هُنَالِكَ دَعَا زَكَرِيَّا رَبَّهُۥۖ قَالَ رَبِّ هَبۡ لِي مِن لَّدُنكَ ذُرِّيَّةٗ طَيِّبَةًۖ إِنَّكَ سَمِيعُ ٱلدُّعَآءِ

হুনা-লিকা দা‘আ- ঝাকারিইইয়া-রব্বাহূ ক-লা রব্বি হাবলী মিল্লাদুনকা যুররিইইয়াতান তাইয়িবাতান ইন্নাকা ছামী‘উদ্দু‘আই।উচ্চারণ

এ অবস্থা দেখে যাকারিয়া তার রবের কাছে প্রার্থনা করলোঃ “হে আমার রব! তোমরা বিশেষ ক্ষমতা বলে আমাকে সৎ সন্তান দান করো। তুমিই প্রার্থনা শ্রবণকারী।” ৩৭ যখন তিনি মেহরাবে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন তাফহীমুল কুরআন

এ সময় যাকারিয়া স্বীয় প্রতিপালকের কাছে দু‘আ করল। বলতে লাগল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার নিকট হতে কোন পবিত্র সন্তান দান কর। নিশ্চয়ই তুমি দু‘আ শ্রবণকারী। #%১৮%#মুফতী তাকী উসমানী

তখন যাকারিয়া তার রবের নিকট প্রার্থনা করেছিল, সে বলেছিলঃ হে আমার রাব্ব! আমাকে আপনার নিকট হতে পবিত্র সন্তান প্রদান করুন, নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।মুজিবুর রহমান

সেখানেই যাকারিয়া তাঁর পালনকর্তার নিকট প্রার্থনা করলেন। বললেন, হে, আমার পালনকর্তা! তোমার নিকট থেকে আমাকে পুত-পবিত্র সন্তান দান কর-নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেখানেই যাকারিয়া তার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তুমি তোমার নিকট হতে সৎ বংশধর দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শোনেকারী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেখানে যাকারিয়্যা তার রবের কাছে প্রার্থনা করেছিল, সে বলল, ‘হে আমর রব, আমাকে আপনার পক্ষ থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী’।আল-বায়ান

ওখানেই যাকারিয়া নিজ প্রতিপালকের কাছে প্রার্থনা করে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তোমার পক্ষ হতে একটি সুসন্তান দান কর। নিশ্চয় তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী’।তাইসিরুল

সঙ্গে-সঙ্গে সেইখানেই যাকারিয়া তাঁর প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন, তিনি বললেন -- "আমার প্রভু! তোমার নিকট থেকে আমাকে একটি উত্তম সন্তান দাও। নিঃসন্দেহ তুমি প্রার্থনার শ্রোতা।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৭

হযরত যাকারিয়া (আঃ) সে সময় পর্যন্ত নিঃসন্তান ছিলেন। এই যুবতী পুণ্যবতী মেয়েটিকে দেখে স্বভাবতই তার মনে এ আকাংখা জন্ম নিলঃ আহা, যদি আল্লাহ‌ আমাকেও এমনি একটি সৎসন্তান দান করতেন। আর আল্লাহ‌ তার অসীম কুদরাতের মাধ্যমে যেভাবে এই সংসার ত্যাগী, নিঃসঙ্গ, কক্ষবাসিনী মেয়েটিকে আহার যোগাচ্ছেন। তা দেখে তার মনে আশা জাগে যে, আল্লাহ‌ চাইলে এই বৃদ্ধ বয়সেও তাকে সন্তান দিতে পারেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলার কুদরতে হযরত মারয়াম আলাইহাস সালামের নিকট অসময়ের ফল আসত। হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম যখন এটা দেখলেন তখন তাঁর খেয়াল হল যে, যেই আল্লাহ মারয়ামকে অসময়ে ফল দিয়ে থাকেন, তিনি আমাকে এ বৃদ্ধ বয়সে সন্তানও দান করতে পারেন। এ কথা খেয়াল হতেই তিনি আয়াতে বর্ণিত দু‘আটি করলেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৮. সেখানেই যাকারিয়্যা তার রবের নিকট প্রার্থনা করে বললেন, ‘হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয়ই আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।(১)

(১) যাকারিয়্যা 'আলাইহিস সালাম তখনো পর্যন্ত নিঃসন্তান ছিলেন। সময়ও ছিল বার্ধক্যের- যে বয়সে স্বাভাবিকভাবে সন্তান হয় না। তবে আল্লাহর শক্তি-সামর্থের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস ছিল যে, অলৌকিকভাবে এহেন বার্ধক্যের মধ্যেও তিনি সন্তান দিতে পারেন। তবে অসময়ে ও অস্থানে দান করার আল্লাহর মহিমা ইতিপূর্বে তিনি কখনো প্রত্যক্ষ করেননি। কিন্তু এসময় যখন তিনি দেখতে পেলেন যে, আল্লাহ তা'আলা ফলের মওসুম ছাড়াই মারইয়ামকে ফল দান করেছেন, তখনই তার মনের সুপ্ত আকাঙ্খা জেগে উঠল এবং তার মনে হলো যে, সর্বশক্তিমান আল্লাহ মওসুম ছাড়াই যদি ফল দিতে পারেন, তবে বৃদ্ধ দম্পতিকে হয়ত সন্তানও দেবেন। বললেনঃ ‘হে আমার রব! আমাকে আপনি আপনার নিকট থেকে সৎ সন্তান দান করুন’, এতে বুঝা যায় যে, সন্তান হওয়ার জন্য দোআ করা রাসূলগণের ও নেককারদের সুন্নাত।

অপর এক আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “আপনার আগে তো আমি অনেক রাসূল পাঠিয়েছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যেরূপ স্ত্রী ও সন্তান দান করা হয়েছে, তদ্রুপ এই নেয়ামত পূর্ববর্তী রাসূলগণকেও দেয়া হয়েছিল। এখন কেউ যদি কোন পন্থায় সন্তান জন্মগ্রহণের পথে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সে শুধু স্বভাবধর্মের বিরুদ্ধেই বিদ্রোহের পতাকা উত্তোলন করে না; বরং রাসূলদের একটি সার্বজনীন ও সর্বসম্মত সুন্নাহ থেকেও বঞ্চিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ ও সন্তানের প্রশ্নটিকে অত্যাধিক গুরুত্ব দান করেছেন। তাই যে ব্যক্তি সামর্থ থাকা সত্বেও বিবাহ কিংবা সন্তান গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে, তাকে তিনি স্বীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনুমতি দেননি। তিনি বলেনঃ বিবাহ আমার সুন্নাহ। যে ব্যক্তি এ সুন্নাহ থেকে বিমুখ হয়, সে আমার দলভুক্ত নয়। তোমরা বিবাহ কর। কেননা, তোমাদের আধিক্যের কারণে আমি অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করব। (ইবনে মাজাহঃ ১৮৪৬)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৮) সেখানেই যাকারিয়া তার প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা করে বলল, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তুমি তোমার নিকট থেকে সৎ বংশধর দান কর। নিশ্চয় তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।’