ক-লা ইয়াআইয়ুহাল মালাউ আইয়ুকুম ইয়া’তীনী বি‘আরশিহা-কাবলা আইঁ ইয়া’তূনী মুছলিমীন।উচ্চারণ
সুলাইমান বললো, ৪৩ “হে সভাসদগণ! তারা অনুগত হয়ে আমার কাছে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসতে পারে?” ৪৪ তাফহীমুল কুরআন
সুলাইমান বলল, ওহে দরবারীগণ! কে আছে তোমাদের মধ্যে, যে তারা বশ্যতা স্বীকার করে আসার আগেই আমার কাছে তার সিংহাসন নিয়ে আসবে? #%১৭%#মুফতী তাকী উসমানী
সুলাইমান আরও বললঃ হে আমার পরিষদবর্গ! তারা আমার নিকট এসে আত্মসমর্পন করার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে?মুজিবুর রহমান
সুলায়মান বললেন, হে পরিষদবর্গ, তারা আত্নসমর্পণ করে আমার কাছে আসার পূর্বে কে বিলকীসের সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সুলায়মান আরো বলল, ‘হে আমার পারিষদবর্গ! তারা আত্মসমর্পণ করে আমার নিকট আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে ?’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সুলাইমান বলল, ‘হে পারিষদবর্গ, তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার (রাণীর) সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসতে পারবে’?আল-বায়ান
সুলাইমান বলল- ‘হে সভাসদবর্গ! তারা আমার কাছে আত্মসমর্পণ করে আসার আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার নিকট নিয়ে আসবে?’তাইসিরুল
তিনি বললেন -- "ওহে প্রধানগণ! তোমাদের মধ্যে কে আমার কাছে নিয়ে আসবে তার সিংহাসন আমার কাছে মুসলিমরূপে তাদের আসবার পূর্বে?"মাওলানা জহুরুল হক
৪৩
মাঝখানের ঘটনা উহ্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সাবার রাণীর দূত তার উপঢৌকন ফেরত নিয়ে দেশে পৌঁছে গেল এবং যা কিছু সে শুনেছিল ও দেখেছিল সব আনুপূর্বিক বর্ণনা করলো। রাণী তার কাছ থেকে হযরত সুলাইমান (আ) সম্পর্কে যা শুনলেন তা থেকে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, তাঁর সাথে সাক্ষাত করার জন্য তিনি নিজেই বাইতুল মাকদিসে যাবেন। কাজেই তিনি রাজকীয় জৌলুশ ও সাজ-সরঞ্জাম সহকারে ফিলিস্তিনের পথে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং হযরত সুলাইমানের দরবারে খবর পাঠালেন এই বলেঃ আপনার দাওয়াত আপনার মুখে শুনার এবং সরাসরি আপনার সাথে আলোচনা করার জন্য আমি নিজেই আসছি। এসব বিস্তারিত ঘটনা বাদ দিয়ে এখন শুধুমাত্র রাণী যখন বাইতুল মাকদিসের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তার মাত্র এক-দু’দিনের পথ বাকি ছিল তখনকার ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে।
৪৪
অর্থাৎ সেই সিংহাসনটি যে সম্পর্কে হুদহুদ পাখি বলেছিল যে, “তাঁর সিংহাসনটি বড়ই জমকালো।” কোন কোন মুফাসসির রাণীর আগমনের পূর্বে তাঁর সিংহাসন উঠিয়ে নিয়ে আসার কারণ হিসেবে এরূপ অদ্ভূত উক্তি করেছেন যে, হযরত সুলাইমান এটি দখল করে নিতে চাচ্ছিলেন এবং তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, রাণী যদি ইসলাম গ্রহণ করে বসেন, তাহলে তাঁর সম্পদ তাঁর ইচ্ছা ও সন্তুষ্টি ছাড়া দখল করা হারাম হয়ে যাবে। তাই তিনি তাঁর আসার আগেই সাত তাড়াতাড়ি তাঁর সিংহাসনটি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন। আসতাগ্ ফিরুল্লাহ্ একজন নবীর নিয়ত সম্পর্কে এরূপ ধারণা করা বড়ই বিস্ময়কর মনে হয়। একথা মনে করা হয় না কেন যে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম ইসলাম প্রচারের সাথে সাথে রাণী ও তার সভাসদদেরকে একটি মু’জিযাও দেখাতে চাচ্ছিলেন? এভাবে তারা জানতে পারতো, আল্লাহ রব্বুল আলামীন তাঁর নবীদেরকে কেমন সব অস্বাভাবিক শক্তি দান করেন এবং এভাবে তারা নিশ্চিত বিশ্বাস করতে পারতো যে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যথার্থই আল্লাহর নবী। কোন কোন আধুনিক তাফসীরকার এর চেয়েও মারাত্মক অশালীন ও অনাকাংখিত কথা বলেছেন। তারা আয়াতের তরজমা এভাবে করেছেনঃ “তোমাদের মধ্য থেকে কে আমাকে রাণীর জন্য একটি সিংহাসন এনে দেবে?” অথচ কুরআন يَأْتِينِي بِعَرْشِ لها নয় বরং بِعَرْشِهَا বলছে। এর অর্থ হচ্ছে, “তার সিংহাসন, তার জন্য একটি সিংহাসন নয়। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যেহেতু রাণীরই সিংহাসন ইয়ামন থেকে উঠিয়ে বাইতুল মাকদিসে নিয়ে আসতে চাচ্ছিলেন এবং তাও আবার রাণীর এসে পড়ার আগেভাগেই, শুধুমাত্র এ কারণে এ ধরণের মনগড়া কথা তৈরি করা হয়েছে আর যে কোনভাবে কুরআনের বর্ণনাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য।
হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম রাণীর সামনে একটা মুজিযা প্রকাশ করতে চাচ্ছিলেন। এজন্য তিনি রাণীর সিংহাসনটিকেই বেছে নেন। রাণী এসে পৌঁছার আগেই যদি তাঁর বিশাল ভারী সিংহাসনটি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে হাজির হয়ে যায়, তবে এক অলৌকিক কাণ্ড হিসেবে তা রাণীকে অবশ্যই প্রভাবিত করবে এবং তাঁর নবুওয়াতের শক্তি ও সত্যতা তাঁর সামনে পরিস্ফুট হয়ে ওঠবে।
৩৮. সুলাইমান বললেন, হে পরিষদবর্গ! তারা আত্মসমর্পণ করে(১) আমার কাছে আসার(২) আগে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসবে?
(১) মূলে مسلمين শব্দ আছে। যার আভিধানিক অর্থ, আত্মসমৰ্থন। এখানে কোন কোন মুফাস্সির আভিধানিক অর্থ হওয়াটাকেই বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন। কেননা, সে তখনো ইসলাম গ্ৰহণ করেনি। সে মূলতঃ আত্মসমৰ্পন করতেই আসছিল। পরবর্তী বিভিন্ন আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, সাবার রাণী সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে আসার পর বিভিন্ন নিদর্শণাবলী দেখার পর ঈমান এনেছিল। তাই এখানে ইসলাম শব্দের আভিধানিক অর্থ গ্রহণই অধিক যুক্তিসম্মত। (দেখুন, মুয়াসসার) তবে এখানে পারিভাষিক অর্থে মুসলিম হয়ে যাওয়ার অর্থও গ্রহণ করা যেতে পারে। কারণ, যদি মুসলিম হয়ে যায় তবে তার সম্পপদের উপর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে না। (দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সা'দী)
(২) সুলাইমান আলাইহিস সালামের কথা ও কর্মকান্ড ও তার প্রতিপত্তি দেখে সাবার রাণীর দূতগণ। হতভম্ব হয়ে প্রত্যাবর্তন করল। সুলাইমান আলাইহিস সালামের যুদ্ধ ঘোষণার কথা শুনিয়ে দিলে সাবার রাণী তার সম্প্রদায়কে বলল, পূর্বেও আমার এই ধারণা ছিল যে, সুলাইমান দুনিয়ার সম্রাটদের ন্যায় কোন সম্রাট নন; বরং তিনি আল্লাহর কাছ থেকে বিশেষ পদমর্যাদাও লাভ করেছেন। আল্লাহর নবীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নামান্তর। এরূপ শক্তি আমাদের নেই। এ কথা বলে সে সুলাইমান আলাইহিস সালামের দরবারে হাযির হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে দিল। সুলাইমান আলাইহিস সালাম সেটা বুঝতে পেরে তার সভাষদদের মধ্যে জানতে চাইলেন যে, কে এমন আছে যে বিলকীসের সিংহাসনটি সে আসার আগেই এখানে আনতে পারে? কারণ, তিনি চাইলেন যে বিলকীস রাজকীয় শক্তি ও শান-শওকতের সাথে একটি নবীসুলভ মু'জিযাও প্রত্যক্ষ করুক। এটা তার ঈমান আনার অধিক সহায়ক হবে। (দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর; সা'দী)
(৩৮) (সুলাইমান) বলল, ‘হে আমার পারিষদবর্গ! তারা আমার নিকট আত্মসমর্পণ করে (মুসলমান হয়ে) আসার পূর্বে তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমাকে এনে দেবে?’ (1)
(1) সুলাইমান (আঃ)-এর উত্তরে রাণী অনুমান করতে পারলেন যে, তিনি সুলাইমানের মুকাবিলা করতে পারবেন না। অতএব তিনি বশ্যতা স্বীকার করে অনুগত হয়ে আসার প্রস্তুতি শুরু করলেন। সুলাইমান (আঃ)ও তাঁর আগমন সংবাদ পেয়ে তাঁকে নিজ নবীসুলভ মু’জিযা (অলৌকিক শক্তি) দেখানোর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন এবং তাঁর পৌঁছনোর পূর্বেই তাঁর সিংহাসন নিজের কাছে আনার ব্যবস্থা করলেন।