ওয়ালাকাদ ওয়াসসালনা-লাহুমুল কাওলা লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।উচ্চারণ
আর আমি তো অনবরত তাদের কাছে (উপদেশ বাণী) পৌঁছিয়ে দিয়েছি, যাতে তারা গাফলতি থেকে সজাগ হয়ে যায়। ৭১ তাফহীমুল কুরআন
এটা এক বাস্তবতা যে, আমি তাদের কল্যাণার্থে একের পর এক (উপদেশ) বাণী পাঠাতে থাকি, #%৩৩%# যাতে তারা সতর্ক হয়ে যায়।মুফতী তাকী উসমানী
আমিতো তাদের নিকট উপর্যুপরি বাণী পৌঁছে দিয়েছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।মুজিবুর রহমান
আমি তাদের কাছে উপর্যুপরি বাণী পৌছিয়েছি। যাতে তারা অনুধাবন করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি তো এদের নিকট পরপর বাণী পৌঁছে দিয়েছি; যাতে এরা উপদেশ গ্রহণ করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি তো তাদের কাছে একের পর এক বাণী পৌঁছে দিয়েছি, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।আল-বায়ান
আমি তাদের কাছে ক্রমাগত বাণী পৌঁছে দিয়েছি যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।তাইসিরুল
আর আমরা অবশ্যই তাদের কাছে বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি যেন তারা মনোযোগ দিতে পারে।মাওলানা জহুরুল হক
৭১
অর্থাৎ উপদেশের ব্যাপারে আমি কোন কসুর করিনি। এ কুরআনে আমি অনবরত উপদেশ বিতরণ করে এসেছি। কিন্তু যে জিদ ও একগুঁয়েমি পরিহার করে হৃদয়কে বিদ্বেষমুক্ত রেখে সত্যকে সোজাসুজি গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়ে যায় সে-ই একমাত্র হিদায়াত লাভ করতে পারে।
সম্পূর্ণ কুরআন কেন একবারেই নাযিল করা হল না? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা হচ্ছে যে, কুরআন মাজীদকে অল্প-অল্প নাযিল করা হয়েছে তোমাদেরই কল্যাণার্থে। কেননা এর ফলে তোমাদের প্রতিটি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত দিক-নির্দেশনা করা সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া একের পর এক উপদেশ-বাণী নাযিলের ফলে তোমরা সত্য সম্পর্কে তাজা-তাজা চিন্তা করার ফুরসত পেয়েছে এবং এভাবে তোমাদেরকে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে যে, কোনও একটা কথা তো কবুল করে নাও!
৫১. আর অবশ্যই আমরা তাদের কাছে পরপর বাণী পৌঁছে দিয়েছি(১); যাতে তারা উপদেশ গ্রহন করে।
(১) وَصَّلْنَا শব্দটি توصيل থেকে উদ্ভূত। এর আসল আভিধানিক অর্থ রশির সূতায় আরো সূতা মিলিয়ে রশিকে মজবুত করা। (ফাতহুল কাদীর) উদ্দেশ্য এই যে, আল্লাহ তা'আলা কুরআনে একের পর এক হেদায়াত অব্যাহত রেখেছেন এবং অনেক উপদেশমূলক বিষয়বস্তুর বার বার পুনরাবৃত্তিও করা হয়েছে, যাতে শ্রোতারা প্রভাবান্বিত হয়। (কুরতুবী)
এ থেকে জানা গেল যে, সত্য কথা উপর্যুপরি বলা ও পৌঁছাতে থাকা নবীগণের তাবলীগ তথা দ্বীন-প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। মানুষের অস্বীকার ও মিথ্যারোপ তাদের কাজে ও কর্মসক্তিতে কোনরূপ বাধা সৃষ্টি করতে পারত না। সত্যকথা একবার না মানা হলে দ্বিতীয়বার, তৃতীয়বার ও চতুৰ্থবার তারা পেশ করতে থাকতেন। কারও মধ্যে প্রকৃত অন্তর সৃষ্টি করে দেয়ার সাধ্য তো কোন সহৃদয় উপদেশদাতার নেই। কিন্তু নিজের অক্লান্ত প্ৰচেষ্টা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে তারা ছিলেন আপোষহীন। আজকালও যারা দাওয়াতের কাজ করেন, তাদের এ থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করা উচিত।
(৫১) আর আমি অবশ্যই ওদের নিকট বার বার আমার বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছি;(1) যাতে ওরা উপদেশ গ্রহণ করে। (2)
(1) অর্থাৎ, রসূলের পর রসূল, কিতাবের পর কিতাব আমি প্রেরণ করেছি আর এভাবে ধারাবাহিকরূপে আমি আমার বাণী মানুষের নিকট পৌঁছাতে থেকেছি।
(2) অর্থাৎ এর উদ্দেশ্য ছিল, পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অশুভ পরিণতিকে ভয় করে এবং আমার উপদেশ গ্রহণ করে ঈমান আনবে।