ফাআ-মানা লাহূলূত । ওয়া ক-লা ইন্নী মুহা-জিরুন ইলা-রববী ইন্নাহূহুওয়াল ‘আঝীঝুল হাকীম।উচ্চারণ
সে সময় লূত তাকে মেনে নেয় ৪৪ এবং ইবরাহীমকে বলে, আমি আমার রবের দিকে হিজরত করছি, ৪৫ তিনি পরাক্রমশালীও জ্ঞানী। ৪৬ তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর লূত তার প্রতি ঈমান আনল। #%১৬%# ইবরাহীম বলল, আমি আমার প্রতিপালকের দিকে হিজরত করছি। #%১৭%# নিশ্চয়ই তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী
লূত তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল। (ইবরাহীম) বললঃ আমি আমার রবের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করছি। তিনিতো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান
অতঃপর তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেন লূত। ইব্রাহীম বললেন, আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশে দেশত্যাগ করছি। নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
লূত তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল। ইব্রাহীম বলল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করছি। তিনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর লূত তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করল। আর ইবরাহীম বলল, ‘আমি আমার রবের দিকে হিজরত করছি। নিশ্চয় তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’।আল-বায়ান
অতঃপর লূত তার (অর্থাৎ ইবরাহীমের) প্রতি ঈমান এনেছিল। ইবরাহীম বলল- আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করছি, তিনি মহাপরাক্রান্ত, বড়ই হিকমতওয়ালা।তাইসিরুল
অতএব লূত তাঁর প্রতি বিশ্বাস করেছিলেন। আর তিনি বলেছিলেন -- "আমি তো আমার প্রভুর উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করছি। নিঃসন্দেহ তিনি স্বয়ং মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক
৪৪
বক্তব্যের বিন্যাস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আগুন থেকে বের হয়ে আসেন এবং তিনি ওপরে উল্লেখিত কথাগুলো বলেন, তখন সমগ্র সমবেত জনতার মধ্য থেকে একমাত্র হযরত লূত (আ) তার আনুগত্য গ্রহণ করার ঘোষণা করেন। হতে পারে সে সময় আরো বহুলোক মনে মনে হযরত ইবরাহীমের সত্যতা স্বীকার করে থাকবে। কিন্তু সমগ্র জাতি ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইবরাহীমের দ্বীনের বিরুদ্ধে যে ক্রোধ ও আক্রোশ প্রবণতার প্রকাশ সে সময় সবার চোখের সামনে হয়েছিল তা প্রত্যক্ষ করেকোন ব্যক্তি এ ধরনের ভয়ঙ্কর সত্য মেনে নেবার এবং তার সাথে সহযোগিতা করার সাহস করতে পারেনি। এ সৌভাগ্য মাত্র এক ব্যক্তিরই হয়েছিল এবং তিনি হচ্ছেন হযরত ইবরাহীমেরই ভাতিজা হযরত লূত (আ)। শেষে তিনি হিজরাতকালেও নিজের চাচা ও চাচীর (হযরত সারাহ) সহযোগী হয়েছিলেন।
এখানে একটি সন্দেহ দেখা দেয় এবং এ সন্দেহটি নিরসন করার প্রয়োজন রয়েছে। অর্থাৎ এক ব্যক্তি প্রশ্ন করতে পারে যে, তাহলে এ ঘটনার পূর্বে কি হযরত লূত (আ) কাফের ও মুশরিক ছিলেন এবং আগুন থেকে হযরত ইবরাহীমের নিরাপদে বের হয়ে আসার অলৌকিক কাণ্ড দেখার পর তিনি ঈমানের নিয়ামত লাভ করেন? যদি একথা সত্য হয়ে থাকে, তাহলে নবুয়তের আসনে কি এমনকোন ব্যক্তি সমাসীন হতে পারেন যিনি পূর্বে মুশরিক ছিলেন? এর জবাব হচ্ছে, কুরআন এখানে فَآمَنَ لَهُ لُوطٌ এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছে। এ থেকে অনিবার্য হয়ে উঠে না যে, ইতিপূর্বে হযরত লুত বিশ্ব-জাহানের প্রভু আল্লাহকে না মেনে থাকবেন বা তার সাথে অন্য মাবুদদেরকেও শরীক করে থাকবেন বরং এ থেকে কেবলমাত্র এতটুকুই প্রমাণিত হয় যে, এ ঘটনার পর তিনি হযরত ইবরাহীমের রিসালাতের সত্যতা স্বীকার করেন এবং তার আনুগত্য গ্রহণ করেন। ঈমানের সাথে (لام) শব্দ ব্যবহার করা হয় তখন এর অর্থ হয়কোন ব্যক্তির কথা মেনে নেয়া এবং তার আনুগত্য করা। হতে পারে হযরত লূত (আ) তখন ছিলেন একজন উঠতি বয়সের তরুণ এবং সচেতনভাবে নিজের চাচার শিক্ষার সাথে তিনি এ প্রথমবার পরিচিত হবার এবং তার রিসালাত সম্পর্কে জানার সুযোগ লাভ করে থাকবেন।
৪৫
অর্থাৎ তিনি আমার রবের জন্য হিজরত করছি। এখন আমার রব আমাকে যেখানে নিয়ে যাবেন আমি সেখানে যাব।
৪৬
অর্থাৎ তিনি আমাকে সহায়তা দান ও হেফাজত করার ক্ষমতা রাখেন এবং আমার পক্ষে তিনি যে ফয়সালা করবেন তা বিজ্ঞজনোচিত হবে।
হযরত লূত আলাইহিস সালাম ছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ভাতিজা। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের প্রতি তাঁর মাতৃভূমি ইরাকে এক লূত আলাইহিস সালাম ছাড়া আর কেউ ঈমান আনেনি। শেষ পর্যন্ত হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সাথে তিনিও দেশ থেকে হিজরত করেন। অবশ্য পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা তাঁকেও নবী বানান এবং সাদুমবাসীদের হেদায়াতের জন্য তাঁকে প্রেরণ করেন।
২৬. অতঃপর লুত তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলেন। আর ইবরাহীম বললেন, আমি আমার রবের উদ্দেশ্যে হিজরত করছি।(১) নিশ্চয় তিনি পরাক্রমশালী, প্ৰজ্ঞাময়।
(১) লুত আলাইহিস সালাম ছিলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর মু'জিযা দেখে সর্বপ্রথম যিনি মুসলিম হন। তিনি এবং তার পত্নী সারা, যিনি চাচাত বোন ও মুসলিম ছিলেন, দেশত্যাগের সময় তারা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর সঙ্গী হন। ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বললেন, আমি আমার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে দেশ-ত্যাগ করছি। উদ্দেশ্য এই যে, এমন কোন জায়গায় যাব, যেখানে পালনকর্তার ইবাদাতে কোন বাধা নেই। ইবরাহীম নখায়ী ও কাতাদাহ বলেন, (إِنِّي مُهَاجِرٌ) ইবরাহীমের উক্তি। কেননা, এর পরবর্তী বাক্য (وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ) নিশ্চিতরূপে তারই অবস্থা। কোন কোন তফসীরকার (إِنِّي مُهَاجِرٌ) কে লুত আলাইহিস সালাম-এর উক্তি প্রতিপন্ন করেছেন। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) কিন্তু পূর্বাপর বর্ণনাদৃষ্ট প্রথম তফসীরই উপযুক্ত। লুত আলাইহিস সালামও এই হিজরতে শরীক ছিলেন, কিন্তু ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর অধীন হওয়ার কারণে যেমন সারার কথা উল্লেখ করা হয়নি, তেমনি লুত আলাইহিস সালাম-এর হিজরতের কথাও স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
(২৬) লূত তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করল।(1) (ইব্রাহীম) বলল, ‘আমি আমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করব।(2) নিশ্চয়ই তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’
(1) লূত (আঃ) ইবরাহীম (আঃ)-এর ভাইপো (ভাতিজা) ছিলেন। তিনি ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রতি ঈমান আনেন এবং পরবর্তীতে তাঁকেও ‘সাদূম’ এলাকায় নবী হিসাবে প্রেরণ করা হয়।
(2) এ কথা ইবরাহীম (আঃ) বলেছিলেন। আবার কেউ বলেন, এটি লূত (আঃ)-এর কথা। কারো কারো মতে তাঁরা উভয়েই হিজরত করেছিলেন। অর্থাৎ, যখন ইবরাহীম (আঃ) ও তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারী লূত (আঃ)-এর জন্য নিজ এলাকা (হার্রান যাওয়ার পথে কুফার একটি জনপদ ‘কূসা’য় আল্লাহর ইবাদত করা কঠিন হয়ে পড়ল, তখন সেখান থেকে হিজরত করে শাম দেশে চলে গেলেন। তৃতীয় ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী সারাহ সঙ্গে ছিলেন।