলব্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। যারা কেবলমাত্র এ কিতাব বহনকারী চতুষ্পদ জীবের মতো নিছক কিতাবের বোঝা বহন করে বেড়াতেন না বরং প্রকৃত অর্থেই ছিলেন কিতাবধারী। তাদের সামনে যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে সত্যায়িত করে এ শেষ কিতাবটি এলো তখন তারা কোনো প্রকার জিদ, হঠকারিতা ও সংকীর্ণ স্বার্থ প্রীতির আশ্রয় নিলেন না এবং তাকেও ঠিক তেমনি আন্তরিকতা সহকারে স্বীকার করে নিলেন যেমন পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে স্বীকার করতেন।
৮৬
“এদের” শব্দের মাধ্যমে আরববাসীদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর অর্থ হচ্ছে, সত্যপ্রিয় লোকেরা, তারা আহলি কিতাববা অ-আহলি কিতাব যারাই হোক না কেন, সর্বত্রই এর প্রতি ঈমান আনছে।
৮৭
এখানে তাদেরকে কাফের বলা হয়েছে যারা নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ প্রীতি ত্যাগ করে সত্য কথা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। অথবা যারা নিজেদের প্রবৃত্তির কামনা-বাসনা ও অবাধ স্বাধীনতার ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করার ব্যাপারে পিছটান দেয় এবং এরই ভিত্তিতে সত্য অস্বীকার করে।
৪৭. আর এভাবেই আমরা আপনার প্রতি কুরআন নাযিল করেছি(১) অতঃপর যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছিলাম তারা এর উপর ঈমান রাখে।(২) আর এদেরও(৩) কেউ কেউ এতে ঈমান রাখে। আর কাফিররা ছাড়া কেউই আমাদের নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করে না।
(১) এর দুটি অর্থ হতে পারে। এক, যেভাবে পূর্ববর্তী নবীগণের প্রতি আমি কিতাব নাযিল করেছিলাম ঠিক তেমনিভাবে এ কিতাব আপনার প্রতি নাযিল করেছি। (তাবারী) দুই, আমি এই শিক্ষা সহকারেই একে নাযিল করেছি যে, আমার পূর্ববর্তী কিতাবগুলো অস্বীকার করে নয়, বরং সেগুলোর সত্যায়ণকারী রূপেই নাযিল করেছি। (সা’দী)
(২) পূর্বাপর বিষয়বস্তু নিজেই একথা জানিয়ে দিচ্ছে যে, এখানে সমস্ত আহলে কিতাবের কথা বলা হয়নি। বরং এমন সব আহলে কিতাবের কথা বলা হয়েছে যারা আল্লাহর কিতাবের সঠিক জ্ঞান ও উপলব্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের সামনে যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে সত্যায়িত করে এ শেষ কিতাবটি এলো তখন তারা কোন প্রকার জিদ, হঠকারিতা ও সংকীর্ণ স্বাৰ্থ প্রীতির আশ্রয় নিলেন না এবং তাকেও ঠিক তেমনি আন্তরিকতা সহকারে স্বীকার করে নিলেন যেমন পূর্ববর্তী কিতাবগুলোকে স্বীকার করতেন। যেমন আব্দুল্লাহ ইবন সালাম ও সালমান আল-ফারেসী এবং তাদের মত যারা ছিলেন। (ইবন কাসীর)
(৩) “এদের” শব্দের মাধ্যমে কুরাইশ ও অন্যান্য আরববাসীদের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে। (ইবন কাসীর) এর অর্থ হচ্ছে, সত্যপ্রিয় লোকেরা, তারা আহলে কিতাব বা অ-আহলে কিতাব যারাই হোক না কেন, সর্বত্রই এর প্রতি ঈমান আনছে।
(৪৭) এভাবেই আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং যাদেরকে আমি গ্রন্থ দিয়েছিলাম তারা এতে বিশ্বাস করে(1) এবং এদের মধ্যেও কেউ কেউ এতে বিশ্বাস করে।(2) কেবল অবিশ্বাসীরাই আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে।
(1) এখানে উদ্দেশ্য, আব্দুল্লাহ বিন সালাম (রাঃ) প্রমুখগণ। কিতাব বা গ্রন্থ দেওয়ার অর্থ হল, তার উপর আমল করা। আসলে কিতাবের উপর যারা আমল করে না, তাদেরকে যেন কিতাব দেওয়াই হয়নি।
(2) এরা ছিল মক্কাবাসী; যাদের কিছু মানুষ ঈমান এনেছিল।