بَلِ ٱدَّـٰرَكَ عِلۡمُهُمۡ فِي ٱلۡأٓخِرَةِۚ بَلۡ هُمۡ فِي شَكّٖ مِّنۡهَاۖ بَلۡ هُم مِّنۡهَا عَمُونَ

বালিদ দা-রকা ‘ইলমুহুম ফিল আ-খিরতি বাল হুম ফী শাক্কিম মিনহা-, বাল হুম মিনহা‘আমূন।উচ্চারণ

বরং আখেরাতের জ্ঞানই তাদের থেকে হারিয়ে গেছে। উপরন্তু তারা সে ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। আসলে তারা সে ব্যাপারে অন্ধ। ৮৫ তাফহীমুল কুরআন

বরং আখেরাত সম্পর্কে তাদের (অর্থাৎ কাফেরদের) জ্ঞান সম্পূর্ণ অপারগ হয়ে গেছে; বরং তারা সে সম্বন্ধে সন্দেহে নিপতিত; বরং তারা সে সম্পর্কে অন্ধ।মুফতী তাকী উসমানী

বরং আখিরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়েছে; তারাতো এ বিষয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে, বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।মুজিবুর রহমান

বরং পরকাল সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়ে গেছে; বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষন করছে বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আখিরাত সম্পর্কে এদের জ্ঞান তো নিঃশেষ হয়েছে ; এরা তো এ বিষয়ে সন্দিগ্ধ, বরং এ বিষয়ে এরা অন্ধ।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং আখিরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়েছে। বরং সে বিষয়ে তারা সন্দেহে আছে; বরং এ ব্যাপারে তারা অন্ধ।আল-বায়ান

বরং আখিরাত সম্পর্কিত তাদের জ্ঞানের সীমা শেষ, বরং এ ব্যাপারে তারা সন্দেহে আচ্ছন্ন বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।তাইসিরুল

বস্তুতঃ তাদের জ্ঞান পরলোকে সীমিত হয়ে গেছে, বরং তারা এ বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে, বস্তুতঃ এ সন্বন্ধে তারা অন্ধ।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৮৫

‘ইলাহ’র গুণাবলীর ব্যাপারে তাদের আকীদার মৌলিক ত্রুটিগুলো সম্পর্কে সতর্ক করে দেবার পর যখন একথা জানিয়ে দেয়া হচ্ছে যে, তারা যে এ মারাত্মক গোমরাহীর মধ্যে পড়ে আছে এর কারণ এ নয় যে, চিন্তা-ভাবনা করার পর তারা কোন যুক্তি প্রমাণের সাহায্যে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে, আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বে ভিন্ন সত্তাদের শরীকানা আছে। বরং এর আসল কারণ হচ্ছে, তারা কখনো গুরুত্ব সহকারে চিন্তা-ভাবনা করেনি। যেহেতু তারা আখেরাত সম্পর্কে অজ্ঞ অথবা সন্দেহের মধ্যে রয়েছে কিংবা তা থেকে চোখ বন্ধ করে রেখেছে, তাই আখেরাত চিন্তা থেকে বেপরোয়া ভাব তাদের মধ্যে পুরোপুরি একটি অ-দায়িত্বশীল মনোভাব সৃষ্টি করে দিয়েছে। তারা এ বিশ্ব-জাহান এবং নিজেদের জীবনের প্রকৃত সমস্যাবলীর প্রতি আদতে কোন গুরুত্বই আরোপ করে না। প্রকৃত সত্য কি এবং তাদের জীবন দর্শন তার সাথে সামঞ্জস্য রাখে কিনা এর কোন পরোয়াই তারা করে না। কারণ তাদের মতে শেষ পর্যন্ত মুশরিক, নাস্তিক, একত্ববাদী ও সংশয়বাদী সবাইকেই মরে গিয়ে মাটিতে মিশে যেতে হবে এবং কোন জিনিসেরই কোন চূড়ান্ত ফলাফল নেই।

আখেরাত সংক্রান্ত এ বক্তব্যটি এর আগের আয়াতের নিন্মোক্ত বাক্যাংশ থেকে বের হয়েছেঃ “তারা জানে না, কবে তাদেরকে উঠানো হবে।” এ বাক্যাংশে এ কথা বলে দেয়া হয়েছিল যে, যাদেরকে উপাস্য করা হয়--- আর ফেরেশতা, জিন, নবী, অলী সবাই এর অন্তর্ভুক্ত। তাদের কেউই আখেরাত কবে আসবে জানে না। এরপর এখন সাধারণ কাফের ও মুশরিকদের সম্পর্কে তিনটি কথা বলা হয়েছে। প্রথমতঃ আখেরাত কোনদিন আদৌ হবে কিনা তা তারা জানেই না। দ্বিতীয়তঃ তাদের এ অজ্ঞতা এজন্য নয় যে, তাদেরকে কখনো এ ব্যাপারে জানানো হয়নি। বরং এর কারণ হচ্ছে তাদেরকে যে খবর দেয়া হয়েছে তা তারা বিশ্বাস করেনি বরং তার নির্ভুলতা সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতে থেকেছে। তৃতীয়তঃ আখেরাত অনুষ্ঠিত হওয়া সম্পর্কে যেসব যুক্তি প্রমাণ পেশ করা হয়েছে তারা কখনো সেগুলো যাচাই করার প্রয়াস চালায়নি। বরং তারা সেদিক থেকে চোখ বন্ধ করে থাকাকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৬. বরং আখেরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান তো নিঃশেষ হয়েছে(১); তারা তো এ বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে, বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ।(২)

(১) আয়াতে ব্যবহৃত হয়েছে, ادَّارَكَ শব্দটি। এ শব্দে বিভিন্ন কেরাআত আছে এবং অর্থ সম্পর্কেও নানা উক্তি রয়েছে। কোন কোন তাফসীরকার ادَّارَكَ শব্দের অর্থ নিয়েছেন تكامل অর্থাৎ পরিপূর্ণ হওয়া এবং (فِي الْآخِرَةِ) কে ادَّارَكَ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত করে আয়াতের অর্থ এই সাব্যস্ত করেছেন যে, আখেরাতে এ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। কেননা, তখন প্রত্যেক বস্তুর স্বরূপ পরিস্ফুট হয়ে সামনে এসে যাবে। তবে তখনকার জ্ঞান তাদের কোন কাজে লাগবে না। কারণ, দুনিয়াতে তারা আখেরাতকে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করত। তখন পরবর্তী বাক্য “তারা তো এ বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে, বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ” এর দ্বারা দুনিয়ার বর্তমান অবস্থা বুঝানো উদ্দেশ্য হবে। অৰ্থাৎ একই আয়াতের প্রথমাংশ আখেরাতের সাথে আর বাকী অংশ দুনিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

আবার কেউ কেউ ‘আখেরাতে তাদের জ্ঞান পরিপূর্ণ হওয়া’ কথাটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অস্বীকারের সুরে এবং উপহাস হিসেবে নিয়েছেন। অর্থাৎ আখেরাত সম্পর্কে তাদের জ্ঞান কি পরিপূর্ণতা লাভ করেছে যে, তারা এতো বেপরোয়া হয়ে গেছে? পরবর্তী আয়াতাংশ ‘তারা তো এ বিষয়ে সন্দেহে রয়েছে, বরং এ বিষয়ে তারা অন্ধ’ এর দ্বারা উপরোক্ত অর্থের জোরালো সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে। (দেখুন, কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর) কোন কোন তাফসীরকারের মতে, ادَّارَكَ শব্দের অর্থ ضَلَّ ও غٰابَ এবং (فِي الْآخِرَةِ) শব্দটি عِلْمُهُمْ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ আখেরাতের ব্যাপারে তাদের জ্ঞান উধাও হয়ে গেছে। তারা একে বুঝতে পারেনি। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

(২) عَمُون শব্দটি عم শব্দের বহুবচন। এটা অন্তরের অন্ধত্বকে বুঝায়। অর্থাৎ তারা অন্তদৃষ্টির অভাবে কোন দলীল-প্রমাণই প্রত্যক্ষ করছে না। তারা যেন অন্ধই থেকে যাবে। তাদের কাছে কোন দলীল-প্রমাণই কাজে আসবে না। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৬) বরং পরলোক সম্পর্কে তো ওদের জ্ঞান নিঃশেষ হয়েছে;(1) বরং ওরা তো এ বিষয়ে সন্দিগ্ধ, বরং এ বিষয়ে ওরা অন্ধ। (2)

(1) অর্থাৎ, তাদের জ্ঞান পরলোক কখন হবে তা জানতেও অক্ষম। বা তাদের জ্ঞান আখেরাতের ব্যাপারে অন্যদের সমান। যেমন নবী (সাঃ) জিবরীলের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলেছিলেন যে, জিজ্ঞাসিত ব্যক্তি জিজ্ঞাসক অপেক্ষা বেশী জানে না। অথবা এর অর্থ এই যে, তাদের কিয়ামত সম্পর্কিত জ্ঞান পূর্ণ হয়ে গেছে। কারণ তারা কিয়ামতের ব্যাপারে কৃত ওয়াদা নিজ চোখে দেখে নিয়েছে; যদিও এ জ্ঞান তাদের কোন উপকার দেবে না। কারণ পৃথিবীতে তারা তাকে মিথ্যাজ্ঞান করত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন,{أَسْمِعْ بِهِمْ وَأَبْصِرْ يَوْمَ يَأْتُونَنَا لَكِنِ الظَّالِمُونَ الْيَوْمَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ}  অর্থাৎ, তারা যেদিন আমার নিকট আসবে সেদিন তারা কত স্পষ্ট শুনবে ও দেখবে! কিন্তু সীমালংঘনকারীগণ আজ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে। (সূরা মারয়্যাম ৩৮ আয়াত)

(2) অর্থাৎ, পৃথিবীতে আখেরাত সম্বন্ধে সন্দেহ পোষণ করে; বরং তারা অন্ধ। যেহেতু জ্ঞান ও বুদ্ধি-ভ্রষ্টতার কারণে তারা আখেরাতের বিশ্বাস হতে বঞ্চিত।