أَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّا جَعَلۡنَا ٱلَّيۡلَ لِيَسۡكُنُواْ فِيهِ وَٱلنَّهَارَ مُبۡصِرًاۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَأٓيَٰتٖ لِّقَوۡمٖ يُؤۡمِنُونَ

আলাম ইয়ারও আন্না-জা‘আলনাল্লাইলা লিইয়াছকুনূফীহি ওয়ান্নাহা-র মুবসিরন ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।উচ্চারণ

তারা কি অনুধাবন করতে পারেনি, আমি তাদের প্রশান্তি অর্জন করার জন্য রাত তৈরী করেছিলাম এবং দিনকে উজ্জ্বল করেছিলাম? ১০৪ এরই মধ্যে ছিল অনেকগুলি নিদর্শন যারা ঈমান আনতো তাদের জন্য। ১০৫ তাফহীমুল কুরআন

তারা কি দেখেনি আমি রাত সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা তখন বিশ্রাম নিতে পারে আর দিন সৃষ্টি করেছি এমনভাবে, যাতে তখন সবকিছু দৃষ্টিগোচর হয়। নিশ্চয়ই যে সকল লোক ঈমান আনে তাদের জন্য এর ভেতর বহু নিদর্শন আছে। #%৪৪%#মুফতী তাকী উসমানী

তারা কি অনুধাবন করেনা যে, আমি রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি আলোকপ্রদ? এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।মুজিবুর রহমান

তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরা কি অনুধাবন করে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি এদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিবসকে করেছি আলোকপ্রদ ? এতে মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্যে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারা কি দেখে না যে, আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি, যেন তারা তাতে বিশ্রাম নিতে পারে এবং দিনকে করেছি আলোকিত? নিশ্চয় এতে নিদর্শনাবলী রয়েছে সেই কওমের জন্য যারা ঈমান এনেছে।আল-বায়ান

তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি রাত বানিয়েছি যাতে তারা তাতে আরাম করতে পারে আর দিনকে করেছি আলো দানকারী? বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে।তাইসিরুল

তারা কি দেখে না যে আমরা অবশ্যই রাতকে সৃষ্টি করেছি যেন তারা এতে বিশ্রাম করে, আর দিনকে দৃশ্যমান? নিশ্চয় এতে তো এক নিদর্শন রয়েছে সেই জাতির জন্য যারা বিশ্বাস করে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৪

অর্থাৎ অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে এ দু’টি নির্দশন এমন যে, তারা হরহামেশা তা দেখে আসছিল। তারা প্রতি মুহূর্তে এগুলোর সাহায্যে লাভবান হচ্ছিল। কোন অন্ধ, বধির ও বোবার কাছেও এ দু’টি গোপন ছিল না। কেন তারা রাতের বেলা আরাম করার মুহূর্তে এবং দিনের সুযোগে লাভবান হবার সময় একথা চিন্তা করেনি যে, এক মহাবিজ্ঞ ও বিজ্ঞানময় সত্তা এ ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন এবং তিনি তাদের যথাযথ প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেছেন? এটি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। কারণ এর মধ্যে উদ্দেশ্যমুখীনতা, বিজ্ঞানময়তা ও পরিকল্পনা গঠনের ধারা প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। এগুলো কোন অন্ধ প্রাকৃতিক শক্তির গুণাবলীও হতে পারে না। আবার এগুলো বহু ইলাহর কার্যপ্রণালীও নয়। কারণ নিঃসন্দেহে এ ব্যবস্থায় এমন কোন এক জনই স্রষ্টা, মালিক ও পরিচালক-ব্যবস্থাপক দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যিনি পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য ও অন্যান্য সকল গ্রহ-নক্ষত্রের উপর কর্তৃত্ব করছেন। কেবলমাত্র এ একটি জিনিস দেখেই তারা জানতে পারতো যে, সেই একক স্রষ্টা তাঁর রসূল ও কিতাবের মাধ্যমে যে সত্য বর্ণনা করেছেন এ রাত ও দিনের আবর্তন তারই সত্যতা প্রমাণ করছে।

১০৫

অর্থাৎ এটি কোন দুর্বোধ্য কথাও ছিল না। তাদেরই ভাই-বন্ধু তাদেরই বংশ ও গোত্রের লোক এবং তাদেরই মত মানুষরাই তো এ নিদর্শনগুলো দেখে স্বীকার করেছিল যে, নবী যে আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্ব ও তাওহীদের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন তা প্রকৃত সত্যের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যশীল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ রাত-দিনের পরিবর্তনের মধ্যে চিন্তা করলে তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাত সম্পর্কে শিক্ষালাভ হয়। কেননা একই নিয়মের অধীনে যেভাবে রাত-দিনের নিরবচ্ছিন্ন পালাবদল হচ্ছে তা এক লা-শারীক সর্বশক্তিমান সত্তার ইচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়। এরূপ একাধিক সত্তা থাকলে এ শৃঙ্খলায় ভাঙ্গন অনিবার্য হয়ে যেত। এটা তাওহীদের প্রমাণ রিসালাতের শিক্ষালাভ হয় এভাবে যে, যেই আল্লাহ অন্ধকার রাতের পর দিনের আলো দিয়ে মানুষের দৈহিক ও বাহ্যিক প্রতিপালনের ব্যবস্থা করেছেন, তিনি তাদের আত্মিক ও অভ্যন্তরীণ পালন-পরিচর্যার জন্য হিদায়াতের আলো দান করবেন না এটা কি করে সম্ভব। বস্তুত সেই আলো বিতরণের জন্যই নবী-রাসূল প্রেরণের ধারা চালু করেছেন যার সর্বশেষ জ্যোতিষ্ক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর আখিরাতের শিক্ষালাভ এভাবে হয় যে, রাতের বেলা মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুম মৃত্যুসদৃশ একটা অবস্থা। দিনের আলো ফুটলে আল্লাহ তাআলা মানুষকে ঘুমের সাময়িক মৃত্যু থেকে জীবিত করে তোলেন। ঠিক এভাবেই তিনি আয়ু শেষের আসল মৃত্যু থেকেও মানুষকে একদিন পুনর্জীবিত করবেন। সেটাই আখিরাত। মোটকথা চিন্তাভাবনা করলে বিশ্ববাসীগণ এর থেকে দীন ও ঈমানের বহু শিক্ষা লাভ করতে পারে (-অনুবাদক, তাফসীরে উছমানী অবলম্বনে)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৬. তারা কি দেখে না যে, আমরা রাত সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্য এবং দিনকে করেছি দৃশ্যমান? এতে তো অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে এমন সম্প্রদায়ের জন্য যারা ঈমান আনে।(১)

(১) অর্থাৎ কেন তারা রাতের বেলা আরাম করার মুহূর্তে এবং দিনের সুযোগে লাভবান হবার সময় একথা চিন্তা করেনি যে, এক মহাবিজ্ঞ ও বিজ্ঞানময় সত্তা এ ব্যবস্থা পরিচালনা করছেন এবং তিনি তাদের যথাযথ প্রয়োজন অনুযায়ী পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করেছেন? এটি কোন আকস্মিক ঘটনা হতে পারে না। আবার এগুলো বহু ইলাহর কার্যপ্রণালীও নয়। এগুলো মূলত: মহান আল্লাহর শক্তি ও সামর্থের উপরই প্রমাণবিহ। তারা কেন আমার এ সমস্ত ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা করে না, ফলে তারা ঈমান আনত? (দেখুন: কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৬) তারা কি দেখে না যে, ওদের বিশ্রামের জন্য আমি রাতকে সৃষ্টি করেছি এবং দিনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল। (1) এতে বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।

(1) যাতে করে তারা জীবিকার খোঁজে চেষ্টা-চরিত্র করতে পারে।