قُلۡ أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡكَٰفِرِينَ

কুল আতী‘উল্লা-হা ওয়ার রছূলা ফাইন তাওয়াল্লাও ফাইন্নাল্লা-হা লা-ইউহিব্বুল কাফিরীন।উচ্চারণ

তারপর যদি তারা তোমাদের এ দাওয়াত গ্রহণ না করে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আল্লাহ‌ এমন লোকদের ভালোবাসবেন না, যারা তাঁর ও তাঁর রসূলদের আনুগত্য করতে অস্বীকার করে। ২৮ তাফহীমুল কুরআন

বলে দাও, আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য কর। তারপরও যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না।মুফতী তাকী উসমানী

তুমি বলঃ তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের অনুসরণ কর; কিন্তু যদি তারা ফিরে যায় তাহলে নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না।মুজিবুর রহমান

বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘আল্লাহ্ ও রাসূলের অনুগত হও।’ যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখ, আল্লাহ্ তো কাফিরদেরকে পছন্দ করেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর’। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।আল-বায়ান

বল, ‘তোমরা আল্লাহর ও রসূলের আজ্ঞাবহ হও’। অতঃপর যদি তারা না মানে, তবে (জেনে রেখ) আল্লাহ কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।তাইসিরুল

বলো -- "আল্লাহ্‌র আজ্ঞানুবর্তী হও আর রসূলেরও।" কিন্তু যদি তারা ফিরে যায়, তবে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ অবিশ্বাসকারীদের ভালোবাসেন না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৮

প্রথম ভাষণটি এখানেই শেষ হয়েছে। এর বিষয়বস্তু, বিশেষ করে এর মধ্যে বদর যুদ্ধের দিকে যে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তার বর্ণনাভঙ্গি সম্পর্কে চিন্তা করলে এই ভাষণটি বদর যুদ্ধের পরে এবং ওহোদ যুদ্ধের আগে অর্থাৎ ৩ হিজরীতে নাযিল হয়েছিল বলে প্রবল ধারণা জন্মাবে। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাকের বর্ণনা থেকে সাধারণ লোকদের এই ভুল ধারণা হয়েছে যে, এই সূরার প্রথম ৮টি আয়াত নাজরানের প্রতিনিধি দলের আগমনের সময় হিজরী ৯ সনে নাযিল হয়েছিল। কিন্তু প্রথমত এই ভূমিকা হিসেবে প্রদত্ত ভাষণটির বিষয়বস্তু পরিষ্কারভাবে একথা তুলে ধরেছে যে, এটি তার অনেক আগেই নাযিল হয়ে থাকবে। দ্বিতীয়ত, মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের রেওয়ায়াতে একথা পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, নাজরানের প্রতিনিধিদলের আগমনের সময় কেবলমাত্র হযরত ইয়াহ্‌ইয়া আল্লাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের বর্ণনা সম্বলিত ৩০ টি বা তার চেয়ে কিছু বেশী আয়াত নাযিল হয়েছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩২. বলুন, ‘তোমরা আল্লাহ্ ও রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পছন্দ করেন না।(১)

(১) আয়াতের শেষে বলা হয়েছে যে, “নিশ্চয় আল্লাহ কাফেরদেরকে পছন্দ করেন না”। এ থেকে বুঝা গেল যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করা ফরয। আল্লাহর আনুগত্য ও রাসূলের আনুগত্যের মধ্যে তারতম্য করা যাবে না। আল্লাহর নির্দেশ যেমন মানতে হবে, তেমনি রাসূলের নির্দেশও মানতে হবে। কেউ আল্লাহর আনুগত্য করল কিন্তু রাসূলের আনুগত্য করল না, সে কুফরীর গণ্ডি থেকে বের হতে পারল না। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি যেন কাউকে এ রকম না দেখতে পাই যে, সে সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে, তখন তার কাছে আমি যে সমস্ত আদেশ-নিষেধ দিয়েছি সে সমস্ত আদেশ-নিষেধের কোন কিছু এসে পড়ল, তখন সে বললঃ আমরা জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি তার অনুসরণ করেছি।” (আবু দাউদ ৪৬০৫; তিরমিযী: ২৬৬৩; ইবনে মাজাহ: ১৩) সুতরাং কোন ঈমানদারের পক্ষে রাসূলের আদেশ-নিষেধ পাওয়ার পর সেটা কুরআনে নেই বলে বাহানা করার কোন সুযোগ নেই। যদি তা করা হয় তবে তা হবে সুস্পষ্ট কুফরী।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩২) বল, ‘তোমরা আল্লাহ ও রসূলের অনুগত হও।’ কিন্তু যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে জেনে রাখ নিশ্চয়ই আল্লাহ অবিশ্বাসীদেরকে ভালবাসেন না। (1)

(1) এই আয়াতে আল্লাহর আনুগত্য করার সাথে সাথে রসূল (সাঃ)-এর অনুসরণ করার প্রতি পুনরায় তাকীদ করে এ কথা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, এখন মুক্তির পথই হল কেবল মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর অনুসরণ করা। আর এ থেকে বিমুখ হলে, তা হবে কুফরী এবং এমন কুফরীর কাফেরদেরকে আল্লাহ পছন্দ করেন না। তাতে তারা আল্লাহর ভালবাসা ও তাঁর নৈকট্য লাভের যতই দাবী করুক না কেন। এই আয়াতে তাদের প্রতি বড় তিরস্কার রয়েছে, যারা হাদীসকে হুজ্জত (শরীয়তের দলীল) মানে না এবং রসূল (সাঃ)-এর অনুসরণকেও জরুরী মনে করে না। উভয় শ্রেণীর মানুষই সব সব পদ্ধতিতে এমন মত ও পথ অবলম্বন করে যাকে কুফরী বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে এ থেকে পানাহ দিন। আমীন।