وَأَخِي هَٰرُونُ هُوَ أَفۡصَحُ مِنِّي لِسَانٗا فَأَرۡسِلۡهُ مَعِيَ رِدۡءٗا يُصَدِّقُنِيٓۖ إِنِّيٓ أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ

ওয়া আখী হা-রূনুহুওয়া আফসাহুমিন্নী লিছা-নান ফাআরছিলহু মা‘ইয়া রিদআইঁ ইউসাদ্দিকু নীইন্নী আখা-ফুআইঁ ইউকাযযি বূন।উচ্চারণ

আর আমার ভাই হারূন আমার চেয় বেশী বাকপটু, তাকে সাহায্যকারী হিসেবে আমার সাথে পাঠাও, যাতে সে আমাকে সমর্থন দেয়, আমার ভয় হচ্ছে, তারা আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে।” তাফহীমুল কুরআন

আমার ভাই হারূনের যবান আমা অপেক্ষা বেশি স্পষ্ট। #%২৫%# তাকেও আমার সঙ্গে আমার সাহায্যকারীরূপে পাঠিয়ে দিন, যাতে সে আমার সমর্থন করে। আমার আশঙ্কা তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।মুফতী তাকী উসমানী

আমার ভাই হারূন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাকে আমার সাহায্যকারী রূপে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।মুজিবুর রহমান

আমার ভাই হারুণ, সে আমা অপেক্ষা প্রাঞ্জলভাষী। অতএব, তাকে আমার সাথে সাহায্যের জন্যে প্রেরণ করুন। সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশংকা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আমার ভাই হারূন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশংকা করি এরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আমার ভাই হারূন, সে আমার চেয়ে স্পষ্টভাষী, তাই তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।আল-বায়ান

আর আমার ভাই হারূন আমার চেয়ে প্রাঞ্জলভাষী, কাজেই তাকে তুমি সাহায্যকারীরূপে আমার সঙ্গে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন জানাবে। আমি আশঙ্কা করছি তারা আমাকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করবে।’তাইসিরুল

আর আমার ভাই হারূন, সে আমার থেকে কথাবার্তায় বেশী বাক্‌পটু, সেজন্য তাকে আমার সঙ্গে অবলন্বনস্বরূপ পাঠিয়ে দাও যাতে সে আমার সত্যতা সমর্থন করে। আমি অবশ্য আশংকা করছি যে তারা আমাকে প্রত্যাখ্যান করবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বে সূরা তোয়াহায় (২০ : ২৫) গত হয়েছে যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তার শৈশবকালে জ্বলন্ত আগুন মুখে দিয়েছিলেন। যদ্দরুণ তার মুখে কিছুটা তোত্লামি সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই তিনি প্রার্থনা জানিয়েছিলেন, যেন তাঁর ভাই হযরত হারূন আলাইহিস সালামকেও তাঁর সাথে নবী বানিয়ে পাঠানো হয়। কেননা তার যবান বেশি স্পষ্ট।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৪. আর আমার ভাই হারূন আমার চেয়ে বাগ্মী(১); অতএব তাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ করুন, সে আমাকে সমর্থন করবে। আমি আশংকা করি তারা আমার প্রতি মিথ্যারোপ করবে।

(১) এ আয়াত থেকে জানা গেল যে, ওয়াজ ও প্রচারকার্যে ভাষার প্রাঞ্জলতা ও প্রশংসনীয় বর্ণনাভঙ্গি কাম্য। এই গুণ অর্জনে প্রচেষ্টা চালানো নিন্দনীয় নয়। তবে হারূন আলাইহিস সালাম তার ভাই মূসা আলাইহিস সালাম থেকে বেশী বাগ্মী হলেও ফের'আউনের সাথে কথাবার্তা মূসা আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছিল বলেই প্রমাণিত হয়। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, বাগ্মীতার যেমন প্রয়োজন তেমনি জ্ঞানের পরিধিরও আলাদা কদর রয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৪) আমার ভাই হারূন আমার থেকে বাগ্মী; অতএব তাকে আমার সহযোগীরূপে প্রেরণ কর,(1) সে আমাকে সমর্থন করবে। নিশ্চয় আমি আশংকা করি যে, ওরা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।’

(1) ইস্রাঈলী বর্ণনা মতে মূসা (আঃ) ছিলেন তোতলা। যার কারণ এই বলা হয়ে থাকে যে, শিশু মূসার সামনে আগুনের আঙ্গার ও খেজুর অথবা মুক্তা রাখা হয়েছিল। তিনি আগুনের আঙ্গার তুলে মুখে পুরে নিয়েছিলেন, যার জন্য তাঁর জিহ্বা পুড়ে গিয়েছিল। এই ঘটনা বা যুক্তি ঠিক হোক অথবা ভুল, কুরআনের এই আয়াত হতে প্রমাণিত হয় যে, মূসা (আঃ)-এর তুলনায় হারূন (আঃ) বেশি বাকপটু ও স্পষ্টভাষী ছিলেন। আর মূসা (আঃ)-এর মুখে ছিল আড়ষ্টতা ও জড়তা। যা দূর করার জন্য তিনি নবুঅত প্রাপ্তির পর দু’আ করেছিলেন। رِدء এর অর্থ সহায়ক, সহযোগী, সমর্থক। অর্থাৎ, হারূন নিজ বাকপটুতায় আমার সাহায্য ও সহযোগিতা করবে।