وَنُمَكِّنَ لَهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ وَنُرِيَ فِرۡعَوۡنَ وَهَٰمَٰنَ وَجُنُودَهُمَا مِنۡهُم مَّا كَانُواْ يَحۡذَرُونَ

ওয়া নুমাক্কিনা লাহুম ফিল আরদি ওয়া নুরিয়া ফির‘আওনা ওয়া হা-মা-না ওয়া জুনূদাহুমামিনহুম মা-ক-নূইয়াহযারূন।উচ্চারণ

পৃথিবীতে তাদেরকে কর্তৃত্ব দান করবো। এবং তাদের থেকে ফেরাউন, হামান ও তার সৈন্যদেরকে সে সবকিছুই দেখিয়ে দেবো, যার আশঙ্কা তারা করতো। তাফহীমুল কুরআন

এবং সে দেশে তাদেরকে ক্ষমতাসীন করতে আর ফির‘আওন, হামান ও তাদের সৈন্যদেরকে সেই জিনিস দেখিয়ে দিতে, যার আশঙ্কা তারা তাদের (অর্থাৎ বনী ইসরাঈলের) দিক থেকে করছিল। মুফতী তাকী উসমানী

আর তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে; এবং ফির‘আউন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে যা তাদের নিকট থেকে তারা আশংকা করত।মুজিবুর রহমান

এবং তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় আসীন করার এবং ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য-বাহিনীকে তা দেখিয়ে দেয়ার, যা তারা সেই দূর্বল দলের তরফ থেকে আশংকা করত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং তাদেরকে দেশে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে, আর ফির‘আওন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে, যা এদের নিকট তারা আশংকা করত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যমীনে তাদেরকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে এবং ফির‘আউন, হামান ও তাদের সৈন্যদেরকে দেখিয়ে দিতে, যা তারা তাদের কাছ থেকে আশঙ্কা করছিল।আল-বায়ান

আর (ইচ্ছে করলাম) তাদেরকে দেশে প্রতিষ্ঠিত করতে, আর ফেরাউন, হামান ও তাদের সৈন্য বাহিনীকে দেখিয়ে দিতে যা তারা তাদের (অর্থাৎ মূসার সম্প্রদায়ের) থেকে আশঙ্কা করত।তাইসিরুল

আর দেশে তাদের প্রতিষ্ঠা করতে, আর ফিরআউন ও হামান ও তাদের সেনাবাহিনীকে আমরা তা দেখাতে যা তারা তাদের থেকে আশংকা করত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

পশ্চিমা প্রাচ্যবিদরা এ বিষয়টি নিয়ে বেশ ঠাট্টা বিদ্রূপ করেছেন যে, হামান তো ছিল ইরানের বাদশা আখসোবীরাস অর্থাৎ খাশিয়ারশার (Xerxes) দরবারের একজন আমীর। আর এ বাদশাহর আমল হযরত মূসার শত শত বছর পরে খৃঃ পূঃ ৪৮৬ ও ৪৬৫ সালে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু কোরআন তাকে মিসরে নিয়ে গিয়ে ফিরাউনের মন্ত্রী বানিয়ে দিয়েছে। তাদের বিবেক বুদ্ধি যদি বিদ্বেষের আবরণে আচ্ছাদিত না থাকতো, তাহলে তারা নিজেরাই এ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারতো। আখসোবীরাসের সভাসদ হামানের পূর্বে দুনিয়ায় এ নামে আর কোন ব্যক্তি কোথাও ছিল কিনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে বলার মত তাদের কাছে কি এমন ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে? যে ফেরাউনের আলোচনা এখানে হচ্ছে যদি তার সমস্ত মন্ত্রী, আমীর-উমরাহ ও সভাসদদের কোন পূর্ণাঙ্গ তালিকা একেবারে নির্ভরযোগ্য সূত্রে কোন প্রাচ্যবিদ সাহেব পেয়ে গিয়ে থাকেন, যাতে হামানের নাম নেই, তাহলে তিনি তা লুকিয়ে রেখেছেন কেন? এখনই তার ফটোকপি ছাপিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ কুরআনকে মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য এর চেয়ে আর বড় প্রভাবশালী অস্ত্র আর তিনি পাবেন না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বনী ইসরাঈলের কোন এক শিশু বড় হয়ে তার পতন ঘটাবে এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনে ফির‘আওন ভীষণভাবে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। সে তা থেকে বাঁচার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমি তাকে দেখাতে চাচ্ছিলাম কিভাবে তার সকল ব্যবস্থা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং যার জন্য সে শঙ্কিত ছিল তা সত্য হয়ে সামনে দেখা দেয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. আর যমীনে তাদেরকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে, আর ফিরআউন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে, যা তারা সে দূর্বল দলের কাছ থেকে আশংকা করত।(১)

(১) এ আয়াতে ফিরআউনী কৌশলের শুধু ব্যর্থ ও বিপর্যস্ত হওয়ার কথাই নয়; বরং ফিরআউন ও তার পরিষদবৰ্গকে চরম বোকা ও অন্ধ বানানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যে বালকের জন্মরোধ করতে বনী ইসরাঈলের অসংখ্য নবজাতককে হত্যা করেছিল সে বালককে আল্লাহ তা'আলা এই ফিরআউনের ঘরে তারই হাতে লালনপালন করালেন এবং সে বালকের জননীর মনতুষ্টির জন্যে তারই কোলে বিস্ময়কর পন্থায় পৌছে দিলেন। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) ইচ্ছা করলাম দেশে তাদেরকে ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে(1) এবং ফিরআউন হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে, যা তাদের নিকট হতে ওরা আশঙ্কা করত। (2)

(1) এখানে ‘দেশ’ বলতে শাম দেশকে বুঝানো হয়েছে; যেখানে তারা কিনআনীদের দেশের উত্তরাধিকারী হল। কারণ, বানী ইস্রাঈলদের মিসর হতে বের হবার পর পুনরায় সেখানে ফিরে যায়নি। والله أعلم

(2) অর্থাৎ, তাদের যে আশংকা ছিল যে, একজন ইস্রাঈলীর হাতে ফিরআউন, তার দেশ ও তার সৈন্য-সামন্ত সব ধ্বংস হবে, আমি তাদের সেই আশংকাকে সত্যে পরিণত করলাম।