أَمۡ حَسِبَ ٱلَّذِينَ يَعۡمَلُونَ ٱلسَّيِّـَٔاتِ أَن يَسۡبِقُونَاۚ سَآءَ مَا يَحۡكُمُونَ

আম হাছিবাল্লাযীনা ইয়া‘মালূনাছছাইয়িআ-তি আইঁ ইয়াছবিকূনা- ছাআ মাইয়াহকুমূন।উচ্চারণ

আর যারা খারাপ কাজ করছে তারা কি মনে করে বসেছে তারা আমার থেকে এগিয়ে চলে যাবে? বড়ই ভুল সিদ্ধান্ত তারা করছে। তাফহীমুল কুরআন

যারা মন্দ কার্যাবলীতে লিপ্ত তারা কি মনে করে তারা আমার উপর জিতে যাবে? তারা যা অনুমান করছে তা কতই না মন্দ!মুফতী তাকী উসমানী

যারা মন্দ কাজ করে তারা কি মনে করে যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে? তাদের সিদ্ধান্ত কত মন্দ!মুজিবুর রহমান

যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে যে, তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে? তাদের ফয়সালা খুবই মন্দ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তবে কি যারা মন্দ কর্ম করে তারা মনে করে যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে ? তাদের সিদ্ধান্ত কত মন্দ! ইসলামিক ফাউন্ডেশন

নাকি যারা পাপ কাজ করে তারা মনে করে যে, তারা আমাকে রেখে সামনে চলে যাবে? কতইনা নিকৃষ্ট, যা তারা ফয়সালা করে!আল-বায়ান

যারা মন্দ কাজ করে তারা কি ভেবে নিয়েছে যে, তারা আমার আগে বেড়ে যাবে? তাদের ফয়সালা বড়ই খারাপ!তাইসিরুল

আথবা, যারা পাপাচার করে তারা কি ভাবে যে তারা আমাদের এড়িয়ে যেতে পারবে? তারা যা সিদ্ধান্ত করে তা কত মন্দ!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

যদিও আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত সকলের উদ্দেশ্যে এখানে বলা হতে পারে তবুও বিশেষভাবে এখানে বক্তব্যেও লক্ষ হচ্ছে, কুরাইশদের সেই জালেম নেতৃবর্গ যারা ইসলামের বিরোধিতায় নেমে ইসলাম গ্রহণকারীদের ওপর নিগ্রহ চালাবার ক্ষেত্রে অগ্রবর্তী ছিল, যেমন ওলীদ ইবনে মুগীরাহ, আবু জেহেল, উতবাহ, শাইবাহ, উকবাহ ইবনে আবু মু’আইত, হানযালা ইবনে ওয়াইল এবং আরো অনেকে। এখানে পূর্বাপর বক্তব্যেও স্বতস্ফূর্ত দাবী এই যে, পরীক্ষা তথা বিপদ-মুসিবত ও জুলুম-নিপীড়নের মুকাবিলায় মুসলমানদেরকে সবর ও দৃঢ়তা অবলম্বন করার নির্দেশ দেবার পর এ সত্যপন্থীদের ওপর যারা জুলুম-নিপীড়ন চালাচ্ছিল তাদেরকে সম্বোধন করে ভীতি ও হুমকিমূলক কিছু কথাও বলা হোক।

এ অর্থও হতে পারে, “আমার পাকড়াও এড়িয়ে অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে পারবে।” মূল শব্দ হচ্ছে يَسْبِقُونَا অর্থাৎ আমার থেকে এগিয়ে যাবে। এর দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ হচ্ছে, যা কিছু আমি করতে চাই (অর্থাৎ আমার রসূলদের মিশনের সাফল্য) তা করতে আমার সফল না হওয়া এবং যা কিছু তারা করতে চায় (অর্থাৎ আমার রসূলকে হেয় প্রতিপন্ন করা) তা করতে সফল হওয়া। দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, তাদের বাড়াবাড়ির জন্য আমি তাদেরকে পাকড়াও করতে চাই এবং তারা পালিয়ে আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪. তবে কি যারা মন্দকাজ করে তারা মনে করে যে, তারা আমাদের আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে?(১) তাদের সিদ্ধান্ত কত মন্দ!

(১) মূল শব্দ হচ্ছে سابق অর্থাৎ আমার থেকে এগিয়ে যাবে। আয়াতের এ অর্থও হতে পারে, “আমার পাকড়াও এড়িয়ে অন্য কোথাও পালিয়ে যেতে পারবে।” (সা'দী) অপর অর্থ হচ্ছে, তারা কি মনে করে যে, তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও গোনাহসমূহ এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে? তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ এগুলো থেকে উদাসীন হয়ে যাবেন? আর এজন্যই কি তারা অপরাধগুলো করে যাচ্ছে? (সা’দী)

কারও কারও মতে, এখানে এর অর্থ হচ্ছে, যা কিছু আমি করতে চাই তা করতে আমার সফল না হওয়া এবং যা কিছু তারা করতে চায় তা করতে তাদের সফল হওয়া। (দেখুন, আত-তাফসীরুস সহীহ) আয়াতের আরেকটি অর্থ হচ্ছে, যারা অপরাধী তারা যেন এটা মনে না করে যে, তারা পরীক্ষা থেকে বাদ পড়ে যাবে। তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না। এ ধারণা কখনো ঠিক নয়। তারা যদি এ দুনিয়াতে পারও পেয়ে যায়, তাদের সামনে এমন শাস্তি ও আযাব রয়েছে তা তাদের জন্য যথেষ্ট। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪) যারা মন্দ কাজ করে, তারা কি মনে করে যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে চলে যাবে?(1) তাদের সিদ্ধান্ত কত মন্দ! (2)

(1) অর্থাৎ, আমার নিকট থেকে পালিয়ে যাবে এবং আমার পাকড়াও থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে।

(2) অর্থাৎ, আল্লাহর ব্যাপারে তাদের ধারণা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। যখন তিনি সর্বশক্তিমান ও প্রত্যেক বিষয় সম্পর্কে অবগত, তখন তাঁর অবাধ্য হয়ে তাঁর পাকড়াও এবং আযাব হতে বাঁচা কিভাবে সম্ভব?