وَإِنِّي مُرۡسِلَةٌ إِلَيۡهِم بِهَدِيَّةٖ فَنَاظِرَةُۢ بِمَ يَرۡجِعُ ٱلۡمُرۡسَلُونَ

ওয়া ইন্নী মুরছিলাতুন ইলাইহিম বিহাদিইইয়াতিন ফানা-জিরতুম বিমা ইয়ারজি‘উল মুরছালূন।উচ্চারণ

আমি তাদের কাছে একটি উপঢৌকন পাঠাচ্ছি তারপর দেখছি আমার দূত কি জবাব নিয়ে ফেরে।” তাফহীমুল কুরআন

বরং আমি তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠাব। তারপর দেখব দূতেরা কী উত্তর নিয়ে ফেরে। #%১৬%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি তাদের নিকট উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, দেখি দূতেরা কি বার্তা নিয়ে ফিরে আসে!মুজিবুর রহমান

আমি তাঁর কাছে কিছু উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি প্রেরিত লোকেরা কি জওয়াব আনে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আমি তাদের নিকট উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, দেখি, দূতেরা কী নিয়ে ফিরে আসে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর নিশ্চয় আমি তাদের কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি দূতেরা কী নিয়ে ফিরে আসে’।আল-বায়ান

আমি তাঁর কাছে উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, তারপর দেখি, দূতেরা কী (জবাব) নিয়ে আসে।’তাইসিরুল

আর আমি অবশ্য তাদের কাছে পাঠাতে যাচ্ছি একটি উপহার, তারপর দেখতে চাই দূতরা কী নিয়ে ফেরে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সম্ভবত নবুওয়াতী পত্রের অসামান্য শক্তি বিলকীসের অন্তরে এক অনির্বচনীয় প্রভাব বিস্তার করেছিল। পত্রের এতটা শৌর্য যে কেবল রাজকীয় বলবত্তা থেকে উৎসারিত নয়; বরং এর উৎস অন্য কোথাও, সে রকম কিছু হয়তো তিনি আঁচ করতে পেরেছিলেন। সেই বোধ থেকেই তিনি উপহার-সামগ্রী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। ইচ্ছা পরীক্ষা করে দেখা হযরত সুলাইমান (আ.) তা কবুল করেন কিনা। কবুল করলে বোঝা যাবে তিনি কেবলই একজন রাজা এবং রাজাদের মতোই অর্থ ও ক্ষমতার মোহ দ্বারা তিনি চালিত। সে মতে তার সাথে বোঝা পড়া করার সুযোগ থাকবে। পক্ষান্তরে তিনি যদি তা প্রত্যাখ্যান করেন, তবে বুঝতে হবে তিনি পার্থিব লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে এবং কোন ঐশ্বরিক যোগাযোগ তার মধ্যে ক্রিয়াশীল। সে ক্ষেত্রে বোঝা পড়ার চিন্তা ত্যাগ করে নিঃশর্ত আনুগত্য প্রকাশই হবে সুবুদ্ধির পরিচায়ক। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৫. আর আমি তো তাদের নিকট উপঢৌকন পাঠাচ্ছি, দেখি, দূতেরা কী নিয়ে ফিরে আসে।(১)

(১) বিলকীস সুলাইমান আলাইহিস সালামকে পরীক্ষা করার মনস্থ করলেন। তিনি কি নবী নাকি আধিপত্যবাদী অর্থালিপ্সু কোন অত্যাচারী শাসক। তিনি আল্লাহর নির্দেশ পালনকে বেশী গুরুত্ব দেন নাকি আধিপত্য বিস্তারের গুরুত্ব তার কাছে বেশী। এই পরীক্ষা দ্বারা বিলকিসের লক্ষ্য ছিল এই যে, বাস্তবিকই তিনি নবী হলে তার আদেশ পালন করা হবে এবং বিরোধিতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না। পক্ষান্তরে যদি তিনি আধিপত্যবাদের নেশায় আমাদেরকে দাসে পরিণত করতে চান, তবে তার মোকাবেল কিভাবে করা হবে, সে সম্পর্কে চিন্তা করা হবে। (দেখুন: ইবন কাসীর)

এ পরীক্ষার জন্য তিনি সুলাইমান ও তার সভাষদদের জন্য কিছু উপঢৌকন পাঠালেন। যদি তিনি উপঢৌকন পেয়ে সন্তুষ্ট হয়ে যান, তবে বোঝা যাবে যে, তিনি একজন সম্রাটই। পক্ষান্তরে তিনি নবী হলে ইসলাম ও ঈমান ব্যতীত কোন কিছুতেই সন্তুষ্ট হবেন না। (কুরতুবী; ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৫) আমি তার নিকট উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি, দূতেরা কি উত্তর আনে।’ (1)

(1) এর দ্বারা অনুমান করা যাবে যে, তিনি পৃথিবীর নিছক কোন রাজা-বাদশা, নাকি আল্লাহর প্রেরিত রসূল। যাঁর উদ্দেশ্য আল্লাহর দ্বীনের বিজয়। পক্ষান্তরে যদি উপহার গ্রহণ না করেন, তাহলে নিঃসন্দেহে তাঁর উদ্দেশ্য দ্বীনের প্রচার-প্রসার। তখন আমাদের তাঁর অনুসরণ করা ছাড়া অন্য উপায় থাকবে না।