وَإِذَا سَمِعُواْ ٱللَّغۡوَ أَعۡرَضُواْ عَنۡهُ وَقَالُواْ لَنَآ أَعۡمَٰلُنَا وَلَكُمۡ أَعۡمَٰلُكُمۡ سَلَٰمٌ عَلَيۡكُمۡ لَا نَبۡتَغِي ٱلۡجَٰهِلِينَ

ওয়া ইযা-ছামি‘উল লাগওয়া আ‘রদূ ‘আনহু ওয়া ক-লূলানাআ‘মা-লুনা-ওয়ালাকুম আ‘মা-লুকুম ছালা-মুন ‘আলাইকুম লা-নাবতাগিল জা-হিলীন।উচ্চারণ

আর যখন তারা বাজে কথা শুনেছে, ৭৮ একথা বলে তা থেকে আলাদা হয়ে গেছে যে, “আমাদের কর্মকাণ্ড আমাদের জন্য এবং তোমাদের কর্মকাণ্ড তোমাদের জন্য, তোমাদের প্রতি সালাম, আমরা মূর্খদের মতো পথ অবলম্বন করতে চাই না।” তাফহীমুল কুরআন

তারা যখন কোন বেহুদা কথা শোনে, তা এড়িয়ে যায় এবং বলে, আমাদের জন্য আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কর্ম। তোমাদেরকে সালাম। #%৩৮%# আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।মুফতী তাকী উসমানী

তারা যখন অসার বাক্য শ্রবণ করে তখন তা উপেক্ষা করে চলে এবং বলেঃ আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্য এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্য; তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাইনা।মুজিবুর রহমান

তারা যখন অবাঞ্চিত বাজে কথাবার্তা শ্রবণ করে, তখন তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, আমাদের জন্যে আমাদের কাজ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজ। তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়িত হতে চাই না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা যখন অসার বাক্য শোনে তখন এরা তা উপেক্ষা করে চলে এবং বলে, ‘আমাদের কাজের ফল আমাদের জন্যে এবং তোমাদের কাজের ফল তোমাদের জন্যে ; তোমাদের প্রতি ‘সালাম’। আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাহি না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তারা যখন অনর্থক কথাবার্তা শুনে তখন তা থেকে বিমুখ হয় এবং বলে, ‘আমাদের আমল আমাদের জন্য, আর তোমাদের আমল তোমাদের জন্য। তোমাদের প্রতি ‘সালাম’। আমরা অজ্ঞদের সাহচর্য চাই না’।আল-বায়ান

তারা যখন নিরর্থক কথাবার্তা শুনে তখন তাত্থেকে ফিরে থাকে আর বলে- আমাদের কাজের ফল আমরা পাব, তোমাদের কাজের ফল তোমরা পাবে, তোমাদের প্রতি সালাম, অজ্ঞদের সাথে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই।তাইসিরুল

আর যখন তারা বাজে কথা শোনে তখন তারা তা থেকে সরে যায় এবং বলে -- "আমাদের জন্য আমাদের কাজ আর তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ, তোমাদের প্রতি 'সালাম’। অজ্ঞদের আমরা কামনা করি না।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৭৮

আবু জেহেল ও তার সাথীরা হাবশার খৃস্টান প্রতিনিধি দলের সাথে যেসব আজে বাজে কথা বলেছিল সেদিকে ইশারা করা হয়েছে। উপরে ৭২ টীকায় এ বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ, আমরা তোমাদের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়াতে চাই না। দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দেন এবং সেই সুবাদে তোমরা নিরাপত্তা লাভ কর।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৫. আর তারা যখন অসার বাক্য শুনে তখন তা উপেক্ষা করে চলে এবং বলে, আমাদের আমল আমাদের জন্য এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্য; তোমাদের প্রতি সালাম। আমরা অজ্ঞদের সাথে জড়াতে চাই না।(১)

(১) অর্থাৎ তাদের একটি উৎকৃষ্ট চরিত্র এই যে, তারা কোন অজ্ঞ শত্রুর কাছ থেকে নিজেদের সম্পর্কে যখন অর্থহীন ও বাজে কথাবার্তা শোনে, তখন তার জওয়াব দেয়ার পরিবর্তে একথা বলে দেয়, আমার সালাম গ্ৰহণ কর। আমি অজ্ঞদের সাথে জড়াতে চাই না। ইমাম জাসসাস বলেন, সালাম দুই প্রকারঃ এক. মুসলিমদের মধ্যে প্রচলিত অভিবাদনমূলক সালাম। দুই. সন্ধি ও বর্জনামূলক সালাম। অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে বলে দেয়া যে, আমি তোমার আসার আচরণের প্রতিশোধ নেব না। এখানে এ অর্থই বোঝানো হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৫) ওরা যখন অসার বাক্য(1) শ্রবণ করে, তখন ওরা তা পরিহার করে চলে এবং বলে, আমাদের কাজের জন্য আমরা দায়ী এবং তোমাদের কাজের জন্য তোমরা দায়ী; তোমাদের প্রতি সালাম।(2) আমরা অজ্ঞদের সঙ্গ চাই না।

(1) এখানে ‘অসার বাক্য’ বলতে উদ্দেশ্য সেই গাল-মন্দ ও দ্বীনের সাথে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ যা মুশরিকরা করত।

(2) এখানে ‘সালাম’ বলতে অভিবাদন বা সাক্ষাতের সালাম নয়; বরং বিদায় বা সঙ্গ ত্যাগ করার সালাম বুঝানো হয়েছে। যার অর্থ আমরা তোমাদের মত মূর্খদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করার লোক নই। যেমন বলা হয়, ‘দুর্জনেরে পরিহারি, দূরে থেকে সালাম করি।’ অর্থাৎ তার সঙ্গে কথাবার্তা না বলা, তাকে পরিহার, বর্জন ও উপেক্ষা করা।