وَلَقَدۡ أَرۡسَلۡنَآ إِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمۡ صَٰلِحًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ فَإِذَا هُمۡ فَرِيقَانِ يَخۡتَصِمُونَ

ওয়া লাকাদ আরছালনাইলা-ছামূদা আখা-হুম সা-লিহান আনি‘বুদুল্লা-হা-ফাইযা-হুম ফারীক-নি ইয়াখতাসিমূন।উচ্চারণ

আর আমি ৫৭ সামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে (এ পয়গাম সহকারে) পাঠালাম যে, আল্লাহর বন্দেগী করো এমন সময় সহসা তারা দু’টি বিবদমান দলে বিভক্ত হয়ে গেলো। ৫৮ তাফহীমুল কুরআন

আমি ছামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে বার্তা দিয়ে পাঠালাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর। #%২৬%# অমনি তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে পরস্পরে বিতর্কে লিপ্ত হল।মুফতী তাকী উসমানী

আমি ছামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। কিন্তু তারা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল।মুজিবুর রহমান

আমি সামুদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে এই মর্মে প্রেরণ করেছি যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর। অতঃপর তারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে প্রবৃত্ত হল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহ্কে পাঠিয়েছিলাম এই আদেশসহ : ‘তোমরা আল্লাহ্ র ‘ইবাদত কর’, কিন্তু এরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর অবশ্যই আমি সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর। অতঃপর তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে বিতর্ক করছিল।আল-বায়ান

আমি সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালিহকে পাঠিয়েছিলাম (এই আদেশ দিয়ে যে) তোমরা আল্লাহর ‘ইবাদাত কর। অতঃপর তারা দু’ভাগ হয়ে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ল।তাইসিরুল

আর আমরা অবশ্যই ছামূদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালিহ্‌কে পাঠিয়েছিলাম এই বলে -- "তোমরা আল্লাহ্‌র এবাদত কর।" কিন্তু দেখো! তারা দুই দল হয়ে গেল -- পরস্পরে বিবাদ করতে লাগল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৭

তুলনামূলক অধ্যয়নের জন্য সূরা আল আ’রাফের ৭৩ থেকে ৭৯, হূদের ৬১ থেকে ৬৮, আশ্ শু’আরার ৪১ থেকে ৫৯, আল কামারের ২৩ থেকে ৩২ এবং আশ্ শামসের ১১ থেকে ১৫ আয়াত পড়ুন।

৫৮

অর্থাৎ সালেহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত শুরু হবার সাথে সাথেই তাঁর জাতি দু’টি দলে বিভক্ত হয়ে গেলো। একটি দল মু’মিনদের এবং অন্যটি অস্বীকারকারীদের। এ বিভক্তির সাথে সাথেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতও শুরু হয়ে গেলো। যেমন কুরআন মজীদে বলা হয়েছেঃ

قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِنْ قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ صَالِحًا مُرْسَلٌ مِنْ رَبِّهِ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلَ بِهِ مُؤْمِنُونَ - قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا بِالَّذِي آمَنْتُمْ بِهِ كَافِرُونَ

“তার জাতির শ্রেষ্ঠত্বের গর্বে গর্বিত সরদাররা দলিত ও নিষ্পেষিত জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে বললো, সত্যই কি তোমরা জানো, সালেহ তাঁর রবের পক্ষ থেকে পাঠানো একজন নবী? তারা জবাব দিল, তাঁকে যে জিনিস সহকারে পাঠানো হয়েছে আমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান রাখি। এ অহংকারীরা বললো, তোমরা যে জিনিসের প্রতি ঈমান এনেছো আমরা তা মানি না।” (আ’রাফ ৭৫-৭৬ আয়াত)

মনে রাখতে হবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের সাথে সাথে মক্কায়ও এ একই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। তখনও জাতি দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছিল এবং সাথে সাথেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত শুরু হয়ে গিয়েছিল। তাই যে অবস্থার প্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছিল তার সাথে এ কাহিনী আপনা থেকেই খাপ খেয়ে যাচ্ছিল।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

ছামুদ জাতি ও হযরত সালেহ আলাইহিস সালামের বৃত্তান্ত পূর্বে সূরা আরাফ (৭ : ৭২) ও সূরা হুদ (১১ : ৬১-৬৮)-এ চলে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৫. আর অবশ্যই আমরা সামূদ সম্প্রদায়ের কাছে তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম। এ আদেশসহ যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর(১), এতে তারা দু’দলে বিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল।(২)

(১) তুলনামূলক অধ্যায়নের জন্য সূরা আল-আ’রাফের ৭৩ থেকে ৭৯, হূদের ৬১ থেকে ৬৮. আশ শু'আরার ৪১ থেকে ৫৯, আল-কামারের ২৩ থেকে ৩২ এবং আশ-শামসের ১১ থেকে ১৫ আয়াত পড়ুন।

(২) অর্থাৎ সালেহ আলাইহিস সালামের দাওয়াত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তার জাতি দুটি দলে বিভক্ত হয়ে গেলো। একটি দল মুমিনদের এবং অন্যটি অস্বীকারকারীদের এ বিভক্তির সাথে সাথেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাতও শুরু হয়ে গেলো। (ইবন কাসীর) যেমন কুরআন মাজীদে বলা হয়েছেঃ ‘তার জাতির শ্রেষ্ঠত্বের গর্বে গর্বিত সরদাররা দলিত ও নিষ্পেষিত জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে বললো, সত্যই কি তোমরা জানো, সালেহ তার রবের পক্ষ থেকে পাঠানো একজন নবী? তারা জবাব দিল, তাকে যে জিনিস সহকারে পাঠানো হয়েছে আমরা অবশ্যই তার প্রতি ঈমান রাখি। এ অহংকারীরা বললো, তোমরা যে জিনিসের প্রতি ঈমান এনেছো আমরা তা মানি না।” (সূরা আল-আরাফঃ ৭৫–৭৬) মনে রাখতে হবে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আবির্ভাবের সাথে সাথে মক্কায়ও এ একই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। তখনও জাতি দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছিল।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৫) আমি অবশ্যই সামূদ সম্প্রদায়ের নিকট তাদের ভাই সালেহকে পাঠিয়েছিলাম, এ আদেশসহ যে, তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর। কিন্তু ওরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে বিতর্কে লিপ্ত হল। (1)

(1) এ থেকে মু’মিন ও কাফের উভয়কে বুঝানো হয়েছে। আর বিতর্কের অর্থ, প্রত্যেক দলের দাবী যে তারাই সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।