আল্লা-ইয়াছজুদূলিল্লা-হিল্লাযী ইউখরিজুলখাবআফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ালআরদি ওয়া ইয়া‘লামুমা-তুখফূনা ওয়ামা-তু‘লিনূন(ছিজদাহ-৮)।উচ্চারণ
(শয়তান তাদেরকে বিপথগামী করেছে এজন্য) যাতে তারা সেই আল্লাহকে সিজদা না করে যিনি আকাশ ও পৃথিবীর গোপন জিনিসসমূহ বের করেন ৩৩ এবং সেসব কিছু জানেন যা তোমরা গোপন করো ও প্রকাশ করো। ৩৪ তাফহীমুল কুরআন
(সে তাদেরকে নিবৃত্ত রেখেছে), যাতে তারা সিজদা না করে আল্লাহকে, যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়াবলী প্রকাশ করেন এবং তোমরা যা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর সবই জানেন।মুফতী তাকী উসমানী
তারা নিবৃত্ত রয়েছে আল্লাহকে সাজদাহ করা হতে, যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর লুকায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, এবং যিনি জানেন যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা প্রকাশ কর।মুজিবুর রহমান
তারা আল্লাহকে সেজদা করে না কেন, যিনি নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের গোপন বস্তু প্রকাশ করেন এবং জানেন যা তোমরা গোপন কর ও যা প্রকাশ কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘নিবৃত্ত করেছে এইজন্যে যে, এরা যেন সিজ্দা না করে আল্লাহ্কে যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন, যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা ব্যক্ত কর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাতে তারা আল্লাহকে সিজদা না করে, যিনি আসমান ও যমীনের লুকায়িত বস্তুকে বের করেন। আর তোমরা যা গোপন কর এবং তোমরা যা প্রকাশ কর তিনি সবই জানেন।আল-বায়ান
(শয়ত্বান বাধা দিয়ে রেখেছে) যাতে তারা আল্লাহকে সেজদা না করে যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর লুক্কায়িত বস্তুকে প্রকাশ করেন, যিনি জানেন তোমরা যা গোপন কর আর তোমরা যা প্রকাশ কর।তাইসিরুল
"তাইতো তারা আল্লাহ্কে সিজদা করে না যিনি মহাকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বিষয়বস্তু প্রকাশ করে দেন, আর যিনি জানেন যা তোমরা লুকিয়ে রাখ এবং যা প্রকাশ কর।মাওলানা জহুরুল হক
৩৩
যিনি প্রতি মুহূর্তে এমন সব জিনিসের উদ্ভব ঘটাচ্ছেন যেগুলো জন্মের পূর্বে কোথায় কোথায় লুকিয়ে ছিল কেউ জানে না। ভূ-গর্ভ থেকে প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য উদ্ভিদ এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ বের করছেন। ঊর্ধ্ব জগত থেকে প্রতিনিয়ত এমন সব জিনিসের আর্বিভাব ঘটাচ্ছেন, যার আর্বিভাব না ঘটলে মানুষের ধারণা ও কল্পনায়ও কোনদিন আসতে পারতো না।
৩৪
অর্থাৎ সকল জিনিসই তাঁর জ্ঞানের আওতাধীন। তাঁর কাছে গোপন ও প্রকাশ্য সব সমান। সবকিছুই তার সামনে সমুজ্জ্বল ও উন্মুক্ত।
নমুনা হিসেবে মহান আল্লাহর এ দু’টি গুণ বর্ণনা করার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে এমন বুঝিয়ে দেয়া যে, যদি তারা শয়তানের প্রতারণার জালে আবদ্ধ না হতো তাহলে এ সোজা পথটি পরিষ্কার দেখতে পেতো যে, সূর্য নামের একটি জ্বলন্ত জড় পদার্থ, যার নিজের অস্তিত্ব সম্পর্কেই কোন অনুভূতি নেই, সে কোন ইবাদাতের হকদার নয় বরং একমাত্র সর্বজ্ঞ ও সর্বদর্শী মহান সত্তা যাঁর অসীম শক্তি প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন অভাবনীয় কৃর্তির উদ্ভব ঘটাচ্ছেন, তিনিই এর হকদার।
২৫. নিবৃত্ত করেছে এ জন্যে যে, তারা যেন সিজদা না করে আল্লাহকে, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের লুক্কায়িত বস্তুকে বের করেন।(১) আর যিনি জানেন, যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা ব্যক্ত কর।
(১) যিনি প্রতিমুহূর্তে এমন সব জিনিসের উদ্ভব ঘটাচ্ছেন যেগুলো জন্মের পূর্বে কোথায় কোথায় লুকিয়ে ছিল কেউ জানে না। ভূ-গর্ভ থেকে প্রতি মুহুর্তে অসংখ্য উদ্ভিদ, বিভিন্ন ধরনের রিযিক এবং নানা ধরনের খনিজ পদার্থ বের করছেন। উর্ধ্ব জগত থেকে প্রতিনিয়ত এমন সব জিনিসের আর্বিভাব ঘটাচ্ছেন, যার আবির্ভাব না ঘটলে মানুষের ধারণা ও কল্পনায়ও কোনদিন আসতে পারতো না। যেমন বৃষ্টির পানি। (দেখুন: ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(২৫) (সুশোভন করেছে এই জন্য যে,) যাতে ওরা আল্লাহকে সিজদা না করে, (1) যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর গুপ্ত বস্তুকে প্রকাশ করেন,(2) যিনি জানেন, যা তোমরা গোপন কর এবং যা তোমরা ব্যক্ত কর।
(1) أَلاَّ يَسجُدُوا (যাতে ওরা সিজদা না করে) এর সম্পর্কও زَيَّن (সুশোভন করেছে) ক্রিয়ার সঙ্গে। অর্থাৎ শয়তান তাদের সামনে এটিও সুশোভন করেছিল যে, যেন তারা আল্লাহকে সিজদা না করে। অথবা أَلاَّ يَسجُدُوا টি لاَ يَهتَدُون ক্রিয়ার কর্মকারক এবং لاَ অতিরিক্ত। অর্থাৎ তাদের একথা বুঝে আসে না যে, সিজদা কেবলমাত্র আল্লাহকে করা উচিত। (ফাতহুল কাদীর)
(2) আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাটি হতে তার গুপ্ত বস্তু; গাছ-পালা, খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য জিনিস প্রকাশ করেন। خَبء মাসদার (ক্রিয়ামূল) যা مَخبُوء মাফঊল (কর্মকারক) এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে।