উছলুক ইয়াদাকা ফী জাইবিকা তাখরুজ বাইদাআ মিন গাইরি ছূইওঁ ওয়াদমুম ইলাইকা জানা-হাকা মিনাররহবি ফাযা-নিকা বুরহা-না-নি মিররব্বিকা ইলা-ফির‘আওনা ওয়া মালাইহী ইন্নাহুম ক-নূকাওমান ফা-ছিকীন।উচ্চারণ
তোমার হাত বগলে রাখো উজ্জল হয়ে বের হয়ে আসবে কোন প্রকার কষ্ট ছাড়াই। ৪৪ এবং ভীতিমুক্ত হবার জন্য নিজের হাত দু’টি চেপে ধরো। ৪৫ এ দু’টি উজ্জল নিদর্শন তোমার রবের পক্ষ থেকে ফেরাউন ও তার সভাসদদের সামনে পেশ করার জন্য, তারা বড়ই নাফরমান।” ৪৬ তাফহীমুল কুরআন
তুমি তোমার হাত জামার সামনের ফোকড়ের ভেতর ঢোকাও। তা কোন রোগ ব্যতিরেকে সমুজ্জ্বলরূপে বের হয়ে আসবে। ভয় দূর করার জন্য তোমার বাহু নিজ শরীরে চেপে ধর। #%২৪%# এ দু’টি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে বলিষ্ঠ প্রমাণ, ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের প্রতি। তারা ঘোর অবাধ্য সম্প্রদায়।মুফতী তাকী উসমানী
তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, ওটা বের হয়ে আসবে শুভ্র সমুজ্জ্বল নির্দোষ হয়ে। ভয় দূর করার জন্য তোমার হস্তদ্বয় তোমার উপর চেপে ধর। এ দু’টি তোমার রাব্ব প্রদত্ত প্রমাণ, ফির‘আউন ও তার পরিষদবর্গের জন্য। তারাতো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান
তোমার হাত বগলে রাখ। তা বের হয়ে আসবে নিরাময় উজ্জ্বল হয়ে এবং ভয় হেতু তোমার হাত তোমার উপর চেপে ধর। এই দু’টি ফেরাউন ও তার পরিষদবর্গের প্রতি তোমার পালনকর্তার তরফ থেকে প্রমাণ। নিশ্চয় তারা পাপাচারী সম্প্রদায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, এটা বের হয়ে আসবে শুভ্র-সমুজ্জ্বল নির্দোষ হয়ে। ভয় দূর করার জন্যে তোমার হস্তদ্বয় নিজের দিকে চাপিয়া ধর। এই দুইটি তোমার প্রতিপালক-প্রদত্ত প্রমাণ, ফির‘আওন ও তার পারিষদবর্গের জন্যে। এরা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, এটা ত্রুটিমুক্ত অবস্থায় শুভ্রোজ্জ্বল হয়ে বেরিয়ে আসবে। আর ভয় থেকে রক্ষার জন্য তোমার হাত তোমার নিজের দিকে মিলাও। অতঃপর এ দু’টো তোমার রবের পক্ষ থেকে দু’টি প্রমাণ, ফির‘আউন ও তার পারিষদবর্গের জন্য। নিশ্চয় তারা ফাসিক কওম’।আল-বায়ান
তোমার হাত তোমার বগলে রাখ, তা দোষমুক্ত জ্যোতির্ময় হয়ে বেরিয়ে আসবে, ভয় থেকে রক্ষার্থে তোমার হাত তোমার উপর চেপে ধর। এ দু’টি হল ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের জন্য তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রমাণ, নিশ্চয় তারা পাপাচারী সম্প্রদায়।’তাইসিরুল
তোমার হাত তোমার পকেটে ঢোকাও, এটি বেরিয়ে আসবে সাদা হয়ে কোনো দোষত্রুটি ছাড়া, আর তোমার পাখনা তোমার প্রতি চেপে ধর ভয়ের থেকে। সুতরাং এ দুটি হচ্ছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে ফিরআউন ও তার প্রধানদের কাছে দুই প্রমাণ। নিঃসন্দেহ তারা হচ্ছে সীমালংঘনকারী জাতি।মাওলানা জহুরুল হক
৪৪
এ মু’জিযা দু’টি তখন মূসাকে দেখানোর কারণ হচ্ছে, প্রথমত যাতে তার মনে পূর্ণ বিশ্বাস জন্মে যে, প্রকৃতপক্ষে যে সত্তা বিশ্ব-জাহানের সমগ্র ব্যবস্থার স্রষ্টা, অধিপতি, শাসক ও পরিচালক তিনিই তাঁর সাথে কথা বলছেন। দ্বিতীয়ত এ মু’জিযাগুলো দেখে তিনি এ মর্মে নিশ্চিন্ত হয়ে যাবেন যে, তাঁকে ফেরাউনের কাছে যে ভয়াবহ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে সেখানে তিনি একেবারে খালি হাতে তার মুখোমুখি হবেন না বরং প্রচণ্ড শক্তিশালী অস্ত্র নিয়ে যাবেন।
৪৫
অর্থাৎ যখন কোন ভয়াবহ মুহূর্ত আসে, যার ফলে তোমার মনে ভীতির সঞ্চার হয় তখন নিজের বাহু চেপে ধরো। এর ফলে তোমার মন শক্তিশালী হবে এবং ভীতি ও আশঙ্কার কোন রেশই তোমার মধ্যে থাকবে না।
বাহু বা হাত বলতে সম্ভবত ডান হাত বুঝানো হয়েছে। কারণ সাধারণভাবে হাত বললে ডান হাতই বুঝানো হয়। চেপে ধরা দু’রকম হতে পারে। এক, হাত পার্শ্বদেশের সাথে লাপিয়ে চাপ দেওয়া। দুই, এক হাতকে অন্য হাতের বগলের মধ্যে রেখে চাপ দেয়া। এখানে প্রথম অবস্থাটি প্রযোজ্য হবার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এ অবস্থায় অন্য কোন ব্যক্তি অনুভব করতে পারবে না যে, এ ব্যক্তি মনের ভয় দূর করার জন্য কোন বিশেষ কাজ করছে।
হযরত মূসাকে যেহেতু একটি জালেম সরকারের মোকাবিলা করার জন্য কোন সৈন্য সামন্ত ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জাম ছাড়াই পাঠানো হচ্ছিলো তাই তাঁকে এ ব্যবস্থা অবলম্বন করতে বলা হয়। বার বার এমন ভয়ানক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছিলো যাতে একজন মহান দৃঢ়চেতা নবীও আতংকমুক্ত থাকতে পারতেন না। মহান আল্লাহ বলেন, এ ধরণের কোন অবস্থা দেখা দিলে তুমি স্রেফ এ কাজটি করো, ফেরাউন তার সমগ্র রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করেও তোমার মনের জোর শিথিল করতে পারবে না।
৪৬
এ শব্দগুলোর মধ্যে এ বক্তব্য নিহিত রয়েছে যে, এ নিদর্শনগুলো নিয়ে ফেরাউনের কাছে যাও এবং আল্লাহর রসূল হিসেবে নিজেকে পেশ করে তাকে ও তার রাষ্ট্রীয় প্রশাসকবৃন্দকে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের আনুগত্য ও বন্দেগীর দিকে আহবান জানাও। তাই এখানে তাঁর ও নিযুক্তির বিষয়টি সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত বলা হয়নি। তবে কুরআনের অন্যান্য স্থানে এ বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন সূরা ত্ব-হা ও সূরা নাযি’আতে বলা হয়েছেاذْهَبْ إِلَى فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَى ফেরাউনের কাছে যাও, সে বিদ্রোহী হয়ে গেছে” সূরা আশ শূ’আরায় বলা হয়েছেঃ
وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ - قَوْمَ فِرْعَوْنَ
“যখন তোমার রব মূসাকে ডেকে বললেন, যাও জালেম জাতির কাছে, ফেরাউনের জাতির কাছে।”
লাঠিটির সাপে পরিণত হওয়া ও হাত থেকে অকস্মাৎ আলো ঠিকরানোর কারণে হযরত মূসা আলাইহিস সালামের অন্তরে যে ভীতি দেখা দিয়েছিল, তা ছিল একটি স্বভাবগত ব্যাপার। সে ভীতি দূর করার জন্য আল্লাহ তাআলা ব্যবস্থাও দিলেন বিস্ময়কর। বললেন, বগলের ভেতর থেকে বের করার কারণে যে হাত চমকাতে শুরু করেছিল, তাকে পুনরায় নিজ দেহের সাথে জড়াও। দেখবে সে ভীতি সহসাই দূর হয়ে গেছে।
৩২. আপনার হাত আপনার বগলে রাখুন, এটা বের হয়ে আসবে শুভ্ৰ-সমুজ্জল নির্দোষ হয়ে। আর ভয় দূর করার জন্য আপনার দুহাত নিজের দিকে চেপে ধরুন। অতঃপর এ দুটি আপনার রব-এর দেয়া প্রমাণ, ফিরআউন ও তার পরিষদ বর্গের জন্য।(১) তারা তো ফাসেক সম্প্রদায়।
(১) এ মু'জিযা দুটি তখন মূসাকে দেখানোর কারণ তাকে ফিরআউনের কাছে যে ভয়াবহ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে সেখানে তিনি একেবারে খালি হাতে তার মুখোমুখি হবেন। না। বরং প্রচণ্ড শক্তিশালী অস্ত্ৰ নিয়ে যাবেন। এ দু'টি মু'জিযাই ছিল অত্যন্ত সুস্পষ্ট। নবুওয়াতের পক্ষে বিরাট ও অকাট্য প্রমাণ। (দেখুন: ইবন কাসীর)
(৩২) তোমার হাত নিজ জামার বুকের উন্মুক্ত অংশে প্রবেশ করাও, তা নির্মল উজ্জ্বল হয়ে বের হয়ে আসবে।(1) ভয় দূর করবার জন্য তোমার হাতকে বুকের উপর চেপে ধর।(2) এ দুটি ফিরআউন ও তার পারিষদবর্গের জন্য তোমার প্রতিপালক-প্রদত্ত প্রমাণ। ওরা অবশ্যই সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।’ (3)
(1) يَدٌ بَيضَاء (উজ্জ্বল হাত) এটি ছিল দ্বিতীয় মু’জিযা, যা তাঁকে দান করা হয়েছিল।
(2) লাঠি সাপ হয়ে যাওয়ার ফলে মূসা (আঃ)-এর মনে যে ভয় সঞ্চারিত হয়েছিল তা দূর করার এক পদ্ধতি বলে দেওয়া হল। নিজের বাজু (হাত) শরীরে রেখে নাও, তাতে ভয় দূর হয়ে যাবে। কোন কোন মুফাসসির বলেন, এটি সকল মানুষ ও সকল প্রকার ভয় দূর করার জন্য প্রযোজ্য। যখনই কেউ কোন কিছু হতে ভয় পাবে তখনই এ রকম করলে তার ভয় দূর হয়ে যাবে। ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) বলেন, যে কোন ব্যক্তি মূসা (আঃ)-এর অনুকরণে ভয়ের সময় নিজ হাত হৃদয়ের উপর রাখলে তার হৃদয় হতে ভয় বিলকুল দূর হয়ে যাবে, নতুবা কমসে কম সে ভয় কিছু হাল্কা হবে -- ইন শাআল্লাহ।
(3) অর্থাৎ, ফিরআউন ও তার জাতির সামনে এই দুই মু’জিযা নিজের সত্যতার প্রমাণস্বরূপ পেশ কর। এরা আল্লাহর আনুগত্য হতে দূরে সরে গেছে এবং এরা আল্লাহর দ্বীন-বিরোধী।