وَيَوۡمَ يُنَادِيهِمۡ فَيَقُولُ أَيۡنَ شُرَكَآءِيَ ٱلَّذِينَ كُنتُمۡ تَزۡعُمُونَ

ওয়া ইয়াওমা ইউনা-দীহিম ফাইয়াকূলুআইনা শুরকাই ইয়াল্লাযীনা কুনতুম তাঝ‘উমূন।উচ্চারণ

আর (তারা যেন ভুলে না যায়) সে দিনটি যখন তিনি তাদেরকে ডাকবেন এবং জিজ্ঞেস করবেন, “কোথায় তারা যাদেরকে তোমরা আমার শরীক বলে মনে করতে?” ৮৫ তাফহীমুল কুরআন

এবং সেই দিন (-কে কখনও ভুলো না), যখন আল্লাহ তাদেরকে ডাক দিয়ে বলবেন, কোথায় আমার (প্রভুত্বের) অংশীদারগণ, যাদের (অংশীদার হওয়ার) দাবি তোমরা করতে? #%৪২%#মুফতী তাকী উসমানী

আর সেদিন তিনি তাদেরকে আহবান করে বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে তারা কোথায়?মুজিবুর রহমান

যেদিন আল্লাহ তাদেরকে আওয়াজ দিয়ে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক দাবী করতে, তারা কোথায়?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং সেই দিন তিনি এদেরকে আহ্বান করে বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায় ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর সে দিন তিনি তাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর বলবেন, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তারা কোথায়’?আল-বায়ান

সেদিন তাদেরকে ডাক দিয়ে তিনি বলবেন- ‘যাদেরকে তোমরা আমার শরীক গণ্য করতে তারা কোথায়?’তাইসিরুল

আর সেদিন তাদের তিনি ডাকবেন ও বলবেন -- "কোথায় আমার শরীকরা যাদের তোমরা উদ্ভাবন করতে?"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৫

এ ভাষণটিও চতুর্থ জবাবের সাথেই সংশ্লিষ্ট। উপরের আয়াতের শেষ অংশের সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে। তাতে বলা হচ্ছে, নিছক নিজেদের পার্থিব স্বার্থের খাতিরে শিরক, মূর্তিপূজা ও নবুওয়াত অস্বীকারের যে গোমরাহীর ওপর তারা জোর দিচ্ছে, তার জন্য আখেরাতের চিরন্তন জীবনে তাদের কেমন অশুভ পরিণামের সম্মুখীন হতে হবে। যে অনুভূতি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে একথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে এই যে, মনে করো, দুনিয়ায় তোমাদের কোন বিপদের সম্মুখীন হতে না হলেও এবং এখানকার সংক্ষিপ্ত জীবনকালে তোমরা দুনিয়ার জীবনের সম্পদ ও সৌন্দর্য খুব বেশি উপভোগ করলেও যদি আখেরাতে এর পরিণাম খারাপ হওয়াই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে নিজেই ভেবে দেখো তোমরা যা কিছু করছো তা লাভজনক ব্যবসায় না ক্ষতির ব্যবসায়?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা সেই সকল শয়তানকে বোঝানো হয়েছে, যাদেরকে কাফেরগণ নিজেদের উপাস্য বানিয়ে নিয়েছিল।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬২. আর সেদিন তিনি তাদেরকে ডেকে বলবেন, তোমরা যাদেরকে আমার শরীক গণ্য করতে, তারা কোথায়?(১)

(১) অর্থাৎ যেসব শয়তান ইত্যাদিকে তোমরা আমার শরীক বলতে এবং তাদের কথামত চলতে, তারা আজ কোথায়? তারা তোমাদেরকে কোন সাহায্য করতে পারে কি? জওয়াবে মুশরিকদের একথা বলাই স্পষ্ট ছিল যে, আমাদের কোন দোষ নেই। আমরা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে শির্ক করিনি; বরং এই শয়তানরা আমাদের বিভ্ৰান্ত করেছিল। তাই আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং শয়তানদের মুখ থেকে একথা বের করাবেন যে, আমরা বিভ্ৰান্ত করেছি ঠিকই, কিন্তু আমরা তাদেরকে বাধ্য করিনি। এজন্যে আমরাও অপরাধী, কিন্তু অপরাধ থেকে মুক্ত তারাও নয়।

কারণ, আমরা যেমন তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছিলাম, এর বিপরীতে নবী-রাসূলগণ ও তাদের প্রতিনিধিগণ তাদেরকে হেদায়াতও করেছিলেন এবং প্রমাণাদি দ্বারা তাদের কাছে সত্যও ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তারা স্বেচ্ছায় নবী-রাসূলগণের কথা অগ্রাহ্য করেছে এবং আমাদের কথা মেনে নিয়েছে। এমতাবস্থায় তারা কিরূপে দোষমুক্ত হতে পারে? এ থেকে জানা গেল যে, সত্যের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি সামনে বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সত্যের দাওয়াত কবুল না করে পথভ্রষ্ট হয়ে যাওয়া কোন ধর্তব্য ওযর নয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬২) এবং সেদিন ওদেরকে আহবান করে বলা হবে, ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক ধারণা করতে, তারা কোথায়?’ (1)

(1) অর্থাৎ, মূর্তি বা ব্যক্তি যাদেরকে পৃথিবীতে আমার ইবাদতে শরীক করা হত, যাদেরকে সাহায্যের জন্য আহবান করা হত এবং যাদের নামে নযর-নিয়ায পেশ করা হত, তারা আজ কোথায়? তারা কি তোমাদের সাহায্য করতে এবং আমার আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে? মহান আল্লাহ এ কথাগুলি তাদেরকে তিরস্কার ও ধমক স্বরূপ বলবেন। নচেৎ সেখানে আল্লাহর সামনে লেজ হিলাবার ক্ষমতা কার হবে? এ বিষয়টি সূরা আনআমের ৯৪নং আয়াত ছাড়াও অন্যান্য আরো আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।