وَجَعَلۡنَٰهُمۡ أَئِمَّةٗ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلنَّارِۖ وَيَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِ لَا يُنصَرُونَ

ওয়া জা‘আলনা-হুম আইম্মাতাইঁ ইয়াদ‘ঊনা ইলান্না-রি ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি লাইউনসারূন।উচ্চারণ

তাদেরকে আমি জাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী নেতা করেছিলাম ৫৭ এবং কিয়ামতের দিন তারা কোথাও থেকে কোন সাহায্য লাভ করতে পারবে না। তাফহীমুল কুরআন

আমি তাদেরকে বানিয়েছিলাম নেতা, যারা মানুষকে জাহান্নামের দিকে ডাকত। কিয়ামতের দিন তারা কারও সাহায্য পাবে না।মুফতী তাকী উসমানী

তাদেরকে আমি নেতা করেছিলাম। তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করত। কিয়ামাত দিবসে তাদেরকে সাহায্য করা হবেনা।মুজিবুর রহমান

আমি তাদেরকে নেতা করেছিলাম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত। কেয়ামতের দিন তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদেরকে আমি নেতা করেছিলাম; এরা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করত; কিয়ামতের দিন এদেরকে সাহায্য করা হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর আমি তাদেরকে নেতা বানিয়েছিলাম, তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।আল-বায়ান

আমি তাদেরকে নেতা করেছিলাম। তারা জাহান্নামের দিকে আহবান করত, ক্বিয়ামতের দিন তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে না।তাইসিরুল

আর আমরা তাদের বানিয়েছিলাম সর্দার, -- তারা আহ্বান করত আগুনের দিকে, আর কিয়ামতের দিনে তাদের সাহায্য করা হবে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

অর্থাৎ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তারা একটি দৃষ্টান্ত কায়েম করে গেছে। জুলুম কিভাবে করা হয়, সত্য অস্বীকার করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার ওপর কিভাবে অবিচল থাকা যায় এবং সত্যের মোকাবিলায় বাতিলের জন্য লোকেরা কেমন ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে, এসব তারা করে দেখিয়ে দিয়ে গেছে। দুনিয়াবাসীকে এসব পথ দেখিয়ে দিয়ে তারা জাহান্নামের দিকে এগিয়ে গেছে। এখন তাদের উত্তরসূরীরা তাদেরই পদাংক অনুসরণ করে সেই মনযিলের দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৪১. আর আমরা তাদেরকে নেতা করেছিলাম; তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে ডাকত(১); এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

(১) অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা ফিরআউনের পরিষদবৰ্গকে খারাপ ও নিন্দনীয় ব্যাপারে নেতা করে দিয়েছিলেন। সুতরাং দেশে দেশে, জাতিতে জাতিতে যারাই খারাপ কাজ করবে, যারাই কোন খারাপ কাজের প্রচার ও প্রসার ঘটাবে ফিরআউন ও তার পরিষদবর্গকে তারাই উত্তরসূরী হিসেবে পাবে। এরা হলো সমস্ত ভ্রান্ত মতবাদের হোতা। এ ভ্রান্ত নেতারা জাতিকে জাহান্নামের দিকে আহবান করতে থাকবে। কেয়ামত পর্যন্ত যারাই পথভ্রষ্ট কোন মত ও পথের দিকে মানুষকে আহবান করবে তারাই ফিরআউন ও তার সভাষদদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে থাকবে। (দেখুন: কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)

তারা জাহান্নামের পথের সর্দার। দুনিয়াতে যে ব্যক্তি মানুষকে কুফৱী ও যুলুমের দিকে আহবান করে, সে প্রকৃতপক্ষে জাহান্নামের দিকেই আহবান করে। আমরা যদি জাতিসমূহের পথভ্রষ্টতার উৎসের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করি তবে দেখতে পাব যে, সবচেয়ে প্রাচীন ভ্ৰষ্টতার উৎপত্তি ঘটেছে মিসর থেকে। ফিরআউন সর্বপ্রথম ‘ওয়াহদাতুল ওজুদ’ তথা সৰ্বেশ্বরবাদের দাবী তুলেছিল। আর সে দাবী এখনো পর্যন্ত ভারত তথা হিন্দুস্থানের হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও সুফীবাদের অনেকের মধ্যেই পাওয়া যায়। আর এ জন্যেই ফেরআউনকে অনেক সুফীরা ঈমানদার বলার মত ধৃষ্টতা দেখায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪১) ওদেরকে আমি নেতা করেছিলাম; ওরা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহবান করত।(1) কিয়ামতের দিন ওরা কিছু মাত্র সাহায্য পাবে না।

(1) অর্থাৎ, তাদের পরে যে কোন ব্যক্তি আল্লাহর একত্ববাদ বা আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করবে, ফিরআউনীরা তার পথিকৃৎ নেতা ও অগ্রগামী গণ্য হবে, যারা ছিল জাহান্নামের দিকে আহবানকারী।