فَمَكَثَ غَيۡرَ بَعِيدٖ فَقَالَ أَحَطتُ بِمَا لَمۡ تُحِطۡ بِهِۦ وَجِئۡتُكَ مِن سَبَإِۭ بِنَبَإٖ يَقِينٍ

ফামাকাছা গাইর বা‘ঈদিন ফাক-লা আহাততুবিমা-লামতুহিত বিহী ওয়াজি’তুকা মিন ছাবাইম বিনাবাইঁ ইয়াকীন।উচ্চারণ

কিছুক্ষণ অতিবাহিত না হতেই সে এসে বললো, “আমি এমন সব তথ্য লাভ করেছি যা আপনি জানেন না। আমি সাবা সম্পর্কে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি। ২৯ তাফহীমুল কুরআন

তারপর হুদহুদ বেশি দেরি করল না এবং (এসে) বলল, আমি এমন বিষয় জেনেছি, যা আপনার জানা নেই। আমি আপনার কাছে সাবা দেশ থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি। #%১৩%#মুফতী তাকী উসমানী

অনতি বিলম্বে হুদহুদ এসে পড়ল এবং বললঃ আপনি যা অবগত নন আমি তা অবগত হয়েছি এবং ‘সাবা’ হতে সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।মুজিবুর রহমান

কিছুক্ষণ পড়েই হুদ এসে বলল, আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি। আমি আপনার কাছে সাবা থেকে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে আগমন করেছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

অনতিবিলম্বে হুদ্হুদ্ এসে পড়ল এবং বলল, ‘আপনি যা অবগত নন আমি তা অবগত হয়েছি এবং ‘সাবা’ হতে সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারপর অনতিবিলম্বে হুদহুদ এসে বলল, ‘আমি যা অবগত হয়েছি আপনি তা অবগত নন, আমি সাবা থেকে আপনার জন্য নিশ্চিত খবর নিয়ে এসেছি’।আল-বায়ান

অতঃপর হুদহুদ অবিলম্বে এসে বলল- ‘আমি যা অবগত হয়েছি আপনি তা অবগত নন, আমি সাবা থেকে নিশ্চিত খবর নিয়ে আপনার কাছে এসেছি।তাইসিরুল

তারপর তিনি অনতিবিলন্বকাল অপেক্ষা করলেন তখন সে বললে, "আমি তার খোঁজ পেয়েছি যে-সন্বন্ধে আপনি অবগত নন, আর আমি সাবা’ থেকে আপনার কাছে আসছি সঠিক বার্তা নিয়ে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৯

সাবা ছিল আরবের দক্ষিণ এলাকার একটি বিখ্যাত ব্যবসাজীবী জাতি। তাদের রাজধানী মারিব বর্তমান ইয়ামনের রাজধানী সান্আ থেকে ৫৫ মাইল উত্তরপূর্বে অবস্থিত ছিল। তাঁর উত্থানের যুগ মাঈনের রাষ্ট্রের পতনের পর প্রায় খৃস্টপূর্ব ১১০০ অব্দে শুরু হয়। এরপর থেকে প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত। আরব দেশে তাদের দোর্দণ্ড প্রতাপ অব্যাহত থাকে। তারপর ১১৫ খৃস্টপূর্বাব্দে দক্ষিণ আরবের দ্বিতীয় খ্যাতিমান জাতি হিময়ার তাদের স্থান দখল করে। আরবে ইয়ামন ও হাদরামউত এবং আফ্রিকায় হাবশা (ইথিয়োপিয়া) পর্যন্ত তাদের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল। পূর্ব আফ্রিকা, হিন্দুস্থান, দূর প্রাচ্য এবং আরবের যত বাণিজ্য মিসর, সিরিয়া গ্রীস ও ইতালীর হতো তার বেশীর ভাগ ছিল এ সাবায়ীদের হাতে। এজন্য এ জাতিটি প্রাচীনকালে নিজের নিজের ধনাঢ্যতা ও সম্পদশালীতার জন্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ লাভ করেছিল। বরং গ্রীকঐতিহাসিকরা তো তাদেরকে দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী জাতি বলে উলেখ করেছেন। ব্যবসায় ছাড়া তাদের সমৃদ্ধির বড় কারণটি ছিল এই যে, তারা দেশের জায়গায় জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করে পানি সেচের উন্নততর ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। ফলে তাদের সমগ্র এলাকা সবুজ শ্যামল উদ্যানে পরিণত হয়েছিল। তাদের দেশের এ অস্বাভাবিক শস্য শ্যামলিমার কথা গ্রীক ঐতিহাসিকরাও উল্লেখ করেছেন এবং কুরআন মজীদেও সূরা সাবায় এদিকে ইঙ্গিত করেছে।

হুদহুদের একথা, “আমি এমন তথ্য সংগ্রহ করেছি যা আপনি জানেন না” বলার অর্থ এ নয় যে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম সাবার ব্যাপারে কিছুই জানতেন না। একথা সুস্পষ্ট ফিলিস্তিন ও সিরিয়ার যে শাসকের রাজ্য লোহিত সাগরের দক্ষিণ কিনারে (ইয়ামন) বসবাসরত এমন একটি জাতি সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ থাকতে পারেন না যারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিয়ন্ত্রণ করতো। তাছাড়া যাবুর থেকে জানা যায়, হযরত সুলাইমানেরও পূর্বে তাঁর মহান পিতা হযরত দাউদ (আ) সাবা সম্পর্কে জানতেন। যাবুরে আমরা তাঁর দোয়ার এ শব্দগুলো পাইঃ

“হে ইশ্বর, তুমি রাজাকে (অর্থাৎ স্বয়ং হযরত দাউদকে) আপনার শাসন, রাজপুত্রকে (অর্থাৎ সুলাইমানকে) তোমার ধর্মশীলতা প্রদান কর.................। তর্শীশ ও দ্বীপগণের রাজগণ নৈবেদ্য আনিবেন। শিবা (অর্থাৎ সাবার ইয়ামনী ও হাবশী শাখাসমূহ) সাবার রাজগণ উপহার দিবেন।” (গীত সংহিতা ৭২: ১-২, ১০-১১)

তাই হুদহুদের কথার অর্থ মনে হয় এই যে, সাবা জাতির কেন্দ্রস্থলে আমি স্বচক্ষে যা দেখে এসেছি তার কোন খবর এখনো পর্যন্ত আপনার কাছে পৌঁছেনি।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সাবা একটি জাতির নাম। ইয়ামানের একটি অঞ্চলে তারা বসবাস করত। সেই জাতির নাম অনুসারে অঞ্চলটিকেও সাবা বলা হত। হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালামের রাজত্বকালে এক রাণী সে দেশ শাসন করত। ঐতিহাসিক বর্ণনাসমূহে তার নাম বলা হয়েছে, ‘বিলকীস’।

তাফসীরে জাকারিয়া

২২. কিছুক্ষণ পরেই হুদাহুদ এসে পড়ল এবং বলল, আপনি যা জ্ঞানে পরিবেষ্টন করতে পারেননি আমি তা পরিবেষ্টন করেছি(১) এবং সাবা(২) হতে সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।

(১) এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, নবী-রাসূলগণ গায়েব জানেন না। তাদেরকে আল্লাহ যতটুকু জ্ঞান দান করেন। তাই শুধু জানতে পারেন। (কুরতুবী)

(২) সাবা ছিল আরবের দক্ষিণ এলাকার একটি বিখ্যাত ব্যবসাজীবী জাতি। তাদের রাজধানী মারিব বর্তমান ইয়ামানের রাজধানী সান’আ থেকে তিন দিনের পথের দূরত্বে (৫৫ মাইল উত্তরপূর্বে) অবস্থিত ছিল। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২২) অনতিবিলম্বে হুদহুদ এসে পড়ল এবং বলল, ‘আপনি যা অবগত নন, আমি তা অবগত হয়েছি(1) এবং সাবা(2) হতে সুনিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি।

(1) إحَاطَة অর্থ  কোন জিনিসের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান ও অবগতি অর্জন করা। লক্ষণীয় যে, পাখীও জানে, নবী গায়ব জানেন না।

(2) ‘সাবা’ এক ব্যক্তির নাম, যা পরে এক জাতি ও এক শহরের নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। এখানে সাবা শহরকে বুঝানো হয়েছে। ইয়ামানের সানআ’ হতে তিন দিনের যাত্রাপথ। যা এখন মা’রাবুল ইয়ামান নামে প্রসিদ্ধ। (ফতহুল কাদীর)